২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

আইন ভাঙ্গার প্রতিযোগিতা

হাছান তৌফিক পারভেজ

‘আইন’ শব্দটি একান্তভাবেই মানুষের জন্য প্রযোজ্য। ‘আইন’ তৈরি করা হয় মূলত মানব সমাজকে নিয়ম, নীতি ও শৃঙ্খলার ভেতর দিয়ে গড়ে ওঠার লক্ষ্যে। আইনহীন সমাজ হয় না বা হতে পারে না। যে সমাজে আইন নেই সেটি মানব সমাজ নয় সেটি ভিন্ন কোন সমাজ। প্রশ্ন উঠতে পারে আইনহীন সমাজ কি ‘সমাজ’ অভিধায় উতরে যেতে পারে বা পারবে? এর এক কথায় জবাব দেয়া যেতে পারে ‘না’। সুতরাং অবশ্যই বলা যায় যে, আইন ও মানব সমাজ একে অপরের সহায়ক পরিপূরক। অর্থাৎ বলা যেতে পারে যে, আইন ব্যতীত মানব সমাজ ভঙ্গুর ও ক্ষণস্থায়ী আবার মানবসমাজ ব্যতীত আইন অস্তিত্বহীন।

এবার আসি ‘ট্রাফিক আইন’-এ। সড়কে যানবাহন চলাচলের প্রেক্ষিতে জনসাধারণের নিরাপত্তার স্বার্থে যে আইন প্রণীত হয় তা-ই হলো ‘ট্রাফিক আইন’। ট্রাফিক আইন একান্তভাবেই সড়কে চলাচলরত যানবাহন ও জনসাধারণের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে রচিত হয়। এতদসত্ত্বেও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন বা উপেক্ষা করার নজির আমরা তথা জনসাধারণ স্থাপন করে চলেছি। এর কারণ কী? আমি মনে করি এর কারণ নিহিত রয়েছে আরও গভীরে। জনসাধারণ কর্তৃক ট্রাফিক আইন উপেক্ষা করার কারণ আমার মতে নিম্নরূপ হতে পারে-

ক. উপযুক্ত শিক্ষার অভাব।

খ. সচেতনতার অভাব।

গ. নাগরিকতা সম্বন্ধে জ্ঞানের অভাব।

ঘ. দায়-দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের তথা বোধজ্ঞানের অভাব।

ঙ. তুলনামূলক বিচার বোধের অভাব।

চ. সহনশীলতার অভাব এবং

ছ. ‘ট্রাফিক আইন’ সম্বন্ধে অজ্ঞতা ইত্যাদি ইত্যাদি।

এবার আসি আইন প্রয়োগকারী কর্তৃক ‘ট্রাফিক আইন’ লঙ্ঘনের কারণ অনুসন্ধানে। আমার মতে কারণসমূহ নিম্নরূপ হতে পারেÑ

ক. ক্ষমতার দাপট দেখানো।

খ. আইনকে নিজেদের অধীন ভাবা।

গ. নিজেদেরকে আইনের উর্ধে ভাবা।

ঘ. জনসাধারণকে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করা বা ভাবা।

উভয়ক্ষেত্রে প্রতিকার হতে পারে

১। জনসাধারণকে ধীরে ধীরে আইন মানতে ও আইন জানতে বাধ্য করে তুলতে হবে।

২। জনসাধারণকে সচেতন করে তুলতে হবে।

৩। জনসাধারণের নাগরিকতা সম্বন্ধে জ্ঞানের অভাব দূর করার কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

৪। জনসাধারণের দায়-দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের প্রতি বোধজ্ঞানের অভাব দূর করার কার্যক্রম শুরু করতে হবে।

অনুরূপভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই জনসাধারণকে মোটিভেশনের মাধ্যমে (তথা টেলিভিশন, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের মধ্য দিয়ে) সচেতন তথা ‘শিক্ষিত’ করে তুলতে হবে সরকারের নিজ খরচে।

আইন প্রয়োগকারীর ক্ষেত্রে :

ক। আইন প্রয়োগকারী কর্তৃক আইন লঙ্ঘন করলে যথাযথ তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

খ। আইন প্রয়োগকারী যে সব সদস্য নিজেদেরকে আইনের উর্ধে ভাবেন তাদের ক্ষেত্রে ত্বরিত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

গ। জনসাধারণকে কোনভাবেই তুচ্ছতাচ্ছিল্য না ভাবার নীতিমূলক আইন প্রণয়ন করতে হবে।

এবার আসি বাস ও অন্যান্য ড্রাইভারদের নানা অনিয়ম প্রসঙ্গে-

ক। যেখানে সেখানে যানবাহন থামিয়ে যাত্রী ওঠানো নামানো করা।

খ। চলাচলরত যানবাহনের মধ্যে পাল্লা দিয়ে গাড়ি চালানো।

গ। অপ্রয়োজনে হর্ন বাজানো।

ঘ। যাত্রীদের কাছে থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা।

ঙ। রং সাইড দিয়ে বাম দিক দিয়ে ওভারটেক করে গাড়ি চালানো।

চ। ট্রাফিক সিগন্যাল না মানা।

ছ। তীব্র হর্ন বাজিয়ে মোটর সাইকেল নিয়ে ফুটপাথে উঠে পড়া ইত্যাদি।

এসব অনিয়ম দূরীকরণের উপায়- আমি মনে করি আইনের যথাযথ প্রয়োগ অনিয়ম দূরীকরণের একমাত্র উপায়।

মধ্য মণিপুর, ঢাকা থেকে

এই মাত্রা পাওয়া