২০ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সুন্দরবনে আধিপত্য নিয়ে বন্দুকযুদ্ধ ॥ ভাসতে দেখা গেছে ৩ লাশ

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সুপতি এলাকায় দুর্ধর্ষ বনদস্যু মাস্টার ও জাহাঙ্গীর বাহিনীর মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঘণ্টাব্যাপী বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। বন্দুকযুদ্ধ শেষে জাহাঙ্গীর বাহিনী নিয়ন্ত্রিত ওই এলাকা মাস্টার বাহিনী নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। এদিকে, বন্দুকযুদ্ধের পর ওই এলাকার ঝাপা নদীতে তিনটি লাশ ভাসতে দেখা গেছে এবং বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীর গুরুতর আহত হয়েছে। বৃহস্পতিবার বন থেকে ফিরে আসা জেলে ও বনজীবীদের সূত্রে এ খবর জানা গেছে।

সূত্র জানায়, বুধবার রাতে বনদস্যু মাস্টার বাহিনীর সদস্যরা সুপতি ও চাঁদপাই স্টেশনের মধ্যবর্তী কোপিলমুনি ও চরাপুটিয়া এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিতে সেখানে যায়। তখন জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা মাস্টার বাহিনীর ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। মাস্টার বাহিনী পাল্টা গুলি চালায়। এতে দু’দলের সদস্যরা হতাহত হয়। হতাহতের সংখ্যা জেলেরা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি। তবে, সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সুপতি স্টেশনের ঝাপা নদীতে তিন বনদস্যুর লাশ তারা ভাসতে দেখেছেন বলে জানান। সুন্দরবনের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের কোন স্টেশন কিংবা টহল ফাঁড়ি এবং মংলা কোস্টগার্ড বুধবার রাত ৯টা পর্যন্ত নদীতে ভাসতে থাকা এসব লাশ খুঁজে পায়নি বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এদিকে, সুন্দরবনের চাঁদপাই স্টেশন কর্মকর্তা গাজী মতিউর রহমান সুন্দরবনে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী ও মাস্টার বাহিনীর এ বন্দুকযুদ্ধের খবরটি নিশ্চিত করেছেন। শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জের সুন্দরবন সংলগ্ন লোকালয়ের একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওই বন্দুকযুদ্ধে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর তিন সদস্য নিহত ও বাহিনী প্রধান জাহাঙ্গীর গুরুতর আহত হয়েছে। বাহিনী প্রধানকে বাঁচাতে তিন বনদস্যুর লাশ ফেলে রেখে আহত জাহাঙ্গীরকে নিয়ে বাহিনীর অপর সদস্যরা পিছু হটে যায়। পরে তারা চাঁদপাই রেঞ্জের সুন্দরবন সংলগ্ন মংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে বলে সূত্র জানায়। তবে, ওই তিনটি লাশের নাম পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা কামাল উদ্দিন আহম্মেদ জানান, বুধবার সন্ধ্যায় জেলে ও বনজীবীদের মাধ্যমে সুন্দরবনের ঝাপা নদীতে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যদের লাশ ভেসে থাকার খবর জানান পর থেকে কোপিলমুন, সুপতি, চরপুটিয়া, শেলাসহ ওই এলাকার নদী ও খালে লাশ খোঁজা হচ্ছে। কিন্তু লাশের কোন সন্ধান এখনও পাওয়া যায়নি। চাঁদপাই রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা গাজী মতিউর রহমান জানান, ভাটার সময় বঙ্গোপসাগর উপকূলে ভাসতে থাকা লাশ সাগরে নেমে যেতে পারে। জোয়ারের সময় তার অধীনস্ত সকল বন অফিসে ভেসে থাকা লাশ সুন্দরবনে উঠে এলে তা উদ্ধার করে পুলিশকে খবর দিতে বলা হয়েছে। মংলা কোস্টগার্ডের অপারেশন স্টাফ অফিসার লে. কামান্ডার ফজলুল করিম জানান, এ বিষয়ে তাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কোন খবর নেই, তবে, খোঁজখবর নেয়া হচ্ছে।

পার্বতীপুরে চার বছর বয়সী মুক্তিযোদ্ধা?

শ আ ম হায়দার, পার্বতীপুর ॥ অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে দিনাজপুরের পার্বতীপুরে শিশু-কিশোর বয়সেও গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (বাজেট) নূর আলম স্বাক্ষরিত পরিপত্র অনুযায়ী একাত্তরের ২৬ মার্চ যাদের বয়স ১৩ বছর ছিল, তারা মুক্তিযোদ্ধা দাবি করতে পারবে। অথচ ৩৫৩৫ গেজেটধারী মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের এসএসসি সার্টিফিকেট অনুযায়ী জন্ম তারিখ ১৯৬৭ সালের ৩০ মার্চ। এ অনুযায়ী মহান মুক্তিযুদ্ধকালীন তার বয়স ছিল ৩ বছর ১১ মাস ২৬ দিন। তিনি পার্বতীপুর শহরের মুক্তিযোদ্ধা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। এই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ মালেক তার মিজানুরের জন্ম তারিখের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। প্রশ্ন করলে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন তা তিনি নিজেও জানেন না। মুক্তিযোদ্ধার গেজেটভুক্ত হলেও লজ্জায় এ পরিচয় কোথাও দেন না। এমনকি ভাতাও উত্তোলন করেন না বলে জানিয়েছেন।