২৪ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিডনির মেলব্যাগ ॥ এখনও পাকি আঁধার

  • অজয় দাশগুপ্ত

এমন একটা সময় পার করছি আমরা যেখানে সবকিছু মিলাতে চাইলেও মেলানো কঠিন। এই দেশ এই জাতি কিভাবে মুক্তি পেয়েছিল সেটা আমাদের সবার জানা। পাকিদের টার্গেট বা হিটলিস্টে আওয়ামী লীগের পরই ছিল হিন্দুদের নাম। এদেশে যারা প্রতিক্রিয়াশীল রাজনীতি করে তারা এটা জানে। তারা পাকি বা খান সেনাদের হিন্দু রমণীদের ভোগ ও পুরুষদের জীবননাশের জন্য উস্কে দিত। যাদের আমরা রাজাকার বলি এরা তারা। ব্যাপারটা এমন এক জায়গায় চলে গিয়েছিল যে, হিন্দু মানে আওয়ামী লীগ ও ভারতমুখী। সে অপবাদ বা ষড়যন্ত্রের সুফলে বিএনপি কতবার দাও মেরেছে। শাসন করার সুযোগ পেয়েছে তাও আমাদের অজানা নয়। কিন্তু এই ফাঁকে তারা যে আরও কিছু বিষয় বদলে ফেলেছে বা বদলে নিয়েছে সেটা এখন বেশ প্রকাশ্য।

রায় বাবু এখন বিএনপির মুখর নেতা। তিনি মাঝে মধ্যে এমনসব কথা বলেন, শুনলে পাকিদেরও বুক কেঁপে উঠবে। তারা হয়ত জানে না বাংলাদেশের রাজনীতিতে এখন এমন নেতাও আছে যার জন্ম পরিচয় হিন্দু হলেও তার মনে নিজের মা-বোনের ইজ্জত বা জীবনের চেয়েও বড় রাজনীতি। যাকে জিন্দা পেলে পাকসেনা বা রাজাকাররা ধুতি পাজামা খুলে পরিচয় পরখ করত সেই তিনি এখন শহীদদের নিয়ে মশকারা করেন। যারা জীবন দিয়ে তাকে এদেশে মাথা উঁচু করে বাঁচতে দিয়েছেন রাজনীতিতে নেতা বনার সুযোগ দিয়েছেন তাদের প্রতি তার এই রাগ বা বিরাগ মনে করিয়ে দেয় পচনশীল সমাজে সবকিছু এখন হয় মৃত নয়ত গলেপচে বিকৃত।

ক’দিন আগে আমি ছিলাম লাহোর থেকে ২২ কিলোমিটার আর অমৃতসর থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে। ওয়াগা সীমান্তে বিকেলের পড়ন্ত আলোয় দুদেশের পতাকা বদল ও সেনাদের পতাকা নামানোসহ প্যারেড দেখতে সেখানে সমবেত মানুষের ভিড়ে আমি দেখেছি কাকে বলে উত্তেজনা।

প্রতিদিন দেশী-বিদেশী মানুষের ভিড়ে সেদিন কিছুটা লাকি ছিলাম। আলাদা গ্যালারিতে বসে কাছ থেকে দেখেছি কেউ কাউকে ছাড় না দেয়ার প্রতিযোগিতা। এদিকে ভারতমাতা কি জয় ওদিকে নারায়ে তাকবির। আমি কোনটিতে শামিল হইনি। বরং এদিকে পতাকা নিয়ে গান গেয়ে ছুটে বেড়ানো তরুণীরা আর ওদিকে সালাম দিয়ে হাত কপালে লাগিয়ে পুরো বিকেল নেচে বেড়ানো শিশুটি আমাকে ভাবিয়েছে সারারাত। এরা কি দেখছে কি জানছে?

পাকি-শয়তানের দিক থেকে যা ভেসে আসছিল তাতে উদারতা মানবতার কোন চিহ্ন ছিল না। মনে মনে ভাবছিলাম কত বড় ভাগ্যবলে আমরা আলাদা হয়ে নিজেদের দেশ পেয়েছি। সুযোগ মিলেছে নতুনভাবে মাথা তুলে বাঁচার। সে জায়গাটা নষ্ট করার অধিকার নেই রাজনীতির। রায় বাবুরা এজেন্ট। তারা চায় আমরা ঝগড়ায় ঝামেলায় দিন কাটাই। বলে কিনা শাসনে এলে হিসাব করে শহীদের তালিকা বানাবে। এমন লোকের শাস্তি জাতি ও দেশের জন্য জরুরী।