১৭ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নেট সুবিধা

ইন্টারনেট এখন কেবল যোগাযোগেরই মাধ্যম নয়। এর সঙ্গে সংযুক্ত থাকা মানে পৃথিবীর সব সার্ভারের সঙ্গে নিজেকে যুক্ত রাখা। বিশাল এক ভার্চুয়াল জগতে ঘুরে বেড়ানো। জগতকে নিজের মুঠোয় নিয়ে আসার এক মহাদিগন্ত। শিক্ষা, খাদ্য, বস্ত্র, চিকিৎসা, বাসস্থান যেমন মানুষের মৌলিক অধিকার তেমনি কম খরচে বা বিনা ব্যয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাও মানুষের মৌলিক অধিকার হওয়া উচিত। বিশ্বের অফুরন্ত জ্ঞানভা-ারের সঞ্চয় আমানত হলো ইন্টারনেট। কিন্তু এই সঞ্চয় আমানত এমনই যে, তথ্য এখানে থাকে স্থায়ীভাবে। একই সঙ্গে মূল চারটি ভূমিকা পালন করে নেট। এটি একাধারে নেটওয়ার্ক বা কার্যক্রম, একটি মিডিয়াম বা মাধ্যম, মার্কেট বা বাজার এবং লেনদেন বা ট্রানজেকশনের মঞ্চ বা প্ল্যাটফর্মের ভূমিকা পালন করে থাকে। বিভিন্ন রকম কাজে যোগাযোগের মাধ্যমের ভূমিকা পালন করে ইন্টারনেট। বিভিন্ন রকম কাজে যোগাযোগের মাধ্যমের ভূমিকা পালন করে নেট। এই কাজের কার্যত কোন সীমা-পরিসীমা নেই। পণ্যের বিপণন থেকে শুরু করে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করে। প্রত্যন্ত কিংবা গ্রামীণ অঞ্চলে প্রযুক্তির ছোঁয়া যেভাবে লেগেছে, দশককাল আগে দেশের অনেক শহরাঞ্চলে ছিল তা অচিন্তনীয়। প্রযুক্তির সেবা এখন প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভোগ করছে দেশের নাগরিক সাধারণের এক বিরাট অংশ। তথ্যপ্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতা বা তাকে কাজে লাগিয়ে কর্মযজ্ঞ পরিচালনার ক্ষেত্র এখন এতই প্রসারিত যে, এছাড়া বর্তমান বিশ্ব এক রকম অচলই বলা যায়। উৎপাদন ও সেবা ক্ষেত্রের প্রতিটি স্তরে প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।

ইন্টারনেট এই তথ্যপ্রযুক্তিরই অংশ। বর্তমান সরকার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেয়ায় গ্রামের মানুষ ও শহরের মানুষের মধ্যে পার্থক্য অনেকাংশেই কমে গেছে। গ্রাম পর্যায়ে নেট সুবিধা ব্যাপক সম্প্রসারিত হয়েছে। গ্রামের মানুষ যা থেকে ৪৫ ধরনের সেবা পেতে পারেন। গ্রাম পর্যায়ে ডিজিটাল সেন্টার স্থাপনের কাজ চলছে। সেবাদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি করছে এই সেন্টার। ই-মেইল, ইন্টারনেট ব্রাউজিং, ভিডিও কনফারেন্স, বিভিন্ন পরীক্ষার ফল, জেএসসি পরীক্ষার্থীদের ডাটাবেজ তৈরি, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, সরকারী ফর্ম ডাউনলোড, অনলাইনে বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবেদন, জমির পর্চার আবেদন, চারিত্রিক ও ওয়ারিশ সনদপত্রের আবেদন, পাসপোর্টের আবেদন ও ফি জমা, চাকরির আবেদন, স্থানীয় জেলের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিচয়পত্র, বিদেশ গমনেচ্ছুদের রেজিস্ট্রেশন, ভিজিডি-ভিজিএফ কার্ড ডাটাবেজ এবং প্রিন্টিং, স্ক্যানিং ও ফটোকপিসহ প্রযুক্তিগত নানা সুযোগ-সুবিধা পাওয়া যাবে এই সেন্টার থেকে। প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ মানুষ এখন শহরে না গিয়ে সময়, শ্রম ও যাতায়াত ভাড়া বাঁচিয়ে খুব সহজেই তা এ সেন্টার থেকে যার যার প্রয়োজন মেটাতে পারবেন। অনেকেই এ সেন্টারের মাধ্যমে পল্লী বিদ্যুতের নতুন বা পুরনো বিল পরিশোধ করছেন। ভিডিও চ্যাটিংয়ের মাধ্যমে বিদেশে অবস্থানরত মানুষের নিয়মিত যোগাযোগ চলছে দেশের বাড়িতে পরিবার-পরিজনের সঙ্গে। উদ্যোক্তারাও এসব সেবা দিয়ে প্রতিদিন আয় করছেন ভাল অঙ্কের অর্থ। বেকারত্ব দূর হচ্ছে এখানে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে। গ্রামের দরিদ্রজনগোষ্ঠী এখন অল্প সময়ে ও কম ব্যয়ে নিয়মিত সেবা পাচ্ছেন। এর ফলে গ্রাম পর্যায়ে মানুষের জীবনযাত্রার মানও যথেষ্ট উন্নত হয়েছে। মূলত গ্রামীণ মানুষের জীবনধারা প্রায় পাল্টে দিয়েছে ইউনিয়ন তথ্যসেবা কেন্দ্রগুলো। তথ্যপ্রযুক্তির আলো গ্রাম পর্যায়ে ছড়িয়ে দিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন পূরণে ইন্টারনেট সেবা কেন্দ্রগুলো সোনালি দিগন্তের দিকে নিয়ে যাচ্ছে মানুষকে। নেট সুবিধা বাংলার শহর ও গ্রামের তফাতটুকু মুছে দিয়ে এক নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করুক- সেই প্রত্যাশা।