২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পিপিপিতে মুদ্রণ শিল্পনগরী হচ্ছে মুন্সীগঞ্জে

  • আজ প্রকল্প প্রস্তাব উঠছে একনেকে

হামিদ-উজ-জামান মামুন ॥ পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) আওতায় তৈরি হচ্ছে মুদ্রণ শিল্প নগরী। ফলে রাজধানীর অলিগলিতে ছড়ানো ছিটানো মুদ্রণ শিল্পের তিন হাজার প্রতিষ্ঠানকে একই স্থানে সরানো হবে। মুন্সীগঞ্জের কেয়াইনে নির্মাণ করা হচ্ছে এ বিসিক মুদ্রণ শিল্প নগরী। প্রায় ৫০ একর জমিতে শিল্প নগরী স্থাপন করা হচ্ছে। এতে ব্যয় হবে প্রায় দুইশ কোটি টাকা। এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প প্রস্তাব আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হচ্ছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। অনুমোদন পেলে ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপর্সন শেখ হাসিনা।

প্রস্তাবিত নগরীতে ঢাকার ছাপাখানা ব্যবসায়ীদের জন্য নির্মাণ করা হবে চার ধরনের ৪১৯টি শিল্পপ্লট। এ টাইপের ছয় হাজার বর্গফুটের থাকবে ৩৭টি শিল্পপ্লট। বি টাইপের ৭৭টি, সি টাইপের ২৫৩টি এবং বিশেষ টাইপের দুই হাজার ৮১০ থেকে ৬ হাজার ৫২৫ বর্গফুটের ৫২টি প্লট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশন (বিসিক)।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত সদস্য আহাম্মদ হোসেন খান কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যেসব শিল্প প্লট তৈরি করা হবে তার মধ্যে ১০ শতাংশ মহিলা উদ্যোক্তাদের জন্য সংরক্ষণ করা হবে। তাছাড়া মুদ্রণ শিল্প নগরীটিকে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে, যা দারিদ্র্য বিমোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। এসব বিবেচনায় প্রকল্পটি একনেক অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সারাদেশে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার ছাপাখানা রয়েছে। রাজধানীর আরামবাগ, ফকিরাপুল, বিজয়নগর, পল্টন, বাংলাবাজার, বাবুবাজার, লালবাগ, সূত্রাপুর, ইসলামপুর, জিন্দাবাজার, কাঁটাবন, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তিন হাজারের মতো ছাপাখানা। দেশের চাহিদা মিটিয়ে রফতানিতে ৯ শতাংশ অবদান রাখছে এ সব ছাপাখানা। এ সব ছাপাখানার কারণে পরিবেশের বিপর্যয় হচ্ছে। জায়গার অভাবে অধিকাংশ ছাপাখানায় ঘিঞ্জি পরিবেশেই ব্যবসা পরিচালনা করছেন উদ্যোক্তারা। বিষয়টি বিবেচনায় মুন্সীগঞ্জে সব ছাপাখানা স্থানান্তরে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, যেভাবেই হোক রাজধানী থেকে সব ছাপাখানা বাইরে স্থানান্তর করা হবে। এর অংশ হিসেবে আলাদাভাবে ছাপাখানা শিল্প নগরী গড়ে তুলতে ২০১২ সালের ১০ ডিসেম্বর শিল্প মন্ত্রণালয়ের যাচাই কমিটি সিদ্ধান্ত নেয়। ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট শিল্প মালিকদের সঙ্গে সরকারের সমঝোতা স্মারক চুক্তি সই হয়। চুক্তির আওতায় মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার কেয়াইন ইউনিয়নে প্রায় ৫০ একর জমিতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপের (পিপিপি) ভিত্তিতে নির্মাণ করা হবে বিসিক মুদ্রণশিল্প নগর।

প্রস্তাব অনুযায়ী এতে শিল্পোদ্যোক্তারা মোট ব্যয়ের ৯০ শতাংশ অর্থ যোগান দেবেন। সরকারের তহবিল থেকে দেয়া হবে ১০ ভাগ অর্থ। এতে ব্যয় ধরা হয় ১৯৬ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকল্পের কাজ শেষ সরার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হচ্ছে।

শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) তৈরি করে আর্থিক ব্যয় অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। তা যাচাই-বাচাই করতে কমিশনে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা আয়োজন করে। ঝামেলা ও দীর্ঘসূত্রতা এড়াতে প্রকল্পটি পিপিপিরভিত্তিতে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়। এর ধারাবাহিকতায় দেরিতে হলেও অবশেষে আলোর মুখ দেখতে যাচ্ছে মুন্সীগঞ্জে ছাপাখানা নগরী।

পিপিপির বিষয়ে চলতি অর্থবছরের বাজেট ঘোষণার সময় অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছিলেন, পিপিপি বাস্তবায়নে গত ছয় বছরে আমি অনেক বক্তব্য দিয়েছি। কিন্তু এই ক্ষেত্রে প্রকল্প বাস্তবায়নে তেমন উল্লেখযোগ্য উদাহরণ নেই। স্বীকার করতেই হবে, পদ্ধতিগত প্রস্তুতি আমাদের দুর্বল ছিল। তবে আশার কথা হলো বিনিয়োগকৃত সম্পদ হতে প্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো সক্ষমতা বাড়াতে ইতোমধ্যেই সরকারী-বেসরকারী অংশীদারিত্ব বিল ২০১৫ জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করেছি। ফলে পিপিপি কার্যক্রমের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর হবে এবং বেসরকারী বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়বে। এসব উদ্যোগ ছাড়াও সুশাসন প্রতিষ্ঠায় নানা সংস্কার পিপিপি কার্যক্রমে গতিশীলতা আনবে।