২৩ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সঙ্গীতস্বাতী গীতিকার মাসুদ করিম

‘সজনী গো ভালবেসে এত জ্বালা’, ‘শত্রু তুমি বন্ধু তুমি’, ‘যখন থামবে কোলাহল’, ‘শিল্পী আমি তোমাদের গান শোনাব’- এসব হৃদয়ছোঁয়া গানের স্রষ্টা গীতিকার মাসুদ করিম। গতকাল ছিল তার জন্মদিন। তাকে নিয়ে লিখেছেন লিটন আব্বাস

গীতিকার মাসুদ করিম কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার দুর্গাপুর কাজীপাড়ায় ১৯৩৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা রেজাউল করিম ছিলেন একজন সরকারী চাকরিজীবী, মা নাহার গৃহিণী। মাসুদ করিমের সহধর্মিণী দিলারা আলোও একজন সঙ্গীতশিল্পী। বাংলাদেশ রেডিও ও টিভিতে তিনিও কয়েক যুগ ধরে সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন। মাসুদ করিম প্রোগ্রাম অফিসার হিসেবে প্রথম কর্মজীবন শুরু করেন ঢাকা ও চট্টগ্রাম রেডিওতে। কয়েক বছর চাকরি করেন ময়মনসিংহ কৃষ্টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেক্রেটারি হিসেবে।

১৯৬০ সাল থেকে তিনি রেডিও ও টেলিভিশনের জন্য গান রচনা শুরু করেন। ষাট, সত্তর ও আশির দশকে তিনি চলচ্চিত্রের জন্য প্রচুর গান লিখেছেন।

রচনা করেছেন অনেক গীতিনকশা, যার মধ্যে অন্যতম স্বাধীনতা দিবস, একুশে ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে গানের অনুষ্ঠান, ঈদের অনুষ্ঠান ইত্যাদি। ১৯৮২ সালে ‘রজনীগন্ধা’ এবং ১৯৯৪ সালে ‘হৃদয় থেকে হৃদয়’ ছবির গানের জন্য গীতিকার মাসুদ করিম শ্রেষ্ঠ গীতিকার হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। চলচ্চিত্রও প্রযোজনা করেছেন তিনি। তার প্রযোজিত ছবিগুলো- ‘অচেনা অতিথি’, ‘ওয়াদা’ এবং ‘ভাল মানুষ’।

বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিলেন তিনি।

বাংলাদেশ লায়ন্স ক্লাবের ছিলেন আজীবন সদস্য। বাংলাদেশ গীতিকবি সংসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা এবং সভাপতি ছিলেন। অনেক তরুণ এবং প্রবীণ গীতিকার, কবিদের তিনি সাহায্য করতেন গান ও কবিতা লিখতে। বাংলাদেশ সঙ্গীত পরিষদেও তিনি যুক্ত ছিলেন সহ-সভাপতি হিসেবে।

মাসুদ করিম গান লিখতে শুরু করেন ১৯৫৫ সাল থেকে। বশীর আহমেদের কণ্ঠে ‘সজনী গো ভালবেসে এত জ্বালা’, আবদুল জব্বারের কণ্ঠে ‘শত্রু তুমি বন্ধু তুমি’, খুরশিদ আলমের কণ্ঠে ‘তোমরা যারা আজ আমাদের ভাবছ মানুষ কিনা’, সৈয়দ আবদুল হাদীর কণ্ঠে ‘কিছু বলো, কিছু বলো’, মুহাম্মদ আলী সিদ্দিকীর কণ্ঠে ‘বাঁশি বাজে ওই দূরে’, হাসিনা মমতাজের কণ্ঠে ‘তন্দ্রাহারা নয়ন আমার’, রুনা লায়লার কণ্ঠে ‘যখন থামবে কোলাহল’, ‘শিল্পী আমি তোমাদের গান শোনাব’, ‘আমি সুজন দেখে ভাব করেছি’Ñ তার শ্রোতাপ্রিয় গানের হিসেব করে শেষ করা কঠিন!

প্রখ্যাত গজলসম্রাট মেহেদী হাসান, শ্যামল মিত্র, ভুপেন হাজারিকা, ঊষা উত্থুপ, কুমার শানু, অনুরাধা পাড়োয়াল, উদিত নারায়ণও তার লেখা গান গেয়েছেন। এসব গানগুলো সংগ্রহ করে বই আকারে প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

মাসুদ করিম আজ নেই। কিন্তু তিনি বেঁচে আছেন তার সৃষ্টিকর্মে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই তার গান সম্পর্কে জানে না। সে কারণে মাসুদ করিমের স্ত্রী দিলারা আলো তার লেখা গানগুলো সংগ্রহের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে গঠন করা হয়েছে ‘মাসুদ করিম মেমোরিয়াল ফাউন্ডেশন’। কবি, শিল্পী, সাহিত্যিক, গীতিকারদের সম্মানিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি। ১৯৯৬ সালের ১৬ নবেম্বর কানাডার মন্ট্রিয়েলে খ্যাতিমান এ গীতিকার মৃত্যুবরণ করেন।

নির্বাচিত সংবাদ