২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রে দেশে কোন উন্নয়ন ঘটে নি

স্টাফ রিপোর্টার ॥ চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রে দেশে কোন উন্নয়ন ঘটে নি, ৪৫ বছর পূর্বে দেশ যে অবস্থায় ছিল এখনো সেখানেই রয়েছে। শষ্য ও মৎস্যসহ সর্বক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটলেও এই একটি খাতে দেশ এখনও পিছিয়ে রয়েছে। তাই এ খ্তাকে এগিয়ে নিতে সম্বলিতভাবে ৩ বছরের একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশে গরুর যে অভাব রয়েছে তা পূরণ করতে হবে, আমিষের সরবরাহ বৃদ্ধি করতে হবে একই সঙ্গে বাড়াতে হবে দুধের সরবরাহ। একই সময়ের শিশু খাদ্যের ৫০ শতাংশ পূরণের সক্ষমতা নিজেদের অর্জন করতে হবে। এছাড়া দ্রুত সময়ের মধ্যে ডেইরি নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া ‘৩য় আন্তর্জাতিক ডেইরি, মৎস্য ও পোষাপ্রাণী মেলা ও সেমিনার’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। তিনদিন ব্যাপী এ মেলার আয়োজন করেছে এ্যানিমেল হেল্থ কোম্পানিজ এসোসিয়েগন অব বাংলাদেশ (আহকাব), সার্বিক সহযোগিতায় রয়েছে বাণিজ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত বলেন, শষ্যক্ষেত্রে আমরা অসাধারণ কৃতিত্ব অর্জন করেছি, নিজেরা চলতে পারি। মৎস্য খাতেও বিগত ১০ বছরে খুব ভালো করেছি। কিন্তু চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রে দেখি আমরা যে অবস্থায় ছিলাম এখনও সেখানেই আছি। এই একটি ক্ষেত্রে আমাদের কোন উন্নয়ন হয় নি। কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান কৃষি মন্ত্রণালয় করে, কিন্তু এ অনুষ্ঠান করছে এ্যানিমেল হেল্থ কোম্পানিজ এসোসিয়েগন অব বাংলাদেশ (আহকাব)। এতেই প্রমাণিত হয়, এক্ষেত্রে আমরা কতোটা পিছিয়ে আছি।

এসময় অর্থমমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে চতুষ্পদ জন্তু ছাগলের ক্ষেত্রে কিছুটা উন্নয়ন হলেও আমাদের গরুর অভাব রয়েছে। বিশেষ করে গরুর দুধের যে চাহিদা আমরা তা পূরণ করতে পারছি না। চাহিদা পূরণ করতে তিন বছরের মধ্যে দুধ সরবরাহ ও আমিষ-খাদ্য উৎপাদনের আমূল পরিবর্তন আনার জন্য গো-খামারী, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের অঙ্গীকার নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমি আজ আপনাদের অঙ্গীকার করার আহ্বান জানাই, আগামী ৩ বছরের মধ্যে গরুর যে অভব রয়েছে তা পূরণ করার চেষ্টা করেন। যাতে দুধ ও আমিষের সরবরাহ তিনগুণ বাড়াতে পারি। এ সময়ের মধ্যে শিশু খাদ্যের ৫০ শতাংশ পূরণ করারও আহ্বান জানান তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, শস্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে আমরা আমূল পরিবর্তন করেছি। ৪৫ বছরে ১০ লাখ টন থেকে ৩ কোটি ৮০ লাখ টন শস্য উৎপাদনে সক্ষম হয়েছি। মৎস উৎপাদনেও ১০ থেকে ১২ বছরে অনেক উন্নতি সাধন করেছি। তবে চতুষ্পদ জন্তুর ক্ষেত্রে ৪৫ বছর পূর্বে যে অবস্থান ছিল এখনো সেখানেই আছি। একমাত্র এখানেই আমরা কোন উন্নতি করতে পারি নি। আমাদের যে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে এটাকে কাজে লাগিয়ে আমাদের গো-সম্পদের উন্নয়ন করতে হবে।

উন্নতমানের গরু উৎপাদনের আহ্বান জানিয়ে অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ৩ বছরের মধ্যে আমাদের উন্নত মানের গরু উৎপাদন করতে হবে। গরু উৎপাদনে ভ্যারাইটি থাকতে হবে, সংখ্যা বাড়ানোর দিকে নির্দেশ দেয়া হবে। তিন বছরে এই কার্যক্রমগুলো হাতে নেয়ার চেষ্টা করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নারায়ন চন্দ্র চন্দ বলেন, প্রতিবেশী দেশে মহিষ থেকে দুধ বেশি আসে। কিন্তু আমাদের এখানে একমাত্র গরুর উপর নির্ভর করতে হয়। মাছ ও হাস-মুরগির উৎপাদন যেভাবে বৃদ্ধি করা সম্ভব, একইভাবে গাভী বা মহিষের উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব নয়। আমরা মাছে অনেক এগিয়ে গেছি তবে মাংস ও দুধে নয়। এসময় প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে গো-খাদ্যের অভাব রয়েছে এবং এর মূল্য অনেক বেশি। ছাগল ও বেড়ার জাত উন্নয়নে কাজ চলছে। পল্ট্রি শিল্পে যে ধ্বস নেমেছিল, তা কাটিয়ে উঠেছি। এ শিল্প বর্তমান চাহিদার সবটাই পূরণে সক্ষম হচ্ছে।

এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট আব্দুল মাতলুব আহমদ বলেন, যত দ্রুত সম্ভব ডেইরি নীতিমালা করতে হবে। ডেইরি শিল্পকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে হবে। গরুর উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমাদের যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। উদ্যোক্তা আছে, টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। দেশে গো-খাদ্যের সঙ্কট রয়েছে। সে সঙ্কট নিরসনে ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের কাজ করতে হবে।

বাংলাদেশের ডেইরি, মৎস্য ও পোষাপ্রাণী সেক্টরের সমস্য ও এর প্রতিকার, কারিগরি উন্নয়ন এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা পুরণে ব্যাপকভাবে এ মেলা ব্যাপক অবদান রাখবে বলে আয়োজদের আশা। মেলায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের খ্যাতনামা দেশী-বিদেশী ৫৫ টি প্রতিষ্ঠানের ১৪০ টি স্টল রয়েছে, এসব স্টলে এ্যানিমেল হেল্থ সেক্টরে ব্যবহৃত পণ্য ও উপকরনাদি উপস্থাপন করা হচ্ছে। আয়োজকরা আশা করছেন, দর্শনার্থীরা নতুন উপকরণের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ফলে পরোক্ষভাবে আহরিত জ্ঞান দ্বারা উদ্যোক্তা এবং খামারীগণও উপকৃত হবেন। ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯ টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত এ মেলা চলবে। আয়োজক কমিটি মেলার সঙ্গে সেমিনারেরও আয়োজন করেছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দেশী-বিদেশী ডেইরি, মৎস্য ও পোষাপ্রাণী বিজ্ঞানীরা সেমিনারে অংশ নেবেন। সেমিনারে ৪৬ টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। মেলার স্পন্সর হিসাবে রয়েছে এসিআই এ্যানিমেল হেল্থ এবং একমি ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, গোল্ড স্পন্সর হিসেবে রেনটা লিমিটেড, ইন্টার এগ্রো বিডি লিমিটেড।