২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শ্যালা নদীতে নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ মন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট ॥ সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানের নির্দেশে সোমবার সকাল থেকে নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এদিকে, সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে কয়লাবোঝাই লাইটার জাহাজডুবির ঘটনায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করেছে বন বিভাগ। বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিএ’র খুলনার উপ-পরিচালক (সংরক্ষণ ও পরিচালন বিভাগ) আশ্রাফুজ্জামান জানান, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান শ্যালা নদীতে সকল প্রকার বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন। এ নির্দেশের পর সোমবার সকাল থেকে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ শ্যালা নদীতে বাণিজ্যিক নৌযান চলাচল সাময়িক বন্ধ করেছে। এ সিদ্ধান্ত কার্যকরে কোস্টগার্ড, প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে জানানো হয়েছে। এখন থেকে শ্যালা নদীর পরিবর্তে মংলা-ঘষিয়াখালী নৌপথটি ব্যবহৃত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে, সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে কয়লাবোঝাই লাইটার জাহাজডুবির ঘটনায় পাঁচ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ মামলা করেছে বন বিভাগ। রাতে শরণখোলা থানায় কোস্টারের মালিকের বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের এ মামলা করেন ধানসাগর স্টেশন কর্মকর্তা সুলতান মাহমুদ। মামলায় নৌযানটির মালিক ও মাস্টারসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে। এরা হলেনÑ কোস্টার সি হর্স-১ এর মালিক মনিরা কবির, কয়লা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রামের হালিশহরের সমতা শিপিং ট্রেডার্সের মালিক আজিজুর রহমান, ব্যবস্থাপক জামাল হোসেন, কোস্টারের মাস্টার সিরাজুল ইসলাম মোল্লা, চালক ইসমাইল ফরাজী এবং সুকানি সাইদুল ইসলাম।

অপরদিকে, বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের শ্যালা নদীতে কয়লাবোঝাই কোস্টার জাহাজডুবির ঘটনা তদন্তে বন বিভাগের পর এবার বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সোমবার জেলা প্রশাসক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোমিনুল রশিদকে প্রধান করে তিন সদস্যের এ কমিটি গঠন করা হয়। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জাহাজডুবির কারণ ও কোস্টারে থাকা কয়লায় সুন্দরবনের জলজপ্রাণী ও পরিবেশের কী ক্ষতি হতে পারে তা নিরূপণ করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এ কমিটিতে বিআইডব্লিউটিএ ও বন বিভাগের একজন করে প্রতিনিধি রয়েছেন। এর আগে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) কামাল উদ্দিন আহমেদকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

তবে শ্যালা নদীর কলাভোলা এলাকায় এক হাজার ২৩০ মেট্রিক টন কয়লা নিয়ে লাইটার জাহাজডুবির দু’দিন পরও উদ্ধারকাজ শুরু হয়নি। কবে নাগাদ শুরু হবে তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কর্মকর্তারা। এতে লাইটার জাহাজে থাকা জ্বালানি তেল ধীরে ধীরে জোয়ার-ভাটার পানিতে ছড়িয়ে পড়ছে। ডলফিন প্রজাতির অভয়াশ্রম ও মাছের প্রজননক্ষেত্র বলে পরিচিত শ্যালা নদীতে প্রাণবৈচিত্র্যের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন পরিবেশবিদরা।

বিআইডব্লিউটিএ’র খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক জানান, বিআইডব্লিউটিএ’র নৌপথের অতিরিক্ত পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনাকবলিত জাহাজটি প্রায় ৩০ ফুট পানির নিচে আছে। খুলনা ও বরিশালে যে উদ্ধারযান রয়েছে (নির্ভীক) তা দিয়ে ডুবন্ত কোস্টারটি উদ্ধার করা সম্ভব নয়। এজন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে কয়লা নিয়ে যশোরের নওয়াপাড়ায় যাওয়ার পথে শনিবার বিকেলে সি হর্স-১ নামের নৌযানটির তলা ফেটে গেলে সেটি সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের শ্যালা নদীতে ডুবে যায়। কোস্টারডুবির পর রবিবার রাতেই জাহাজের মাস্টার সিরাজুল ইসলাম শরণখোলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৪ সালের ৯ ডিসেম্বর এই নদীতে ওটি সাউদার্ন স্টার-৭ নামে একটি অয়েল ট্যাঙ্কার ডুবে যায়। পরে এই নৌপথটি সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল। তবে মংলা বন্দরের বিকল্প নৌপথ মংলা-ঘষিয়াখালী বন্ধ থাকায় কিছুদিনের মাথায় শ্যালা নৌপথটি পুনরায় চালু করে বিআইডব্লিউটিএ। এর পর থেকে সুন্দরবনের এই নৌপথটিতে যান চলাচল বন্ধ করতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পরিবেশবাদী সংগঠন দাবি জানিয়ে আসছে।

শ্যালা নদীতে যান চলাচল বন্ধের সুপারিশ সংসদীয় কমিটির ॥ সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল চালু করার মাধ্যমে শ্যালা নদীতে নৌ চলাচল স্থায়ীভাবে বন্ধ করার সুপারিশ করেছে পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি। গত বছর শ্যালা নদীতে তেলবাহী নৌযান দুর্ঘটনায় ফার্নেস অয়েল ছড়িয়ে পড়ার পর সুন্দরবনের পরিবেশ রক্ষায় ওই নদীতে নৌযান চলাচল বন্ধ করার সুপারিশ করে কমিটি। শনিবার শ্যালা নদীতে কয়লাবাহী জাহাজডুবির ঘটনায় আবারও এ সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি।

রবিবার কমিটির বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ হাছান মাহমুদ। বৈঠকে কমিটির সদস্য আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব, টিপু সুলতান, মোঃ ইয়াসিন আলী এবং মেরিনা রহমান অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটা ও কর্ণফুলী নদীতে দূষণ, জলবায়ু তহবিল ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অগ্রগতিবিষয়ক আলোচনা করা হয়।