১৮ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ইইউ সংস্কারে ক্যামেরনের প্রচেষ্টা এখন কঠিন সময়ে

  • ব্রাসেলসে দুই দিনের সম্মেলন শুরু

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) তার সংস্কার আনার প্রস্তাবের পক্ষে সমর্থন আদায়ের চেষ্টায় এখন এক কঠিন সময়ে পৌঁছেছে বলে দেশটির সরকারী এক কর্মকর্তা এ কথা জানিয়েছেন। ব্রাসেলসে বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া দুই দিনের এই ইইউ সম্মেলনে একটি সমঝোতা চুক্তি হবে বলেই আশা করছেন ক্যামেরন। কারণ এতে ইইউতে থাকা না থাকা প্রশ্নে আগামী জুনের দিকে যুক্তরাজ্যে গণভোট দেয়ার পথ প্রশস্ত হবে। খবর বিবিসি ও ওয়েবসাইটের।

গত কয়েক মাস ধরেই ব্রিটিশ কর্মকর্তারা ইইউভুক্ত অন্যান্য দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে আসছেন। এ বিষয়ে ক্যামেরন নিজে ২০টি দেশে সফর করেছেন। এদিকে ইইউ কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড টাস্ক বলেছেন, দুই দিনের এ সম্মেলনে নেতাদের সামনে এ ব্যাপারে আলোচনা করা ছাড়া কোন উপায় নেই। প্রথমদিকে যুক্তরাজ্যের ইইউ ত্যাগের খসড়া প্রস্তাবটি তুচ্ছ বলে বাতিল করে দেয়া হয়েছিল। টাস্ক বলেছেন, সম্মেলনে চুক্তিতে পৌঁছার কোন গ্যারান্টি নেই। কারণ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে কঠিন মতভেদ রয়েছে। তিনি বলেন, আলোচনা এখন একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে আলোচনা ব্যর্থ হলে ইইউ ও যুক্তরাজ্য- উভয়ই পরাজিত হবে। আর যারা আমাদের বিভক্ত করতে চাইছেন যারা, তাদের ভূ-রাজনৈতিক জয় হবে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দফতর ডাউনিং স্ট্রিটের মুখপাত্র বলেছেন, এ বিষয়ে ক্যামেরন বুধবার টাস্কের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন এবং এ বিষয়ে ভাল অগ্রগতি হয়েছে বলে উভয়ে সম্মত হয়েছেন। এছাড়া ক্যামেরনের সঙ্গে মঙ্গলবার এক বৈঠকে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের (ইপি) তিনটি প্রধান গ্রুপের নেতারা যুক্তরাজ্যের প্রস্তাবিত ইইউ চুক্তির বিষয়ে ‘সুস্পষ্ট সমর্থন’ ব্যক্ত করেছেন। কিন্তু ক্যামেরন যুক্তরাজ্যে আসা ইইউ দেশগুলোর অভিবাসীদের ভাতাসহ সুযোগ-সুবিধা কর্তনের যে পরিকল্পনা করছেন, তা নিয়ে সমস্যা হতে পারে। পূর্ব ইউরোপের চারটি দেশ এরই মধ্যে এমন উদ্যোগের বিরোধিতা করেছে। পোল্যান্ড, সেøাভাকিয়া, হাঙ্গেরি ও চেকপ্রজাতন্ত্র মঙ্গলবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। এদিকে ক্যামেরনের দাবির সমর্থনে জামার্নির চ্যান্সেলর এ্যাঞ্জেলা মেরকেল বলেছেন, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দাবির বেশিরভাগই সমর্থনযোগ্য ও প্রয়োজনীয়।

দু’দিনের এ সম্মেলনে যুক্তরাজ্যের সংস্কার প্রস্তাবই প্রধান ইস্যু। এছাড়া অভিবাসী সঙ্কটসহ বেশ কয়েকটি ইস্যুতে আলোচনা করবেন ইইউ নেতারা। যুক্তরাজ্য ইস্যুতে শুক্রবার সকালেও আবার আলোচনা করবেন। টাস্ক বলেছেন, তারা আইনত বাধ্যতামূলক ও অপরিবর্তনীয় চুক্তি উদ্ভাবনের চেষ্টা করছেন। সূত্রগুলো বলেছে, চুক্তি হয়ে গেলে ক্যামেরন শুক্রবার সন্ধ্যায় তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বৈঠকে বসতে পারেন। তবে এবারের সম্মেলনে ক্যামেরনের প্রস্তাবটি পাস না হলেও খুব একটা কিছু যায় আসবে না বলে মন্তব্য ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমগুলোর। কারণ এরপরও তিনি এ ব্যাপারে ইইউ সম্মেলনে আলোচনার সুযোগ পাবেন। ফেব্রুয়ারির সম্মেলনে ব্যর্থ হলে আগামী ১৭ মার্চ অনুষ্ঠিতব্য অপর সম্মেলনে তিনি প্রস্তাবটি তুলতে পারবেন। সে সময় ব্যর্থ হলে ২৩ জুনের সম্মেলনেও এ নিয়ে আলোচনা করতে পারবেন।