২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চট্টগ্রাম বন্দর এখন গ্রীন পোর্টের তালিকায়

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কঠোর নজরদারির পাশাপাশি দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার ফলে চট্টগ্রাম বন্দর এবং বন্দরের বহির্নোঙ্গর এলাকায় জলদস্যুতার হার শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। অপেক্ষমাণ জাহাজে ছোটখাটো রশি কিংবা মালামাল চুরির ঘটনা ঘটলেও গত কয়েক বছরে ক্যাটাগরি ওয়ান অর্থাৎ কোন বিপজ্জনক ঘটনা ঘটেনি এ অঞ্চলে। যে কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ বন্দরের তালিকা থেকে গ্রিন পোর্টের তালিকায় ফিরে এসেছে চট্টগ্রাম বন্দর।

কয়েক বছর আগেও গভীর বঙ্গোপসাগর এবং বহির্নোঙ্গরে জলদস্যুতার কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ঝুঁকিপূর্ণ বন্দরের তালিকায় প্রথমদিকেই ছিল চট্টগ্রাম বন্দরের নাম। যে কারণে এখানে আসা জাহাজের বীমার পরিমাণও ছিল তুলনামূলক বেশি। ছোট ছোট প্রতিষ্ঠানের জাহাজগুলো কোনভাবে এলেও বিশ্বের নামীদামী প্রতিষ্ঠানের জাহাজগুলো আসত না। কিন্তু এখন পরিস্থিতি অনেকটা পাল্টে গেছে।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন, ‘আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ শ্রীলঙ্কা, করাচী বন্দর, মিয়ানমার বন্দরের থেকে চট্টগ্রাম বন্দর অনেকদূর এগিয়ে গেছে।’

ক্রমাগতভাবে জলদস্যুতা বাড়ার কারণে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম বন্দরকে ঝুঁকিপূর্ণ বন্দরের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। এরপর থেকে বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং কোস্টগার্ডের নানামুখী উদ্যোগে জলদস্যুতার পরিমাণ অনেকটা কমে আসে। কোস্টগার্ড মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল এম মকবুল হোসেন বলেন, ‘আমরা পৃথিবীর ঝুঁকিপূর্ণ বন্দর থেকে বাংলাদেশের নাম কেটে ফেলেছি। আমাদের আর ঝুঁকিপুর্ণ বন্দর বলা হয় না।’

ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১১ সাল থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত বন্দরের বহির্নোঙ্গরে ৫৭টি ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটেছে। তবে ক্যাটাগরির ওয়ান টাইপের কোন ঘটনা ঘটেনি বলে দাবি করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রশাসন ও পরিকল্পনা সদস্য জাফর আলম। গ্রীন পোর্ট হিসেবে পরিচিতি পাওয়ায় এর সুফল হিসেবে গত বছর চট্টগ্রাম বন্দরে এসেছে প্রায় দু’হাজার পণ্যবাহী জাহাজ। আর বন্দর কর্তৃপক্ষ হ্যান্ডলিং করেছে অন্তত ২০ লাখ টিইউএস কন্টেইনার।