২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিরোধপূর্ণ দ্বীপে চীনা ক্ষেপণাস্ত্র

  • উডি আইল্যান্ডে বেজিং গড়ে তুলেছে বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা

চীন দক্ষিণ চীন সাগরে এর নিয়ন্ত্রণাধীন বিরোধপূর্ণ দ্বীপগুলোর একটিতে উন্নতমানের ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে। তাইওয়ানী ও মার্কিন কর্মকর্তারা একথা জানান। এতে ঐ অঞ্চলে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাবে, যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা সেখানে সংযম দেখাতে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। খবর গার্ডিয়ান, বিবিসি ও ইয়াহু নিউজের।

১৪ ফেব্রুয়ারি গৃহীত এবং ফক্স নিউজে প্রথম প্রকাশিত ছবিতে প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের উডি আয়ল্যান্ডে আটটি ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারে যুক্ত দুটি ব্যাটারি এবং একটি রাডার দেখা যায়। ভিয়েতনামের পাশাপাশি তাইওয়ানও ঐ দ্বীপের মালিকানা দাবি করে থাকে। চীনা ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ফলে দক্ষিণ চীন সাগর নিয়ে চলমান তিক্ত বিরোধে উত্তেজনার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে। চীন দক্ষিণ চীন সাগরে ব্যাপক ভূমি পুনরুদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এটি বৈধ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যেই করা হচ্ছে বলে চীন দাবি করে থাকে। কিন্তু এ কাজটি ঐ ভূখ- দাবি করছে এমন অন্যান্য দেশকে ক্ষুব্ধ করছে। ঐ অঞ্চলে সমরসজ্জা নিয়েও ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা রয়েছে। এক মার্কিন কর্মকর্তা ক্ষেপণাস্ত্রগুলো দৃশ্যত মোতায়েন হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছেন। ইমেজসেট ইন্টারন্যাশনাল সর্বশেষ ছবিগুলো তুলেছিল।

১৪ ফেব্রুয়ারির এক ছবিতে ঐ সব যন্ত্রপাতির উপস্থিতি দেখা যায়, অথচ ৩ ফেব্রুয়ারির ছবিতে একই এলাকা শূন্য বলে দেখা যায়। এক মার্কিন কর্মকর্তার উদ্বৃতি দিয়ে ফক্স নিউজ জানায়, ছবিতে বিমান বিধ্বংসী এইচকিউ-৯ ক্ষেপণাস্ত্র দেখা যায় এবং এগুলোর পাল্লা প্রায় ১২৫ মাইল এবং সেহেতু এগুলো আশপাশের যে কোন বিমানের প্রতি হুমকির সৃষ্টি করতে পারে।

ঐ ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন প্রসঙ্গে মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতরের মুখপাাত্র বলেন, যদিও আমি গোয়েন্দা সম্পর্কিত বিষয়ে মন্তব্য করতে পারি না, কিন্তু আমরা অবশ্যই ঐসব বিষয়ে কড়া দৃষ্টি রাখছি।

সর্বশেষ ছবিতে উডি আয়ল্যান্ডের উত্তর দিকের উপকূলের সুদৃশ্য এমন সৈকতের একাংশের নিকট দৃশ্য এবং দুটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারি ধরা পড়ে। প্রতিটি ব্যাটারিতে রয়েছে চারটি লঞ্চার ও দুটি কন্ট্রোল ভেহিক্যাল।

তাইওয়ান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ডেভিড লো বলেন, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যাটারিগুলো উডি আয়ল্যান্ডে স্থাপন করা হয়েছে। এ দ্বীপটি প্যারাসেলস দ্বীপপুঞ্জের অংশ। দ্বীপপুঞ্জটি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চীনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু তাইওয়ান ও ভিয়েতনামও এর মালিকানা দাবি করে থাকে।

লো বুধবার বলেন, স্বার্থসংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর দক্ষিণ চীন সাগর অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একযোগে কাজ করা উচিত। তাদের উচিত উত্তেজনা বাড়াবে এমন কোন একতরফা ব্যবস্থা নেয়া থেকে বিরত থাকা। যখন ওবামা এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জাতিসমূহের সমিতি (আসিয়ান) নেতারা ক্যালিফোর্নিয়ায় তাদের এক শীর্ষ সম্মেলন শেষ করেছেন, তখন চীনা ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের ঐ খবর বেরোলো। তারা ঐ অঞ্চলে উত্তেজনা হ্রাস করার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের দাবি প্রতিষ্ঠায় শক্তি দেখানোর বিষয় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। চীন দক্ষিণ চীন সাগরের অধিকাংশের মালিকানা দাবি করছে। দেশটি এর দাবি জোরদার করতে কৃত্রিম দ্বীপগুলোর ওপর রানওয়ে এবং অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি করছে।

মার্কিন নৌবাহিনীর গত মাসে একটি ডেস্ট্রয়ার বিরোধপূর্ণ প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের কাছ দিয়ে চলাচল করে। নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ব্যক্ত করাই ছিল এর উদ্দেশ্য। চীন, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামের ঐ এলাকায় পরস্পর বিরোধী দাবি রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র দ্বীপপুঞ্জগুলোতে সামরিক শক্তি মোতায়েনের বিরোধিতা করে এসেছে।

চীন ওই পদক্ষেপকে খুবই বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করে। দেশটি যুক্তরাষ্ট্রকেই দক্ষিণ চীন সাগরে সমরসজ্জার সবচেয়ে বড় কারণ বলে অভিযুক্ত করে।

ওবামা মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ায় বলেন, নৌ-চলাচলের স্বাধীনতা অবশ্যই সমর্থন করতে হবে এবং আইনসম্মত বাণিজ্যে বাধা দেয়া উচিত নয়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক আইন যেখানেই অনুমতি দেয় সেখানেই যুক্তরাষ্ট্র এর বিমান ও জাহাজ এবং তৎপরতা চালাবে। আমরা অন্যান্য দেশেরও একই কাজ করার স্বাধীনতা সমর্থন করি।

নির্বাচিত সংবাদ