২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রাথমিক, মাধ্যমিক স্তরে বাড়ছে বৃত্তি, অটিস্টিক শিশু পাবে উপবৃত্তি

বিভাষ বাড়ই ॥ ঝরে পড়া রোধ করে সকল শিশুর শিক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাড়ছে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির পরিমাণ। বৃত্তির সকল ক্যাটাগরিতে টাকা বাড়ছে দেড় থেকে দ্বিগুণ পর্যন্ত। একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে সকল ক্যাটাগরির বৃত্তিপ্রাপ্ত সংখ্যাও। এদিকে প্রথম বারের মতো মাধ্যমিক স্তরের সকল শ্রেণীতে চালু হচ্ছে ‘অটিস্টিক উপবৃত্তি’। নতুন এ বৃত্তি চালু হলে বিভিন্ন শ্রেণীর অধ্যয়নরত মেধাবী অটিস্টিক শিক্ষার্থীরা নিয়মিত উপবৃত্তি পাবে। চলতি বছর থেকেই বাড়তি এ অর্থ পাবে শিক্ষার্থীরা।

বৃত্তি প্রদানকারী মূল সংস্থা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) পরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বৃত্তির পরিমাণ ও সংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, বর্তমানে সারাদেশে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। কিন্তু বৃত্তির টাকা ও সংখ্যা আগের মতোই আছে। বৃত্তির পরিমাণ ও সংখ্যা বাড়ানোর জন্য অনেক দিন ধরেই পরিকল্পনা চলছিল। এখন সেই পরিকল্পনা সফল হচ্ছে। এর ফলে পুরো শিক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন মাউশির এ পরিচালক। শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাউশি ও শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, বৃত্তি বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় কাজ প্রায় শেষ। চলতি বছর থেকেই বাড়তি এ অর্থ পাবে শিক্ষার্থীরা। বৃত্তির সংখ্যা ও টাকার পরিমাণ বাড়ানো হলে শিক্ষার্থীরা একদিকে যেমন পড়ালেখা ছেড়ে দেবে না। এতে শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার হার আরও কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে বৃত্তির পরিধি আরও বাড়ানোর দীর্ঘদিনের তাগিদ ছিল শিক্ষাবিদদেরও। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক এ দুটি স্তরে সারাদেশে অতিরিক্ত আরও ৪১ হাজার ৪০০ শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হবে। এ জন্য এরই মধ্যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে মোট ৮২ হাজার ৫০০ জনকে মাসিক বৃত্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। মাউশির পরিচালক অধ্যাপক এস এম ওয়াহিদুজ্জামান বলছিলেন, বৃত্তি বাড়ানো অনেক ভাল ফল দেবে বলে আমরা আশা করি। বৃত্তির আওতা বাড়ানোর কারণে নতুন করে অনেক শিক্ষার্থী সুবিধা পাবে। একই সঙ্গে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হলে মেধাবী অথচ দরিদ্র শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে।

বিষয়টি নিয়ে কাজ করছেন মাউশির সহকারী পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন উইং) আশিকুল হক। তিনি বলছিলেন, প্রাথমিক স্তরে দুটি ভাগে বৃত্তি দেয়া হয়। এর মধ্যে মেধাবৃত্তি (ট্যালেন্টপুল) ২২ হাজার ও সাধারণ বৃত্তি ৩৩ হাজার। এই ৫৫ হাজারের স্থলে নতুন সিদ্ধান্ত অনুসারে সারাদেশে ৮২ হাজার শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়া হবে। তাদের মধ্যে ৩৩ হাজার পাবে মেধাবৃত্তি। বাকি ৪৯ হাজার ৫০০ জন ছাত্রছাত্রী পাবে সাধারণ বৃত্তি। আসলে বৃত্তি বাড়ানোর কাজ অনেকটাই শেষ। এটি হলে শিক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। কারণ আরও অধিক সংখ্যক শিক্ষার্থী যেমন বৃত্তি পাবে, তেমনি আগের তুলনায় টাকাও বেশি পাবে।

প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে বর্তমানে বৃত্তিপ্রাপ্তদের এককালীন ১৫০ টাকা দেয়া হয়। এটা ২২৫ টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া মেধাবৃত্তিপ্রাপ্তরা প্রতি মাসে বর্তমানের ২০০ টাকার স্থলে বেড়ে ৩০০ টাকা ও সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তরা মাসিক ১৫০ টাকার স্থলে ২২৫ টাকা পাবে। অন্যদিকে সাধারণ বৃত্তিপ্রাপ্তদের মাসিক ছিল ১৫০ টাকার স্থলে দেয়া হবে ২২৫ টাকা।

এ ছাড়া অষ্টম শ্রেণীর জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে দুটি ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেয়া হয়। বর্তমানে সারাদেশে ৩০ হাজার ৮০ ছেলেমেয়ে এ দুটি ক্যাটাগরিতে জুনিয়র বৃত্তি পায়। চলতি বছর থেকে তা বাড়িয়ে ৪৬ হাজার ২০০তে উন্নীত করা হচ্ছে। মেধাবৃত্তির সংখ্যা ৯ হাজার ৮০০ থেকে বাড়িয়ে ১৪ হাজার ৭০০ করা হয়েছে। আর সাধারণ বৃত্তির সংখ্যা ২১ হাজার বাড়িয়ে ৩১ হাজার ৫০০ করা হয়েছে।

মাউশির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, আগে মেধাবৃত্তিপ্রাপ্তরা এককালীন ৩৭৫ টাকা আর প্রতি মাসে ৩০০ টাকা পেত। এখন থেকে তারা এককালীন ৬৫০ টাকা ও মাসে ৪৫০ টাকা হারে বৃত্তি পাবে। সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তিপ্রাপ্তরা আগে এককালীন ২২৫ টাকা ও মাসে ২০০ টাকা পেত। এখন তারা এককালীন ৩৫০ টাকা আর প্রতি মাসে ৩০০ টাকা হারে বৃত্তি পাবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর কর্মকর্তারা বলছেন, সাধারণ ক্যাটাগরিতে সারাদেশের প্রতি ইউনিয়ন বা ওয়ার্ড থেকে দুজন ছেলে ও দুজন মেয়েকে সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে সাধারণ বৃত্তি দেয়া হয়। আর প্রতি উপজেলায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রতি ১০০ জনের একজনকে মেধাক্রম অনুসারে মেধা বৃত্তি দেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে উচ্চ মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলে ওই বছরের প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফল অনুযায়ী একটি মানদ- ঠিক করে এ বৃত্তি দেয়া হয়।

এদিকে এবতেদায়ী, জেডিসি, এসএসসি, দাখিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্যে মেধা ও সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তির টাকা ও সংখ্যাও প্রায় দেড় থেকে দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। এবতেদায়ীতে দশ হাজার শিক্ষার্থীর স্থলে ১৫ হাজার জনকে সাধারণ বৃত্তি এবং পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর স্থলে সাত হাজার ৫০০ জনকে মেধাবৃত্তি ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেয়া হবে। জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেটে (জেডিসি) দুই হাজারের স্থলে তিন হাজার মেধাবৃত্তি এবং চার হাজারের স্থলে ছয় হাজার সাধারণ বৃত্তি ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেয়া হবে।

এসএসসিতে দুই হাজারের স্থলে তিন হাজার মেধা বৃত্তি এবং ১৫ হাজারের স্থলে ২২ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীকে সাধারণ ক্যাটাগরিতে বৃত্তি দেয়া হবে। মাদ্রাসার দাখিলেও ৪০০ জনের স্থলে ৬০০ জনকে মেধা ক্যাটাগরিতে এবং ৫০০ জনের স্থলে ৭৫০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক শাখার কর্মকর্তারা। এসব শ্রেণীর সকল ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীদের টাকার পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে দেড় থেকে দ্বিগুণ। জেএসসি পরীক্ষায় চতুর্থ বিষয়ের নম্বর বাদ দিয়ে মোট প্রাপ্ত নম্বরের ওপর ভিত্তি করে বৃত্তি দেয়া হয়। জুনিয়র বৃত্তির এ টাকা শিক্ষার্থীরা কেবল নবম ও দশম শ্রেণীতে অধ্যয়নের সময় পেয়ে থাকে।

এদিকে সরকারের বৃত্তি প্রদান কার্যক্রমে প্রথমবারের মতো চালু হচ্ছে ‘অটিস্টিক উপ-বৃত্তি’ নামে নতুন উপবৃত্তি। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে মেধাবী অটিস্টিক শিক্ষার্থীরা নিয়মিত উপবৃত্তি পাবে বলে জানিয়েছেন মাউশির সহকারী পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন উইং) আশিকুল হক। তিনি বলছিলেন, অটিস্টিক শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি এটাই প্রথম হচ্ছে। বিভিন্ন শ্রেণীতে নির্দিষ্ট পরিমাণে অটিস্টিক শিশু এ বৃত্তি পাবে। এর জন্য তাদের আবেদন অন্যান্য বৃত্তির মতো কমিটি যাচাই-বাছাই করা হবে। এরপর নীতিমালা অনুসারে তারা বৃত্তি পাবে।