২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পেয়ারা পচে মাটিতে পড়ছে

  • ইওন কোম্পানির কীটনাশক প্রয়োগ ॥ ক্ষতিপূরণ দাবি

স্টাফ রিপোর্টার, যশোর অফিস ॥ চৌগাছায় এক কৃষকের তিন বিঘা জমির পেয়ারায় মড়ক দেখা দিয়েছে। ইওন এ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ছত্রাকনাশক কীটনাশক স্প্রে করার পর থেকেই প্রতিটি পেয়ারায় পচন দেখা দিয়েছে। গত ১০ দিনে প্রায় সাড়ে চার লাখ টাকার পেয়ারা পচে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। ইওন কোম্পানির অফিসারের প্রলোভনে পড়ে এই ক্ষতি বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কৃষক ওই কোম্পানির নিকট থেকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন।

জানা গেছে, উপজেলার মন্মতপুর গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে কৃষক হাশেম আলী (৩৫)। মাঠে কাজ করেই সে জীবিকা নির্বাহ করে। চলতি মৌসুমে নিজ গ্রামের মাঠে এক একর (৩ বিঘা) জমি লিজ নিয়ে পেয়ারার চাষ করেন। পেয়ারা ক্ষেত যেন তার সবকিছু। তাই ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ক্ষেতে সে শ্রম দেয়। ক্ষেতের প্রতিটি গাছে বিপুল পরিমাণে পেয়ারা আসে। আর কয়েক দিন পরই পেয়ার উঠা শুরু হবে। ঠিক সেই মুহূর্তে ইওন এ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের রবিউল হুসাইন ও মোশারফ হোসেন নামে দু’ব্যক্তি কৃষক হাশেমকে প্রলোভন দেখায়, তাদের কোম্পানির ছত্রাকনাশক কীটনাশক স্প্রে করলে পেয়ারা দেখতে সুন্দর ও আকারে বেশ বড় হবে। তারাও বলেন, প্রতিটি পেয়ারার পলিথিন খুলে এই ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। তাদের কথানুযায়ী গত মাসের শেষ সপ্তাহে শ্রমিক নিয়ে সকল পেয়ারার মোড়ক খুলে ছত্রাকনাশক স্প্রে করে। প্রথম স্প্রে করার পর পেয়ার সবুজ বর্ণ থেকে হলুদ হয়ে যায়। এ সময় তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা পরামর্শ দেন কোনো সমস্যা নেই, দু’দিন পরে আর একটি স্প্রে করলে হলুদ বর্ণ কেটে যাবে। সে অনুযায়ী আবার স্প্রে করলে প্রতিটি পেয়ারাতে তিলে পড়ে যায়। তখন আবারও কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে, তারা পরামর্শ দেন কয়েক দিন পরে আর একটি ¯েপ্র করলে সব সমস্যা কেটে যাবে। তিনি কয়েক দিন পর আবার ¯েপ্র করলে পেয়ারা সব পচন দেখা দেয়। ক্ষেত মালিক এ অবস্থা দেখে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাশেম আলীর স্বজনরা জানান, পেয়ারার এ অবস্থা দেখে সে হঠাৎ বুকে ব্যাথা অনুভব করে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। সঙ্গে সঙ্গে চৌগাছার একটি ক্লিনিকে তাকে ভর্তি করা হয়। তিন দিন সেখানে চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থ হলে বাড়িতে নেয়া হয়। এখনও সে অসুস্থ বলে জানা গেছে।

সরেজমিন পেয়ারা ক্ষেতে গেলে দেখা যায় এ দৃশ্য। প্রতিটি গাছে যেন বাদুর ঝুলছে। বিপুল পরিমাণে পেয়ারা এসেছে গাছে। কিন্তু সব পেয়ারা পচে আপন মনেই মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। হাশেম আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিয়েছে ইওন কোম্পানি। আমি কোন ক্রমেই তাদের ছত্রাকনাশক গাছে ¯েপ্র করব না কিন্তু তারা আমার পিছু ছাড়েনি। তাদের কাছ থেকে ৫ হাজার টাকার ই-জেব-৮০, নেভা-৫০, ছক্কা-৫, চার্জ ও ভাইটাল-সালুবোর বোরন কিনে গাছে ¯েপ্র করি। আর ওই ছত্রাকনাশক পেয়ারায় দেয়ার পর আজ এ পরিস্থিতি। ইওন কোম্পানির মোশারফ হোসেন ও রবিউল হুসাইন এখন ফোন রিসিভ করে না। তারা আমাকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। তিনি জানান, এ পর্যন্ত ৮০ কার্টন পেয়ারা পচে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। যার বাজারদর প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা।

আর গাছে এখনও যে পরিমাণ পেয়ারা আছে তা ৪০ থেকে ৫০ কার্টন হবে। কিন্তু একটি পেয়ারাও ভাল নেই। সব পেয়ারা পচে শেষ হয়ে গেছে। কোন উপায়ান্ত না পেয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের সাথে আমি যোগাযোগ করি। তারা আমার ক্ষেত পরিদর্শন করে গেছে। তারা এ ঘটনায় একটি লিখিত আবেদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি অফিসার বরাবর জমা দেয়ার পরামর্শ দেন। তাদের কথামতো গত সোমবার তিনি সংশ্লিষ্ট দফতরে একটি লিখিত আবেদন করেছেন।

এই মাত্রা পাওয়া