২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা-চট্টগ্রাম ফোর লেন

দেশের বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত চট্টগ্রামের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের বিষয়টি যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তা নতুন করে বলার অবকাশ নেই। তবে দুঃখজনক হলেও সত্য যে, চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ কেবল একটি সড়ক ও রেললাইনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। আকাশপথ ব্যয়বহুল বিধায় শেষ পর্যন্ত সব চাপ গিয়ে পড়ে সবেধন নীলমণি রেল ও সড়কপথে। ফলে মাত্রাতিরিক্ত যানবাহনের চাপ পড়ে বিধায় এর দুরবস্থা সহজেই অনুমেয়। এই পথে দুর্বিষহ যানজটের বিষয়টিও সুবিদিত। সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক বিবেচনায় বর্তমান সরকারের আমলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ফোর লেনে উন্নীতকরণের একটি প্রকল্প গৃহীত হয়। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয় ৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকা। ৩ বিদেশী ঠিকাদার শিখো পিবিএল জেভি লিমিটেড, সিনোহাইড্রো কর্পোঃ লিঃ এবং গ্যানন ডানকার্লি এ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড কাজটি পায়। প্রকল্পটির মূল মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছরের ডিসেম্বরে। তবে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক এমন কথা বলা যাবে না। বলাবাহুল্য, ঠিকাদারি ৩টি কোম্পানির গাফিলতির কারণেই প্রকল্পটি যথাসময়ে শেষ হতে পারেনি। অথচ ইতোমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের মেয়াদ ২ দফা বাড়ানো হয়েছে। প্রথম দফায় ২০০৯ সালে ২১৩ কোটি টাকা এবং দ্বিতীয় দফায় ২০১৩ সালে ৮০৮ কোটি টাকা বাড়ানো হয়। সর্বশেষ প্রকল্পটি সমাপ্ত করতে ৩য় দফা ৬২৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা সংশোধনী প্রস্তাব সড়ক ও জনপথ অধিদফতর (সওজ) থেকে প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। দুই দফা বড় অঙ্কের ব্যয় বাড়ানোর কারণে তৃতীয় দফায় ব্যয় বাড়াতে পরিকল্পনা কমিশন গড়িমসি করলেও শেষ পর্যন্ত অনুমোদন দিয়েছে।

এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা-চট্টগ্রাম যোগাযোগ আরও সহজ ও সময় সাশ্রয়ী হবে। দুর্ঘটনা হ্রাসসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখবে। তাই বলে দফায় দফায় মেয়াদ বাড়ানোর নামে আরও অর্থ বরাদ্দের দাবি মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়। এতে একদিকে যেমন প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে জনসাধারণের দুর্ভোগ ওঠে চরমে। নির্দিষ্ট সময় বাস্তবায়ন না হওয়ায় এ প্রকল্পে সরকারকে মূল্য সমর্পণের নামে ১ হাজার ২২৭ কোটি টাকা গুনতে হয়েছে। সেই হিসাবে ৩য় দফা সংশোধনী প্রস্তাবে মূল্য সমন্বয় খাতে ৬২৬ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব নিঃসন্দেহে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে। এর পেছনে দুর্নীতি-অনিয়মের গন্ধও অস্বীকার করা যাবে না কিছুতেই।

অনুরূপ হয়েছে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে প্রকল্পের মেয়াদ। দফায় দফায় বাড়ানো হয়েছে বাড়তি ব্যয়। কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়ন আর শেষ হয় না। অকুস্থলে যানবাহনের জট ও জনদুর্ভোগ উঠেছে চরমে। আসন্ন বৃষ্টি ও বর্ষা মৌসুমে এই এলাকার অবস্থা হয়ে উঠবে আরও দুর্বিষহ। ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধসহ আবাসিকদের দুর্ভোগের সীমা থাকবে না। সরকারে সব প্রকল্পের ক্ষেত্রেই অনুরূপ অব্যবস্থা লক্ষ্য করা যায়। জনদুর্ভোগ লাঘবে এবং সরকারী ব্যয় হ্রাস কল্পে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও অধিদফতরের এসব দিকে নিয়মিত কঠোর নজরদারি আবশ্যক। এতে অনিয়ম-দুর্নীতি হ্রাস পাবে অনেকাংশে।

নির্বাচিত সংবাদ