১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মানবতাবিরোধী অপরাধ রিয়াজ-ওয়াজের বিরুদ্ধে ৫ অভিযোগ

 মানবতাবিরোধী অপরাধ  রিয়াজ-ওয়াজের বিরুদ্ধে ৫ অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার॥ ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার গ্রেফতারকৃত রিয়াজ উদ্দিন ফকির ও পলাতক ওয়াজউদ্দিন এবং গ্রেফতারের পর মৃত্যুবরণকারী আমজাদ হাজীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

তবে আমজাদ হাজী মারা যাওয়ায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিলের সময় তাকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দিতে প্রসিকিউশনকে অনুরোধ জানাবেন তদন্ত সংস্থা।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা এগারটার দিকে তদন্ত সংস্থার কার্যালয় রাজধানীর ধানমণ্ডির সেফহোমে সংবাদ সম্মেলনে তদন্ত প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। তদন্ত সংস্থার প্রধান সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান খান, জ্যেষ্ঠ সমন্বয়ক সানাউল হক এবং এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

বৃহস্পতিবারই এ তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা। এর ভিত্তিতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ তৈরি করে ট্রাইব্যুনালে দাখিল করবেন প্রসিকিউশন।

আসামিদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনালস) আইনের ৩(১), ৪(১) ও ৪(২) ধারা অনুসারে হত্যা, গণহত্যা, আটক, অপহরণ, নির্যাতন ও ধর্ষণের পাঁচটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে। একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ২২ আগস্ট থেকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তারা অপরাধগুলো সংঘটিত করেন বলে তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলাগুলোর মধ্যে ৩৬তম তদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদন। ৫ খণ্ডে ৩০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটিতে ৫৭ পৃষ্ঠার বিভিন্ন ধরনের সাক্ষ্য-প্রমাণ, দলিল ও ডকুমেন্টস রয়েছে। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান ২০১৪ সালের ১২ অক্টোবর থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ১ বছর ৪ মাস ৭ দিন তদন্তকাজ সম্পন্ন করেন।

মোট ৬০ জনের বেশি ব্যক্তির জবানবন্দি গ্রহণ করা হলেও ৩৬ জন সাক্ষী ২ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেবেন বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হলেও তাদের মধ্যে একজনকে গ্রেফতার করা যায়নি।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে ফুলবাড়িয়ার রাজাকার বাহিনীর প্রধান আমজাদ হাজী ও আলবদর বাহিনীর প্রধান রিয়াজউদ্দিন ফকির এবং ওয়াজউদ্দিন ছিলেন এ মামলার আসামি। ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভালুকজান গ্রামের শহীদ তালেব মণ্ডলের ছেলে খোরশেদ আলী বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তিনি অভিযোগ করেন, তার বাবা তালেব মণ্ডলকে আখিলা নদীর ব্রিজের ওপর দাঁড় করে গুলি করে হত্যা করেন থানা রাজাকার বাহিনীর প্রধান আমজাদ ও আলবদর বাহিনীর প্রধান রিয়াজ ফকিরের নেতৃত্বে ওয়াজউদ্দিনসহ রাজাকাররা।

এছাড়া মামলায় বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে আমজাদ আলী, রিয়াজউদ্দিন ফকির ও ওয়াজউদ্দিন হত্যা-গণহত্যা, ধর্ষণসহ নানা মানবতাবিরোধী অপরাধে নেতৃত্ব দেন। আছিম যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধাসহ বহু মানুষকে হত্যা ও পাটিরায় দুই হিন্দু নারীকে ধর্ষণের অভিযোগও করা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর গত বছরের ১১ আগস্ট আমজাদ ও রিয়াজকে ফুলবাড়িয়া উপজেলার কেশরগঞ্জ ও ভালুকজান গ্রাম থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

১২ আগস্ট ট্রাইব্যুনালে সোপর্দ করার উদ্দেশ্যে ময়মনসিংহ থেকে দুই আসামিকে নিয়ে আসার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়ে পুলিশের প্রিজন ভ্যান। এতে চার পুলিশ ও আসামি আমজাদ হাজী গুরুতর আহত হন। পরে আমজাদকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান তিনি। ফলে বর্তমানে রিয়াজ উদ্দিন ফকির ও পলাতক ওয়াজউদ্দিন এ মামলার আসামি।