২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

এটিএম বুথে জালিয়াতি ॥ গোয়েন্দা নজরদারিতে পাঁচ বিদেশী

এটিএম বুথে জালিয়াতি ॥ গোয়েন্দা নজরদারিতে পাঁচ বিদেশী
  • ৩৬ গ্রাহকের ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ॥ এ্যান্টি স্কিমিং ডিভাইস বসানোর নির্দেশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

রহিম শেখ ॥ এটিএম বুথে ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসিয়ে প্রায় সাড়ে ১২শ’ গ্রাহকের ডেবিট কার্ডের গোপন তথ্য চুরি করেছে জালিয়াত চক্র। এর মধ্যে মাত্র ৩৬ জন গ্রাহকের হিসাব থেকে হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা। সে হিসেবেই বলা যায়, অল্পতেই রক্ষা পেল গোটা ব্যাংকিং খাত। কেননা, সাড়ে ১২শ’ গ্রাহকের ডেবিট কার্ডের গোপন তথ্যের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সম্ভব ছিল বলে মনে করে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত দল। এদিকে এ ঘটনায় ভিসা ও মাস্টার কার্ডের গ্রাহকরা এখনও বড় ধরনের ঝুঁকিতে রয়েছেন বলে মনে করেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, ডুয়েল কারেন্সি বা ইন্টারন্যাশনাল এসব কার্ড থেকে শুধু দেশের ভেতরেই নয়, দেশের বাইরে থেকেও টাকা উত্তোলন করা যায়। আর ভিসা ও মাস্টার কার্ডধারীদের এ্যাকাউন্টও সমৃদ্ধ হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বিদেশ থেকে টাকা উত্তোলনের বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে এটিএম বুথ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে নেয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচ বিদেশীকে নজরদারির মধ্যে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারী ইস্টার্ন, সিটি, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের চার এটিএম বুথে কার্ডের তথ্য-উপাত্ত বা ডেটা চুরির যন্ত্র ‘স্কিমিং ডিভাইস’ বসানো অবস্থায় ওইসব বুথে ১ হাজার ২৫৫ কার্ডের লেনদেন হয়েছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে ৩৬টি কার্ড ক্লোন করে গ্রাহকের অজান্তে প্রায় ২০ লাখ ৬০ হাজার টাকা তুলে নেয় জালিয়াতি চক্র। এর মধ্যে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের মোট ২৪ বারে ১৭ লাখ ৫৩ হাজার, সিটি ব্যাংকের ৪ বারে ১ লাখ ৪০ হাজার, ইউসিবিএলের ৭ বারে ১ লাখ ২৬ হাজার এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ১ বার লেনদেনে ৪০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত দলের এক কর্মকর্তা জনকণ্ঠকে জানান, চার বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসানো অবস্থায় ১ হাজার ২৫৫টি কার্ডের লেনদেন সম্পন্ন হয়। তাই আমরা আশঙ্কা করছি, এসব কার্ডের গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য বা ডেটা চুরি হয়ে গেছে। এর মধ্যে ৩৬টির মতো কার্ড ক্লোন করে টাকা তুলে নেয়ার তথ্য মিলেছে। কার্ড জালিয়াতি হওয়ার দুই দিনের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক অবহিত হওয়ায় এবং দ্রুত জালিয়াতি প্রতিরোধে ব্যাংকগুলোকে সতর্ক করায় জালিয়াতচক্র জাল হওয়া কার্ডের ১০ শতাংশও ব্যবহার করতে পারেনি। ওই চক্রটি সময় পেলে হয়ত জালিয়াতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারত বলে মনে করেন ওই কর্মকর্তা।

সূত্র বলছে, গত ৬ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে রাজধানীর গুলশান, মিরপুরের কালশী ও বনানী এলাকার ইস্টার্ন, সিটি ও ইউসিবির চার বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে কার্ড জালিয়াতি ও পরবর্তী সময়ে গ্রাহকের অজান্তে টাকা তুলে নেয়ার ঘটনা ঘটে। তবে তা জানাজানি হয় ১২ ফেব্রুয়ারি, শুক্রবার। ওইদিন ইস্টার্ন ব্যাংকের একাধিক গ্রাহক মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমে নিজেদের হিসাব থেকে টাকা তুলে নেয়ার বিষয়টি জেনে ব্যাংকে অভিযোগ করেন। একসঙ্গে বেশ কিছু গ্রাহকের অভিযোগ পেয়ে ব্যাংক তদন্তে নামলে এ জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হয়। কার্ড জালিয়াতির এসব ঘটনায় মামলা করেছে একাধিক ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ অন্তত পাঁচটি গোয়েন্দা সংস্থা বিষয়টি অনুসন্ধান করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্ত দলের হাতে আসা একটি ভিডিও চিত্রে দেখা গেছে, ৭ ও ৮ ফেব্রুয়ারি একই ব্যক্তি সকাল ও রাত মিলিয়ে চার দফায় ওই বুথে ঢোকেন। বিদেশী চেহারার ওই ব্যক্তির চোখে ছিল চশমা, মাথায় কালো টুপি আর কাঁধে ঝোলানো ছোট একটি কালো ব্যাগ। ৭ ফেব্রুয়ারির ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, সকাল ১০টা ৪৩ মিনিটের দিকে বুথে ঢুকেই প্রথমে তিনি বাঁ হাতে এটিএমে ওপরের অংশে বসানো গোপন ক্যামেরার মুখে কিছু একটা গুঁজে দিচ্ছেন। যাতে করে তার চেহারাটি ক্যামেরায় ধরা না পড়ে। এটিএমের ওপরের অংশের ক্যামেরার মুখে কিছু একটা গুঁজে দেয়ার পর তাকিয়ে দেখেন বুথের প্রবেশের গেটের দিকে। এরপর কালো ব্যাগ থেকে কিছু একটা বের করে তা বুথের গোপন পিন নম্বর প্লেটের ওপরের অংশে স্থাপন করেন। ক্যামেরা বসানোর পর কালো ব্যাগ থেকে আরেকটি যন্ত্র বের করে তা কার্ডের প্রবেশ মুখে বসানো হয়। ব্যাংকারদের মতে, সেটি ছিল স্কিমিং ডিভাইস। যেটি দিয়ে কার্ডের ব্যক্তিগত গোপন তথ্য চুরি করা হয়। যন্ত্রটি বসানোর কাজ শেষ হওয়ার পর ওই বিদেশী আরেক দফা ভালভাবে সব পরখ করে দেখে বেরিয়ে যান বুথ থেকে। পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে সময় নেন দুই মিনিটের মতো। একই দিন রাত ৮টা ৫৭ মিনিটের দিকে একই সাজপোশাকে তিনি আবার ওই বুথে ঢোকেন। প্রথমে গোপন ক্যামেরাটি খুলে সঙ্গে থাকা কালো ব্যাগে ঢোকান। এরপর খুলে নেয়া হয় স্কিমিং ডিভাইসটি। এরপর বেরিয়ে যান তিনি। এ দফায় সময় নেয়া হয় এক মিনিটের কিছু বেশি। একই ব্যক্তি ৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ও রাতে একই বুথে ঢুকে ৭ ফেব্রুয়ারির মতো একই কাজের পুনরাবৃত্তি ঘটান। ভিন্নতা ছিল কিছুটা শুধু পোশাকের রঙে ও সময়ে। ৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে তিনি বুথে ঢুকে যন্ত্রগুলো বসিয়ে দিয়ে বেরিয়ে যান। আর রাত ৮টা ৫৫ মিনিটের দিকে এসে বসানো যন্ত্রগুলো খুলে ব্যাগে ভরে বেরিয়ে যান। এদিকে এটিএম কার্ড জালিয়াতি আপাতত প্রতিহত হলেও ভিসা ও মাস্টার কার্ডের গ্রাহকদের ঝুঁকি এখনই কাটছে না। কেননা, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলোর জন্য যে সতর্ক নির্দেশনা জারি করেছে তা তারা পুরোপুরি পালন করলে এটিএম কার্ড জালিয়াতি বন্ধ করা সম্ভব, তবে তা কিছুটা সময়সাপেক্ষ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যারা এটিএম কার্ড জালিয়াতি করেছে তাদের পক্ষে ভিসা ও মাস্টার কার্ড জালিয়াতি অসম্ভব নয়। আর জালিয়াতরা যদি এসব কার্ড বিদেশে পাঠিয়ে দেয় তাহলে দেশে যতই ব্যবস্থা নেয়া হোক বিদেশে বুথ থেকে খুব সহজেই তারা বিদেশী টাকা তুলে নিতে পারবে, যা দেশের ভেতর থেকে প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না।

এ প্রসঙ্গে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বিষয়টি উদ্বেগের কারণ বটে। তবে ভিসা কার্ড ও মাস্টার কার্ডধারীদের অধিকতর সতর্ক হতে হবে। এ প্রসঙ্গে ডাচ-বাংলা ব্যাংকের ডিএমডি ও ইলেকট্রনিক কার্ড বিশেষজ্ঞ আবুল কাশেম মোহাম্মদ শিরীন জনকণ্ঠকে বলেন, ভিসা ও মাস্টার কার্ড জালিয়াতি প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে অধিকতর সতর্ক হতে হবে। তাদের মোবাইলে প্রেরিত এসএমএসের প্রতি খেয়াল রাখতে হবে। কোন লেনদেনের এসএমএস পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে কল সেন্টারকে অবহিত করে কার্ড ব্লক করে দিতে হবে। তবে কার্ডটি বিদেশে চলে গেলে প্রথম লেনদেন কিছুতেই ঠেকানো যাবে না। কিন্তু টাকা উত্তোলনের পরে সেটি ধরা পড়লে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে। এতে গ্রাহকের প্রাথমিক ক্ষতির সম্ভাবনাটি থেকে যায়।

এটিএম বুথে স্বচ্ছ গ্লাস ব্যবহার ও হিজাব খুলার পরামর্শ ॥ এটিএম (অটোমেটেড টেলার মেশিন) বুথে চুরি ঠেকাতে দেশের প্রায় সাড়ে সাত হাজার এটিএম বুথে স্বচ্ছ গ্লাস ও মহিলাদের লেনদেনের সময় প্রয়োজনে হিজাব খুলতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে সব বাণিজ্যিক ব্যাংকের বুথে নিরাপত্তা বাড়াতে এ পরামর্শ দিয়েছে বলে জানা গেছে। এছাড়া গ্রাহককে গোপন নম্বর চাপার সময় নম্বর বোর্ডের ওপর অন্য হাত দিয়ে ডেকে রাখারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দেশের ৫৬টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের এটিএম কার্ড ডিভিশনের প্রধানদের সঙ্গে বুধবার এক বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ পরামর্শ দেয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা এতে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে সূত্রে জানা গেছে, ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম ঠেকাতে সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে এ্যান্টি স্কিমিং ডিভাইস বসাতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। একই সঙ্গে এটিএম কার্ডধারী ৯০ লাখ গ্রাহক, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা ও গার্ডদের সচেতনতা ও প্রশিক্ষণ বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। বৈঠকে আসা কয়েকটি বেসরকারী ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, এটিএম বুথে স্বচ্ছ গ্লাস ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। যাতে বাইরে থেকে গ্রাহকের লেনদেন দেখা যায়। কাস্টমারদের সচেতনতামূলক কার্যক্রম বাড়ানোর পরামর্শ দেয়া হয়েছে। কর্মকর্তাদের আরও বেশি সচেতন ও প্রযুক্তিগত ধারণা থাকতে হবে। গার্ডদের প্রশিক্ষিত হতে হবে। তারা জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক সব কার্ড ডিভিশনের কর্মকর্তাদের তাদের গ্রাহকদের (লেনদেন) নিরাপত্তা তথা নিজের কার্ড নিজে ব্যবহার করতে অনুরোধ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা বলেন, বৈঠকে সব ব্যাংকের মতামতের ভিত্তিতে লেনদেনের ধারণ ক্ষমতা নির্ধারণ করা হবে এবং প্রতিটি লেনদেনের সঙ্গে সঙ্গে এসএমএসের মাধ্যমে গ্রাহককে তার তথ্য দিতে হবে। এ জন্য গ্রাহকের কাছ থেকে চার্জ (চাঁদা) আদায় করার প্রস্তাব এসেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক সব বাণিজ্যিক ব্যাংককে অনুরোধ করেছে, যাতে এ সার্ভিসে কোন টাকা না নেয়। তারা একমত হয়েছেন।

পাঁচ বিদেশীকে গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে ॥ এটিএম বুথ থেকে জালিয়াতির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা তুলে নেয়ার ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে পাঁচ বিদেশীকে গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রাখা হয়েছে। তারা যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারে এজন্য বিমানবন্দরে ছবিসহ বিশেষ সর্তক বার্তা পাঠানো হয়েছে। এক বিদেশীর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। অল্প সময়ের মধ্যেই প্রতারকরা গ্রেফতার হতে পারে বলেও ডিএমপির তরফ থেকে বলা হচ্ছে। ঢাকার বনানীতে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক লিমিটেডের (ইউসিবিএল) একটি বুথে স্কিমিং ডিভাইস বসিয়ে গ্রাহকের তথ্য চুরি করে গ্রাহকের মোটা অঙ্কের টাকা তুলে নেয়ার ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে বনানী মডেল থানায় দায়েরকৃত মামলাটির তদন্তভার দেয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে। এটিএম বুথের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় ওই বিদেশীর ছবি পাওয়া যায়। বুধবার ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) মনিরুল ইসলাম বলেন, মামলাটি ডিবি পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। ইতোমধ্যেই অন্তত পাঁচজন বিদেশীকে শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের উপর গোয়েন্দা নজরদারি চলছে। তারা যাতে দেশ ত্যাগ করতে না পারেন, এজন্য বিমানবন্দরগুলোতে ছবিসহ সর্তকতা জারি করা হয়েছে। এক বিদেশীর বিষয়ে বিশেষ তথ্য পাওয়া গেছে। তাকে গ্রেফতার করতে পারলেই সব সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। শনাক্ত হওয়া সব বিদেশীরাই পূর্ব ইউরোপের বিভিন্ন দেশের বাসিন্দা। যারা বর্তমানে ঢাকায় রয়েছেন।

হাতিয়ে নেয়া গ্রাহকের টাকা ফেরত দিবে ইস্টার্ন ব্যাংক ॥ এদিকে জালিয়াতির ঘটনায় ইস্টার্ন ব্যাংকের যে ২১ জন গ্রাহকের হিসাব থেকে টাকা তুলে নেয়ায় ঘটনা ঘটেছে, সেসব গ্রাহককে আজ বৃহস্পতিবার টাকা ফেরত দেয়া হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গবর্নর ড. আতিউর রহমানের উপস্থিতিতে এ টাকা ফেরত দেয়ার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ইস্টার্ন ব্যাংকের জনসংযোগ বিভাগের প্রধান জিয়াউল করিম বলেন, ২২ জন গ্রাহকের যার যত অর্থ খোয়া গেছে পুরোটাই ফিরিয়ে দেয়া হবে। সরাসরি গ্রাহকের হাতে এ অর্থ তুলে দিতে বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মেলনকক্ষে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।