২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দক্ষ হ্যাকার তৈরির বিজ্ঞাপন দিয়ে-

দক্ষ হ্যাকার তৈরির বিজ্ঞাপন দিয়ে-

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটের প্রেক্ষাপটে ‘দক্ষ হ্যাকার তৈরির বিজ্ঞাপন’ দিয়ে গ্যাঁড়াকলে পড়েছে সাইফুর’স কোচিং সেন্টার। ‘চোর বানানোর বিজ্ঞাপন’ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার অপরাধে সাইফুরসের বিরুদ্ধে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের আইনী ব্যবস্থা নেয়ার হুঁশিয়ারির পর সে অনুসারে কাজ শুরু হয়েছে। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দ্রুতই এ বিষয়ে এ্যাকশন হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও বইছে সমালোচনার ঝড়। দাবি উঠেছে কোচিং বন্ধেরও। এদিকে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহার করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ সাইফুরস কর্তৃপক্ষ নানা মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে তদ্বির করে রক্ষা পাওয়ার চেষ্টা করছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রবিবার জানিয়েছেন, জনমনে ব্যাপক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে শিক্ষামন্ত্রী প্রতারণার অপরাধে আইনী ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এখন সে অনুসারে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। সাইফুরসের পক্ষে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের কাছে অনেকেই তদ্বির করছেন। তারা এসে কর্মকর্তাদের বলছেন, প্রয়োজনে সাইফুরস কর্তৃপক্ষ সংবাদ সম্মেলন করে কিংবা মন্ত্রীর কাছে এসে ক্ষমা চাইতেও রাজি। আপাতত

যেন সতর্ক করে ছেড়ে দেয়া হয়। তদ্বিরের জন্য আসা ব্যক্তিরা সাংবাদিকদের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করছেন যেন এ বিষয়ে রিপোর্ট লেখা না হয়। জানা গেছে, হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাট এবং একটি শব্দের বানান ভুলে ২ কোটি ডলার রক্ষা পাওয়ার ঘটনা বাংলাদেশের গণমাধ্যমে প্রকাশের পর একটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দিয়েছিল সাইফুরস। ওই বিজ্ঞাপনের শিরোনামে বলা হয়, ‘ঊহমষরংয-এর ভুলে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৬০ কোটি টাকা হ্যাকারদের হাতছাড়া! হ্যাকিংকৃত ডলার শ্রীলংকাতে স্থানান্তরের সময় ‘ঋড়ঁহফধঃরড়হ’ শব্দকে ‘ঋধহফধঃরড়হ’ লেখাতে বিদেশী উবঁঃংপযব ব্যাংকের সন্দেহ হয়। তারা বাংলাদেশ ব্যাংককে জানালে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ এই ২০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর বন্ধ করে দেয়।’ ‘একইভাবে ইংরেজিতে দুর্বলতার কারণে গইঅ, অফিসার, খধুিবৎ (এমনকি দক্ষ হ্যাকার!) প্রভৃতি হতে হলে ৎবধফরহম, রাইটিং, ঝঢ়বধশরহম, লিসেনিং ও ংঢ়বষষরহম সবকিছুতেই ভাল হওয়া জরুরী!

বিষয়টি নিয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা শুরু হলে গেল সপ্তাহে সচিবালয়ে এক সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সাইফুরস নামে একটা বিখ্যাত কোচিং সেন্টার আছে। এই কোচিং সেন্টার একটা বিজ্ঞাপন দিয়েছে। সেই বিজ্ঞাপনে তারা বলেছে ভাল ইংরেজি না জানতে পারলে ভাল লেখাপড়া করতে পারবে না এমনকি ভাল হ্যাকারও হতে পারবে না। দেখেন, হ্যাকার হওয়ার জন্যও তার কাছে গিয়ে পড়তে হবে! বিজ্ঞাপন দিচ্ছে, এটা অবশ্যই বে-আইনী, এ ধরনের বিজ্ঞাপন তারা দিতে পারে না। আমরা তার (সাইফুরস) বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সাইফুরস এই বিজ্ঞাপন দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, তারা ভাল চোর বানাতে চাইছে। এ রকম লোকের বিরুদ্ধে যদি আমরা সোচ্চার না হই তাহলে আমরা কী করে থাকব সমাজে?

তারা আমাদের ছেলেমেয়েদের প্রলোভন দেখাচ্ছেন ভাল ইংরেজী শেখলে ভাল চোর হতে পারবা, ভাল করে হ্যাকিং করতে পারবা। চুরি শেখানোর বিজ্ঞাপন দিয়ে বলেছে ভাল চোর বানাবে। সাইফুরসের সূত্রগুলো বলছে, শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষণার পর গণমাধ্যমে বিষয়টি প্রচারের পর সঙ্কটের মুখে পড়েছেন তারা। কর্মকর্তারা পরিস্থিতি সামাল দিতে যে কোন ছাড় দিতে প্রস্তুত।

এদিকে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও প্রতারণামূলক বিজ্ঞাপন প্রচার করার কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার দাবি তুলেছেন। রবিবার ধানম-ি থেকে কামরুল ইসলাম নামে এক অভিভাবক জনকণ্ঠ অফিসে ফোন করে বলছিলেন, আমি সব চাইতে বেশি আতঙ্কিত হয়েছি ওই বিজ্ঞাপনের একদম নিচের দিকে দেয়া একটা তথ্য দেখে। সেখানে লেখা আছেÑ সাইফুরস হলো একমাত্র ভার্সিটি ভর্তি কোচিং সেন্টার, যেটা চালাচ্ছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক নামধারী এক ব্যক্তি!

রাজিব নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলছিলেন, আমি আজীবন জেনে এসেছি, চুরি করা, ডাকাতি করা, হত্যা, ধর্ষণ এই জাতীয় বিষয় থেকে বিরত থাকার জন্য ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা দেয়া হয়ে থাকে। বানান ভুল হওয়ার কারণে বাংলাদেশের টাকা হ্যাকাররা নিতে পারেনি। তাহলে কি সাইফুরস হ্যাকার বানাতে চাচ্ছে? সব জায়গায় ব্যবসা করতে চাইছে সাইফুরস। কিন্তু তাই বলে এভাবে এই বিজ্ঞাপন দিয়ে।

ওই বিজ্ঞাপন সম্পর্কে জানতে চাইলে সাইফুরস কোচিং সেন্টারের চীফ অব মার্কেটিং আশরাফ উদ্দিন জুয়েল সাংবাদিকদের বলেছেন, আমাদের অন্য কোন ইনটেনশন ছিল না। বিজ্ঞাপনে ইংরেজী শেখার গুরুত্ব বোঝাতে চেয়েছি মাত্র। শিক্ষা মন্ত্রণালয় মামলা করলে তাদের অবস্থান কী হবেÑ এ প্রশ্নে তিনি বলেন, সবাই বসে একটা সিদ্ধান্ত নেব। প্রতিষ্ঠানটির সিইও আনজাম আনছার বাজু জনকণ্ঠকে বলেন, একটি ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে। আমরা একটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহারও করেছি। এখন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। কী করতে চান? এ প্রশ্নে তিনি বলেন, আমরা নাহিদ সাহেবের (শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ) সঙ্গে দেখা করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে চাই। তিনি যদি আমাদের একটু সময় দেন।