২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ঢাকা বোর্ডের ৪ কর্মচারী বরখাস্ত, তিনজনকে শোকজ, ডায়েরি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ নিজেদের পছন্দের লোক নিয়োগের দাবি তুলে হামলা চালানো ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি হুমায়ুন কবিরসহ চার নেতাকে বরখাস্ত করা হয়েছে। শোকজ করা হয়েছে সেক্রেটারি লোকমানসহ তিন কর্মচারী নেতাকে। এদিকে জানমালের ক্ষতি ও পাবলিক পরীক্ষা বানচালের হুমকির অভিযোগ এনে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চকবাজার মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং ৮৬৬) করেছে বোর্ড কর্তৃপক্ষ। জিডিতে কর্মচারী ইউনিয়নের দুটি বিবদমান গ্রুপের বিরুদ্ধে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির অভিযোগ আনা হয়েছে।

এদিকে বোর্ডে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাদের ওপর কর্মচারী ইউনিয়ন নেতাদের হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিসিএস সাধারণ শিক্ষা সমিতি। সমিতির সভাপতি অধ্যাপক নাসরীন বেগম ও মহাসচিব আই কে সেলিম উল্লাহ খোন্দকার অবিলম্বে দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করে বলেছেন, সমিতি অবগত হয়েছে সচিব শাহেদুল খবীর চৌধুরী, উপপরিদর্শক মন্মথ রঞ্জন বাড়ৈসহ বোর্ডের কর্মকর্তারা কর্মচারী নেতৃত্ব দ্বারা লাঞ্ছিত হয়েছেন। সমিতি মনে করে, ঘটনা যাই হোক একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা এভাবে বেপরোয়া হতে পারে না। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে অবিলম্বে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করতে হবে। অন্যথায় সমিতি কঠোর কর্মসূচী দিতে বাধ্য হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু বক্কর ছিদ্দিক মঙ্গলবারের ঘটনায় শাস্তি প্রদান করার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি সাংবাদিকদের আরও বলেছেন, বোর্ড সচিবের দরোজায় লাথি দেয়া ও কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় আর কারও সম্পৃক্ততা আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। চিহ্নিত করা গেলে তাদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, বরখাস্ত হওয়া চার নেতা হলেন ঢাকা শিক্ষাবোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি ও উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা শাখার উচ্চমান সহকারী হুমায়ুন কবির, ইউনিয়নের ক্রীড়া সম্পাদক ও মাধ্যমিক পরীক্ষা শাখার উচ্চমান সহকারী মোকসেদ আলী, সহ-সভাপতি ও মাধ্যমিক পরীক্ষা শাখার উচ্চমান সহকারী মঞ্জুর আলী এবং যুগ্ম-সম্পাদক ও কলেজ পরিদর্শন শাখার উচ্চমান সহকারী মহিউদ্দিন মুহিত। যাদের কারণ দর্শাও নোটিস দেয়া হয়েছে তারা হলেন-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ও বৃত্তি শাখার উচ্চমান সহকারী লোকমান মুন্সী, কোষাধ্যক্ষ ও সনদ শাখার মেশিনম্যান আবদুল হক এবং সহ-সভাপতি ও সিনিয়র মেশিনম্যান জাহিদ হোসেন।

একযোগে কর্মচারী ইউনিয়নের শীর্ষ সাত নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার পর কর্মকর্তারা বুধবার বিকেল থেকে কাজকর্মে যোগ দিয়েছেন। অপরাধীদের বিচারের জন্য কর্মকর্তারা মঙ্গলবার ৪৭ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন। চলমান এইচএসসি পরীক্ষা অবশ্য কর্মকর্তাদের কর্মবিরতির বাইরে ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নির্দেশেই ইউনিয়নের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। মন্ত্রী চারদিনের সরকারী সফরে সিঙ্গাপুর ছিলেন। বুধবার দেশে ফিরেই ঘটনা শুনে তিনি কঠোর এ্যাকশন নেয়ার নির্দেশ দেন।

এর আগে মঙ্গলবার নিজেদের পছন্দের লোক নিয়োগের আবদার তুলে এবার বোর্ডজুড়ে তুলকালাম কা- ঘটিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা। কর্মচারী নিয়োগে অনিয়মের আপত্তি করা ও গণমাধ্যমে তথ্য দেয়ার অভিযোগ এনে মঙ্গলবার কর্মচারী ইউনিয়নের কয়েক নেতার নেতৃত্বে কর্মচারীদের একটি গ্রুপ সকাল থেকেই বোর্ডে প্রেষণে কর্মরত উর্ধতন কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এর পর বোর্ড প্রাঙ্গণে মিছিল, সচিবের কক্ষের দরোজায় লাথি মারা ও উপ-কলেজ পরিদর্শককে লাঞ্ছিত করার ঘটনাও ঘটিয়েছেন।