২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

উবাচ

হাসিনা ছাড়া নির্বাচন

স্টাফ রিপোর্টার ॥ মাত্র ‘একটি বাক্য’ সাম্প্রতিক রাজনৈতিক আলোচনাকে উস্কে দিয়েছে। বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালিদা জিয়া বিএনপির কাউন্সিলের দ্বিতীয় অধিবেশনের রুদ্ধদ্বার বৈঠকের বক্তৃতায় বললেন আগামী নির্বাচন হবে হাসিনা ছাড়া। তিনি সুনির্দিষ্ট করে বলেন ‘শেখ হাসিনাকে বাদ দিয়ে দেশে একটা নির্বাচন হবে।’ সাধারণত ওই বৈঠকে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা সেখানে প্রবেশের সুযোগ পান না। শুধু দলের কাউন্সিলরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন। সেখানে কোন সংবাদ মাধ্যমও ছিল না। বিএনপির নেতাকর্মীরা পরে খালেদা জিয়ার এই বক্তব্য সংবাদ মাধ্যমকে জানায়। স্বাভাবিকভাবেই দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দেয়া যে কোন বক্তৃতা একটু বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। অন্য রকম ইঙ্গিত বা বিশেষ বার্তাও দেয়। এর আগে বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে সময়ে শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা করা হয় বহুল আলোচিত ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলার ক্ষত দেশের কেউই বিস্মৃত নয়। ভাগ্যের জোরে তখন শেখ হাসিনা বেঁচে গেলেও প্রাণ হারান আইভি রহমানসহ ২৪ নেতাকর্মী। বহু মানুষ শরীরে এখনও গ্রেনেডের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই মামলার আসামি। কিভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ছাড়া আগামী নির্বাচন হবে তার কোন ব্যাখ্যা খালেদা জিয়া দেননি। বিএনপি তত্ত্বাবধায়ক পন্থায় শেখ হাসিনা আর সরকারপ্রধান থাকবেন না সেইভাবে ওই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে কিনা তাও খালেদা জিয়া বলেননি। যদিও পরে দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব একটা ব্যাখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছেন তা আদৌ খালেদা জিয়ার ব্যাখ্যা কিনা কেউই নিশ্চিত নন।

প্রজেক্ট

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভোট বা নির্বাচনকে এখন প্রকল্প বা প্রজেক্ট মনে করছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সকালে প্রথম ধাপের ৭১৭ ইউপিতে ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ কথা বলেন ফখরুল। ওই দিন ভোট শেষের আগেভাগে আগে আগে অবশ্য বিএনপি অন্তত ৫০টি ইউপির ভোট বাতিলের দাবি নিয়ে নির্বাচন কমিশনে (ইসি) যায়। তবে মাত্র ৭১৭-এর মধ্যে ৩৮টিতে জয় নিয়ে ভোটের মাঠে থাকা বিএনপি এখন অবশ্য মনে করছেন সংখ্যাটা ৫০-এর বেশি হলে ভাল হতো।

ইউপি ভোটের প্রথম দিন সকালেই মির্জা ফখরুল বলেন, এটি নির্বাচনের নামে প্রহসন ছাড়া আর কিছু না। ‘প্রহসন’ জেনেও বিএনপির ভোটে অংশ নেয়ার কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ছাড়া বিকল্প কিছু নেই। আমরা কী করতে পারি? আমরা তো বিপ্লবী দল নই যে অন্যভাবে কিছু করব। আমরা গণতান্ত্রিক দল। আমাদের নির্বাচনে অংশ নিতে হবে। সেই নির্বাচনে আমরা অংশ নিচ্ছি।

নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিএনপি নেতা ফখরুল। আমাদের নেতাকর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে যেভাবে আগ্রহের সঙ্গে এসব নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, একইসঙ্গে সরকারী দলের সন্ত্রাসীরা যেভাবে ত্রাস সৃষ্টি করে ফল ছিনিয়ে নিচ্ছে তাতে সরকার যে তথাকথিত মুখোশ পরে আছে তা উন্মোচিত হচ্ছে। বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে কখনই নির্বাচন ‘সুষ্ঠু’ হবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নালিশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপিকে বাংলাদেশ নালিশ পার্টি আখ্যা দিয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, তাদের কাজই হচ্ছে নালিশ করা। আমি অনুরোধ করব আপনাদের নালিশের বাক্স বন্ধ করুন।

বিএনপিতে দলের চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার ‘একক ক্ষমতা’ ও দলটির সর্বশেষ কাউন্সিল নিয়ে মন্তব্য করেন এই আওয়ামী লীগ নেতা। হাছান মাহমুদ বলেন, এতদিন খালেদা জিয়া চাইলে কমিটি ভেঙ্গে দিতে পারতেন। আর এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে উনাকে (খালেদা জিয়া) চাইলেই কমিটি গঠন করারও ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ খালেদা জিয়াকে এখন সম্রাজ্ঞীর মতো ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। যে দলে কাউন্সিলের আগে নেতৃত্ব নির্বাচিত হয়, সে দলকে দিয়ে আর যাই হোক দেশের কোন উন্নয়ন সম্ভব নয়।

অতীতের যে কোন স্থানীয় নির্বাচনের চেয়ে বর্তমানে দেশের স্থানীয় নির্বাচন আরও বেশি সুষ্ঠু হচ্ছে।

এমনকি পার্শ্ববর্তী পশ্চিমবঙ্গের চেয়েও বর্তমানে আমাদের দেশের স্থানীয় নির্বাচন স্বচ্ছ ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে দেখা যাচ্ছে, বিএনপি সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন নিয়ে নানা অভিযোগ করছে।