১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ভয়-ভিতি দেখিয়ে ঋণ নেন সোহাগ ॥ না পেলেই ব্যাংকবিরোধী অপপ্রচার

ভয়-ভিতি দেখিয়ে ঋণ নেন সোহাগ ॥ না পেলেই ব্যাংকবিরোধী অপপ্রচার

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ রূপালী ব্যাংক থেকে অবৈধভাবে ঋণ না পাওয়ার কারণে একের পর এক ষড়যন্ত্র করছেন কামরুজ্জামান সোহাগ নামে এক ব্যক্তি। তিনি শুধু রূপালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেই খান্ত হননি, সোনালী ও অগ্রণী ব্যাংকের এমডির বিরুদ্ধেও বিভিন্নভাবে অপ্রপ্রচার চালাচ্ছেন। এসব ব্যাংকের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ভয়-ভিতি দেখিয়ে ঋণ নিচ্ছেন তিনি। আর ঋণ দেওয়া না হলে তিনি বিভিন্ন মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছেন। এমনকি পত্রিকাসহ একটি অনলাইনে মিথ্যা রিপোর্টও প্রকাশ করেছেন সোহাগ খান। নিজ নামে যে পত্রিকায় রিপোর্ট করেছেন ওই পত্রিকা থেকেই তার রিপোর্ট মিথ্যা ও বানোয়াট বলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য উল্টে রিপোর্টও প্রকাশ করা হয়েছে।

সূত্রে জানা গেছে, রূপালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরের্ট শাখার গ্রাহক প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফাইভ এস ট্রেডিং করপোরেশন কামরুজ্জমান সোহাগের একক মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে এসএমই ঋণের আওতায় কিছু শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকা ঋণ অনুমোদন দেয় হয়। কিছু শর্ত শিথিল করার জন্য শাখা থেকে প্রধান কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়। শর্ত শিথিলের প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন থাকাবস্থায় জানা যায়, একই নামের প্রতিষ্ঠান মেসার্স ফাইভ এস ট্রেডিং করপোরেশন অংশিদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক কামরুজ্জামান সোহাগ ও মৃনাল কান্তি দেব রমনা করপোরেট শাখা থেকে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছেন। কিন্তু একই নামে একক মালিকানা প্রতিষ্ঠান এবং অংশিধারী প্রতিষ্ঠান থাকতে পারে কিনা ও এর অনুকুলে ঋণ দেয়ার বিষয়ে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট এসএমই বিভাগের কর্মকর্তারা যাচাই-বাছাই করার জন্য ব্যাংকের সকল বিভাগীয় কার্যালয় এবং আইন বিভাগে চিঠি প্রদান করেন। ওই চিঠিতে বলা হয়, মেসার্স ফাইভ এস ট্রেডিং করপোরেশন ও এর মালিকদের সঙ্গে জড়িত সংশ্লিষ্ট সকল প্রতিষ্ঠানের নামে রূপালী ব্যাংকের ঋণ আছে কিনা জানতে চাওয়া হয়। এ খবর মেসার্স ফাইভ এস ট্রেডিং করপোরেশনের মালিক কামরুজ্জামান সোহাগ খান জানতে পেরেই রূপালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে মিথ্যা ও বানোয়াট রিপোর্ট প্রকাশ করেন। প্রকৃত ঘটনা, একই নামের দুটি প্রতিষ্ঠানের (মেসার্স ফাইভ এস ট্রেডিং করপোরেশন) বিপরীতে অবৈধভাবে ঋণ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কামরুজ্জামান সোহাগ রূপালী ব্যাংকের বিরুদ্ধে মিথ্যা রিপোর্ট প্রকাশ করে। যার কোন ভিত্তি নেই।

জানা গেছে, এসব বিষয় তুলে ধরে সম্প্রতি একটি অনলাইন পত্রিকায় রূপালী ব্যাংকের নামে রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়। ওই রিপোর্ট প্রকাশ করেন কামরুজ্জামান সোহাগ খান নিজেই। রিপোর্ট প্রকাশ করে তার ফেসবুকে স্টাটাস দেন তিনি। ওই রিপোর্টে আরও বলা হয়, একটি শাখা থেকে ব্যবস্থাপককে কয়েকবার বদলি করা হয়েছে। কিন্তু এটি সত্য নয়। ব্যাংকের বা চাকরির নিয়মেই কোন ব্যাংক কর্মকর্তাকে কর্তৃপক্ষ চাইলেই যে কোন জায়গায় বদলি করতে পারেন। সে অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ কর্মকর্তাদের বদলি করে থাকেন। আর এটি ব্যাংকের ব্যবসায়ী স্বার্থেই করা হয়। এসব বদলি ব্যাংকের একটি রুটিন ওয়ার্ক। রিপোর্টে রূপালী ব্যাংকের প্রশাসন ও মানব সম্পদ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক আব্দুল মজিদ শেখের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু আব্দুল মজিদ শেখ এ বিষয়ে কোন রিপোর্টারের সঙ্গে কথা বলেননি। উল্টো তিনি বলেন, আমার সঙ্গে কোন ধরনের আলাপ-আলোচনা ছাড়াই মিথ্যা ও বানোয়াট এবং উদ্দ্যেশ প্রণোদিত রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। গত ১৪ মার্চ একটি পত্রিকায় সোহাগ খান “রাষ্ট্রীয় তিন ব্যাংকের এমডিদের পরিবর্তনের শঙ্কায় কাজে স্থবিরতা ’ শীর্ষক শিরোনামে একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেন। কিন্তু রিপোর্টটি মিথ্যা বলে গত ১৫ মার্চ এর প্রতিবাদ দেন ওই প্রত্রিকারই বার্তা সম্পাদক। রিপোর্টটি লিখেছেন ওই পত্রিকার রিপোর্টার রিমন মাহফুজ। পরে ওই মিথ্যা রিপোর্টের জন্য সোহাগ খানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় পত্রিকা কর্তৃপক্ষ।