২১ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাবনায় এ্যাসিডে বিপন্ন জনস্বাস্থ্য

  • গোয়েন্দা সংস্থার উদ্বেগজনক রিপোর্ট

নিজস্ব সংবাদদাতা, পাবনা, ১৮ ফেব্রুয়ারি ॥ জেলায় হাত বাড়ালেই এ্যাসিড মিলছে। এ্যাসিড ক্রয়-বিক্রয় ব্যবহারে সরকারী নিয়ম কেউ মানছেন না। অনিয়ন্ত্রিত এ্যাসিড ব্যবহার একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য বিপণœ করছে তেমনি খুব সহজেই ভয়ঙ্কর এ্যাসিড চলে যাচ্ছে দুর্বৃত্তদের হাতে। একটি গোয়েন্দা সংস্থা সরকারী সংশ্লিষ্ট দফতরে এ বিষয়ে উদ্বেগজনক রিপোর্ট পাঠিয়েছে বলে জানা গেছে।

সূত্র মতে, জেলায় ফার্মাসিউটিক্যাল, ব্যাটারি কোম্পানি, ক্লিনার প্রডাক্ট কারখানাসহ ৩-৪টি স্বর্ণশিল্পে নাইট্্িরক ও সালফিউরিক এ্যাসিড ব্যবহারে সরকারীভাবে লাইসেন্স রয়েছে। কিন্তু লাইসেন্স ছাড়াই জেলায় প্রায় ৮শ’ স্বর্ণশিল্পে নাইট্রিক ও সালফিউরিক এ্যাসিড অবাধে ব্যবহার হচ্ছে। সোনা খাঁটি ও পালিশের কাজে এ এ্যাসিড ব্যবহৃত হয়ে থাকে। শুধুমাত্র পাবনা সদর উপজেলায় দেড় শতাধিক স্বর্ণশিল্পে লাইসেন্স ছাড়াই এ্যাসিড ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে জেলায় ৫-৬টি এ্যাসিড বিক্রির সরকারী লাইসেন্সধারি দোকান রয়েছে। এসব দোকানে শুধুমাত্র এ্যাসিড ব্যবহারের লাইসেন্সপ্রাপ্তদের কাছেই এ্যাসিড বিক্রির নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। এ্যাসিড বিক্রেতাদের রেজিস্ট্রার, হিসাবের খাতাপত্র, ক্যাশমেমো, প্রশাসনের নিয়মিত যাচাই-বাছাইয়ের নিয়ম থাকলেও তা দীর্ঘকাল কেউ পালন করছে না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানিয়েছে।

২০০২ ও ২০০৪ সালের এ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ আইনের তদারকি না থাকায় জেলায় এ্যাসিড অবাধে ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহার হচ্ছে। যে কেউ টাকা দিলেই তার কাছে বিক্রেতারা এ্যাসিড ধরিয়ে দিচ্ছে। এ সুযোগে দুর্বৃত্তদের হাতে সহজেই এ্যাসিড পৌঁছে যাচ্ছে। লাইসেন্সধারী এ্যাসিড ব্যবহারকারীর এ্যাসিড মজুত, ব্যবহার, হিসাবরক্ষণ, রেজিষ্ট্রার, হিসাবের খাতা নিয়মিত জেলা প্রশাসনের তদারকীর সরকারী বিধান থাকলেও তাও দীর্ঘকাল করা হচ্ছে না। সরকারী নিয়মে স্বর্ণশিল্পে এ্যাসিড ব্যবহারের জন্য কারখানায় বক্স করে পাইপের মাধ্যমে ৫০-৬০ ফিট উচ্চতায় ধোঁয়া বের করার নিয়ম থাকলেও তাও কেউ মানছেন না। প্রতিদিন প্রকাশ্যে শহরের সোনাপট্টি, তাঁতি মার্কেটে রাস্তার ধারে বা ভিতরে অবাধে নাইট্রিক ও সালফিউরিক এ্যাসিড ব্যবহার হচ্ছে। এ্যাসিডের লাল-হলুদ বিষাক্ত ধোঁয়া বাতাসে মিশে যাওয়ায় শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের ক্যান্সারসহ নানা রোগের সৃষ্টি হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাবনা স্বর্ণশিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আমজাদ হোসেন এ্যাসিড অপব্যবহারের সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, প্রশাসনের কড়াকড়ি ব্যবস্থার মাধ্যমেই এ সমস্যার মোকাবেলা করা যেতে পারে। জেলা প্রশাসক রেখা রানী বালো কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানিয়েছেন।