২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মোবাইলে সেবা বিল ও কেনাকাটা বাড়ছে

  • ফেব্রুয়ারিতে লেনদেন বেড়েছে ৫১ শতাংশ

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ প্রায় তাৎক্ষণিকভাবে বা অতিদ্রুত শহর থেকে গ্রামে, গ্রাম থেকে শহরে সর্বত্রই টাকা পাঠানোর সুযোগ তৈরি হওয়ায় মোবাইল ব্যাংকিং জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং কেবল টাকা আদান-প্রদানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই বরং অনেক নতুন নতুন সেবা যুক্ত হয়েছে এতে। প্রতিমাসেই বাড়ছে বিভিন্ন সেবা বিল দেয়ার পরিমাণ। বাংলাদেশ ব্যাংকের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিভিন্ন ধরনের সেবা বা কেনাকাটার পর ৮৩৮ কোটি ৮১ লাখ টাকা প্রদান করা হয়েছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। যে পরিমাণ আগের মাস জানুয়ারিতে ছিল ৭৮১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। মানুষ বিভিন্ন সেবা গ্রহণের পর বিপরীতে নগদ টাকা না দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করেছে গ্রাহকরা।

জানা গেছে, মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনে, বিভিন্ন সুপার শপ ও শো-রুমে কেনাকাটায়, স্কুলের বেতন পরিশোধ, হাসপাতালের বিল প্রদান, ট্যাক্সি ক্যাবের বিলসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে ৫২৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা প্রদান করেছে গ্রাহকরা। যা জানুয়ারিতে ছিল ৫০৯ কোটি ৭ লাখ টাকা। ইউটিলিটি বিল দেয়ার বিষয়ে মোবাইল ব্যাংকিং লেনদেনের ব্যবহার বেড়েছে ২৩ দশমিক ৬৬ শতাংশ। আলোচ্য সময়ে ১৪১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা হয়েছে। আর এ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মচারীদের ১৬৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকার বেতন পরিশোধ করেছে। যা আগের মাসের তুলনায় বেড়েছে ৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ। এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকাশের মুখপাত্র জাহেদুল ইসলাম বলেন, আমাদের প্রায় ১৭ হাজার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি রয়েছে। এর মধ্যে হাসপাতাল, স্কুল-কলেজ, সুপার শপ, ট্যাক্সিক্যাব, শো-রুম, বিমানের টিকেটসহ সব প্রতিষ্ঠানের জিনিসপত্র ও সেবা ক্রয়ে বিকাশ দিয়ে বিল পরিশোধ করতে পারছে গ্রাহকরা। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কর্মচারীদের বেতন পরিশোধও করছে এর মাধ্যমে। এ ধরনের লেনদেনের পরিমাণ ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা গেছে, গত মাসে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিনের লেনদেনে পরিমাণ কিছুটা কমে গেছে। প্রতিদিন গড় লেনদেন হয়েছে ৫৫২ কোটি ৩০ লাখ টাকা। যা আগের মাসে ছিল ৫৫৮ কোটি ১৮ লাখ টাকা। এতে কমেছে মোট লেনদেনের পরিমাণও। মাসজুড়ে লেনদেনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৫৬৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এদিকে মোবাইল ব্যাংকিং সেবার গ্রাহক, চালু এ্যাকাউন্ট (টানা তিন মাস কোন লেনদেন না করলে তাকে ইন-এ্যাকটিভ এ্যাকাউন্ট বা নিষ্ক্রিয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়) ও এজন্টের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গ্রাহক সংখ্যা ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৮০ হাজার। যা আগের মাসে ছিল ৩ কোটি ৩১ লাখ ৩৮ হাজার। এর মধ্যে চালু এ্যাকাউন্টের সংখ্যা কিছু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪০ লাখ। যেখানে এক মাসের ব্যবধানে প্রায় ৪ লাখ চালু এ্যাকাউন্ট যুক্ত হয়েছে। এছাড়া ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৯৯৬টিতে পৌঁছেছে বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের এজেন্টের সংখ্যা। বিভিন্ন জায়গায় টাকা পাঠানোয় মোবাইল ব্যাংকিংয়ে ক্যাশ ইন ট্রানজেকশন হয়েছে ৬ হাজার ৯৩৫ কোটি ২৩ লাখ টাকার, ক্যাশ আউট করা হয়েছে ৬ হাজার ৪১ কোটি ৩৫ লাখ, ৩ কোটি ৮২ লাখ টাকার রেমিটেন্স সুবিধাভোগীর কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে এবং পিটুপি ট্রানজেকশন হয়েছে ২ হাজার ৭৪৯ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভংকর সাহা বলেন, মোবাইল ব্যাংকিং চালুর অল্প কিছুদিনের মধ্যে এটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। লেনদেন কিছুটা কমলেও মনে হয় হঠাৎ করে এখন আর খুব বেশি কমে যাওয়া বা খুব বেশি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ এটি এখন একটি স্ট্যাবল পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমরা এখন যেটা করছি, সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বলেছি তারা যেন ক্যাশ লেনদেনের পাশাপাশি কেনাকাটা বা বিভিন্ন ধরনের সেবা বিল পরিশোধে গ্রাহকদের বেশি করে সুযোগ করে দেয়। ধীরে ধীরে সেটার পরিধিও বাড়ছে। মোবাইল ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোর লেনদেনে স্বচ্ছতা আনতে তাদের নতুন কোন নির্দেশনা দেয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা গ্রাহকদের নতুন ও পুরাতন এ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে ভোটার আইডির কপি সংরক্ষণ করতে বলেছি যাতে গ্রাহকের পুরো পরিচিতি থাকে। এতে কারও ফেক আইডি দিয়ে এ্যাকাউন্ট করে থাকলে সেগুলো চেঞ্জ করার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়েছে। এদিকে সিম নিবন্ধনের পরবর্তী সময়ে আমরা ফেক কেউ থাকলে তাদের আরও ভালভাবে খুঁজে বের করতে পারব। কারণ তখন মোবাইল সিম রেজিস্ট্রেশন ও আইডির কপি এক হয়ে যাবে। আর কিছুদিন ধরেই আমরা আমাদের নজরদারিও বৃদ্ধি করেছি প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর।