১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভালুকায় পাম চাষে ব্যাপক সাফল্য

ভালুকায় পাম চাষে ব্যাপক সাফল্য

নিজস্ব সংবাদদাতা, ভালুকা ॥ পাহাড়, টিলা, বাইদ আর শাল গজারীর বনে ঘেরা ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলায় সফলভাবে মিষ্টি সৌদী খেজুর ও মাল্টা চাষ হবার পর এবার পাম চাষে সফলতা দেখিয়ে নতুন চমক দেখালেন ভালুকার রাজৈ ইউনিয়নের কুল্লাব গ্রামের অত্যন্ত উদ্যোমী, সাহসী, পরিশ্রমী এবং ধৈর্যশীল চাষী মো. আনোয়ার ইসলাম (ফকির) । ২০১০ সালে তিনি তার নিজস্ব বাড়ীর আশে পাশের উচু, নীচু, টিলার পরিত্যাক্ত প্রায় ১০ একর জমিতে ২ হাজার পাম গাছের চারা রোপন করেন। তার বাগানে ব্যয় হয়েছে প্রায় এক কোটি টাকা । সৌদী আরবে চাকুরীরত অবস্থায়ই তিনি পাম চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ হন। বর্তমানে রোপনকৃত অধিকাংশ গাছেই পাম ফল ধরতে শুরু করেছে। শুধু তাই নয়, গত বছর থেকেই নিজেই তার বাগানের পাম ফল থেকে সফলভাবে পাম তেল নিস্কাশন করা শুরু করেছেন । বাজারে প্রচলিত পাম ওয়েল থেকে যথেষ্ট উন্নত ও সুস্বাদু। দেশে প্রায় ব্যাক্তি মালিকানাধীন ৩০ টি পাম বাগানের মধ্যে তার বাগানই সর্ববৃহৎ। বর্তমানে তার বাগানে যে পরিমানে পাম ফলের মোচা দেখা যাচ্ছে তাতে আশা করা যাচ্ছে খুব শীঘ্রই তার বাগান থেকে ব্যাপকভাবে পাম ফল এবং তেল পাওয়া যাবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রতিনিয়ত প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে। পাম চাষী মো. আনোয়ার ইসলাম (ফকির) জানান , এ বছর তার বাগানে ২০ টন ফল আহড়ন করা যাবে । ওই ফল পরিশৈাধিত করে প্রায় ১০ টন পাম তৈল পাওয়া যাবে । আহরিত পাম ফল প্রতি কেজি ২৫ টাকা ধরে ৫০ লক্ষ টাকায় কিনে নিতে কুমিল্লার একটি ফার্ম আগ্রহ প্রকাশ করেছে । ভবিষ্যতে তার বাগানে একটি মনোরম এ্যাগ্রো ট্যুরিজম স্পট এবং নিজস্ব পাম প্রসেসিং প্লান্ট স্থাপনের ইচ্ছা পোষন করছেন। এব্যাপারে সরকারী এবং বেসরকারী সবার সার্বিক সহযোগীতা দরকার । পাশাপাশি তিনি তার এই দুঃসাধ্য সফলতার জন্য রাষ্টীয় স্বীকৃতি বা সম্মান আশা করেন।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল আজম খান জানান, ভালুকা উপজেলার মাটি খরা প্রবন হওয়ায় এবং উচু টেক টিলা ও পরিত্যক্ত ভূমি থাকায় পাম চাষের জন্য উপযোগী । ব্যাপক ভাবে পাম চাষ করা গেলে বিদেশ থেকে পাম তৈল আমদানী করার প্রয়োজন পরবে না ।