২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

২০ টাকার জন্য শিশুকে গলা টিপে হত্যা করে ভাবী!

নিজস্ব সংবাদদাতা, হবিগঞ্জ ॥ মাত্র বিশ টাকা চাওয়ায় হবিগঞ্জের আট বছরের অবুঝ শিশু ঈসমাইলকে গলা টিপে হত্যা করে তারই ভাবী। শুধু তাই নয়, জেলার মাধবপুর পৌর শহরের পশ্চিম পাড়ায় এই নৃশংস হত্যাকান্ডের পর শিশুটির মৃতদেহ নিজ বাড়ীর ধানী গোলার মাচার নীচে লুকিয়ে রেখেই ক্ষান্ত নয়, বরং ডুবার পানিতে ফেলে তা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করারও অপকৌশল হাতে নিয়েছিল শাপলা বেগম নামে এই পাষন্ড ভাবী।

মঙ্গলবার দুপুরে হবিগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট নিশাত সুলতানার আদালতে ১৬৪ ধারায় এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী শাপলা প্রদান করেছে বলে জানান এসপি জয়দেব কুমার ভদ্র। একই দিন দুপুরে হবিগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এক জরুরী প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানিয়ে এসপি জয়দেব কুমার ভদ্র আরও জানান, প্রতিনিয়ত ঈসমাইল নাকি এই ভাবীর নিকট টাকা চাইত। ভাবীও তার কথা শুনতেন। কিন্তু ঘটনার দিন ২৬ মার্চ সকাল ৯ টায় আবারও ভাবীর নিকট সে টাকা চাইলে তিনি উল্টো রাগ করেন। এসময় নাকি ইসমাঈলও কান্নাকাটি করে ভাবীকে ফিসফিস করে কিছু বলে। এতে ভাবী ক্ষিপ্ত হয়ে ঈসমাইলকে গলা টিপি ধরলে কয়েক সেকেন্ডই শ্বাস বন্ধ হয়ে সে মারা যায়। এমতাবস্থায় ভাবী নিজেকে বাঁচাতে ফন্দি আটে। একপর্যায়ে তিনি ইসমাইলের মৃতদেহ নিজ বাড়ীর ধানী গোলার মাচার নীচে রেখে দেন। পরবর্তী তার পরিকল্পনা ছিল রাতের আধারে কোন এক সময়ে শিশুটির মৃতদেহ পাশ্ববর্তী ডুবার পানিতে ফেলে দিয়ে এই হত্যাকান্ডটিকে স্বাভাবিক বলে চালিয়ে দেবেন। কিন্তু এরই মধ্যে এসপি জয়দেব কুমার ভদ্রের তত্বাবধানে এডশিনাল এসপি মোঃ শহীদুল ইসলাম ও এএসপি হেডকোয়ার্টার মাসুদুর রহমান মনির সংশ্লিস্ট পরিবারের বাবা-মা সহ সকল সদস্য ও ভাবীকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে এই হত্যাকান্ডটি ভাবীর দ্বারাই সংঘটিত হতে পারে পুলিশের এমন ধারনা জন্মায়। ফলে পুলিশ এই ভাবীকে জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনলে গতকাল সোমবার খবর আসে ওই গোলার মাচার নীচ থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। এরই প্রেক্ষিতে ওই মাচার নীচে তল্লাশী চালিয়ে ইসমাইলের মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এসপি জানান, এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ততা না থাকায় তার আগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আনা ইসমাইলের বাবা-মা ও দুই চাচাকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে।