১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

৫ গ্রাহকের খোয়া যাওয়া টাকা ফেরত দিল ইবিএল

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ এটিএম জালিয়াতির বিষয়ে ভবিষ্যতে সতর্ক থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড (ইবিএল)। এটিএম বুথে জালিয়াতির ঘটনায় ৫ গ্রাহকের খোয়া যাওয়া টাকা ফেরত দেওয়া উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইস্টার্ন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ও রশিদ এ প্রতিশ্রুতি দেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সচিবালয়ের কনফারেন্স হলে বৃহস্পতিবার ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানার উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ অর্থ ফেরত দেওয়া হয়।

ইস্টার্ন ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসান ও রশিদ বলেন, ‘এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। এ রকম আর যেন না ঘটে সেদিকই লক্ষ্য রাখবে ব্যাংকটি।’ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘এটিএম বুথে নিরাপত্তা সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনাগুলো যথাসময়ে পরিপালন করতে হবে। এ জন্য বর্ধিত কোনো সময় দেওয়া হবে না।’ একইসঙ্গে জালিয়াতি রোধে গ্রাহকের সচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দেন তিনি।

নাজনীন সুলতানা বলেন, ‘ইবিএল তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও ফুটেজ দেখলে হয়তোবা ক্ষতি কম হতো বা চোরদের ধরা যেত। তবে ভবিষ্যতে এ ব্যাপারে আরও সচেতন হতে হবে। এর থেকেও বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত। বর্তমানে ডিজিটালাইজড অনেক সুবিধার পাশাপাশি কিছু সমস্যা থাকবেই। এ জন্য আমাদের ডিজিটাল সেবা থেকে দূরে সরে গেলে হবে না। আমাদের বেশি বেশি সচেতন গ্রাহক প্রয়োজন। ইবিএলের আজকের পদক্ষেপের কারণে গ্রাহকের মধ্যে আস্থা ফিরবে।’

ইস্টার্ন ব্যাংকের ২৪ জন গ্রাহকের ১৭ লাখ ৫৩ হাজার টাকা জালিয়াতির মাধ্যমে তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। অনুষ্ঠানে ৫ জন গ্রাহকের হাতে এ চেক হস্তান্তর করা হয়। অন্য গ্রাহকের অর্থ তাদের অ্যাকাউন্টে জমা করে দেওয়া হয়েছে বলে জানায় ইবিএল কর্তৃপক্ষ। যাদের হাতে চেক তুলে দেওয়া হয় তারা হলেন— মাহবুবা আক্তার, শাসিফুজ্জামান, কামরুজ্জামান, মো. আবু মুসা তারেক, দিপন চন্দ্র দে। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা, প্রেমেন্ট সিস্টেম ডিপাটমেন্টের মহাব্যবস্থাপক মো. ইস্কান্দারসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

শুক্রবার ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের এক গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে অন্য ব্যাংকের এটিএম ব্যবহার করে কৌশলে টাকা তুলে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে জানা যায়, কার্ড ক্লোনিং করে ৪টি ব্যাংকের ২০ লাখ ১৬ হাজার টাকা তুলে নেয় তারা। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার ইবিএলসহ একাধিক ব্যাংক এটিএম সেবা বন্ধ রাখে। অনেক ব্যাংক টাকা উত্তোলনের পরিমাণ কমিয়ে আনে। এতে এটিএম থেকে টাকা উত্তোলনে ভোগান্তিতে পড়তে হয় গ্রাহকদের।