২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চীনের প্রতি সতর্কবাণী যুক্তরাষ্ট্র ও ইইউর

  • সমুদ্র আইন নিয়ে আন্তর্জাতিক রুলিং মেনে নিন

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) চীনকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, দক্ষিণ চীন সাগরের ভূখ- নিয়ে ফিলিপিন্সের সঙ্গে চীনের বিরোধের ওপর আন্তর্র্জাতিক আদালতের আগামী রুলিংয়ের প্রতি বেজিংয়ের সম্মান দেখানো উচিত। চলতি বছরের শেষদিকে এ রুলিং দেয়া হতে পারে।

অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বলেছেন, বিতর্কিত দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিকীকরণের ব্যাপারে ওয়াশিংটন অত্যন্ত উদ্বিগ্ন। চীন এ সাগরে এক বিতর্কিত দ্বীপে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণান্ত্র মোতায়েন করেছে বলে যে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে তার প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন। খবর ওয়েবসাইট ও বিবিসি অনলাইনের।

চীন দৃশ্যত দক্ষিণ চীন সাগরের পুরোটাই দাবি করছে এবং বিরোধের শুনানিকে হেগের পারমান্যান্ট কোর্ট অব আরবিট্রেশনের কর্তৃত্ব বাতিল করে দেয়, এমনকি যদিও মামলাটি জাতিসংঘের যে সমুদ্রবিষয়ক আইন কনভেনশনের ওপর ভিত্তি করে দায়ের করা হয়েছে সেটি অনুমোদন করেছিল চীন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক মার্কিন প্রতিরক্ষা উপ-সহাকারী মন্ত্রী এ্যামিসিএরাইট বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) এবং অস্ট্রেলিয়া, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো মিত্র দেশগুলোকে এটা স্পষ্ট করে দিতে অবশ্য প্রস্তুত থাকতে হবে যে, আদালতের রুলিং মেনে নেয়া বাধ্যতামূলক এবং মামলায় হেরে গিয়ে রুলিংয়ের প্রতি সম্মান না দেখালে তার মূল্য দিতে হবে চীনকে। তিনি ওয়াশিংটনের সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক এ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে এক সেমিনারে বলেন, আমাদের খুবই সোচ্চার হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দক্ষিণ চীন সাগরের ওপর দাবিদার ফিলিপিন্স ও আসিয়ানভুক্ত অন্যান্য রাষ্ট্রের পাশে দাঁড়াতে হবে। আমাদের বলতে হবে, ওইটা আন্তর্জাতিক আইন। এটা অতীব গুরুত্বপূর্ণ এবং সকল পক্ষের ওপর বাধ্যতামূলক। এক বিরোধপূর্ণ দ্বীপে চীনের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের রিপোর্ট প্রত্যাখ্যান করে চীন বলেছে, তা এক প্রতারণা। চীন বলেছে, আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে দেশটির। পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেরির এক মুখপাত্র বলেছেন, চীন প্যারাসেল দ্বীপপুঞ্জের উডি বা ইয়োংশিং দ্বীপে বিমানবিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে, উপগ্রহচিত্র থেকে তা নিশ্চিত হওয়া গেছে। চীনা ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনে এ অঞ্চলে উত্তেজনা গুরুতর বৃদ্ধি পেয়েছে। কেরি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে চীনের সঙ্গে অত্যন্ত আন্তরিক সংলাপের প্রত্যাশা করে। তিনি বলেন, প্রতিদিন যে সকল প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে তাতে বিভিন্ন ধরনের উত্তেজনা বেড়ে চলছে। কিন্তু চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই বলেছেন, ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েনের রিপোর্ট পাশ্চাত্য সংবাদমাধ্যমের আবিষ্কার। তিনি নিজ দেশের পক্ষ নিয়ে বলেন, চীনা সামরিক বাহিনীর সামরিক সদস্যঅধ্যুষিত দ্বীপগুলোতে সীমিত ও প্রয়োজনীয় আত্মরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং তা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী নেয়া হয়েছে।

চীন দক্ষিণ চীন সাগরের ব্যাপক এলাকা ভরাট করে তুলছে। চীন বলছে, তা অইনসম্মত এবং বেসামরিক কাজের জন্য। কিন্তু এ সাগরের ওপর দাবিদার অন্যান্য রাষ্ট্র চীনের এ কর্মকা-ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে এবং সামরিকীকরণের ব্যাপারে ক্রমেহ উদ্বেগ বাড়ছে তাদের মধ্যে।