১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

হ্যাকারের স্বীকারোক্তি

হ্যাকারের স্বীকারোক্তি
  • সিনেট শুনানিতে মূল পরিকল্পনাকারী কিম অংয়ের তথ্য ফাঁস

রহিম শেখ ॥ হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ জালিয়াতি করে ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৬৯ লাখ ডলার ফেরত পাওয়ার ‘নতুন’ সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনার অন্যতম মূল পরিকল্পনাকারী চীনা বংশোদ্ভূত ফিলিপিনো ব্যবসায়ী কিম অং দুই চীনা নাগরিকের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দিতে রাজি হয়েছেন। পাশাপাশি সোলায়েরে রিসোর্ট ও ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ মি. ডিং নামে এক ব্যক্তির বাজেয়াফতকৃত এ্যাকাউন্টের অর্থ ফেরত দিতে রাজি হয়েছে। সেখানে রয়েছে মোট প্রায় ২২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এ নিয়ে প্রায় ৭ মিলিয়ন ডলার ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এর আগে শ্রীলঙ্কা থেকে ২০ মিলিয়ন ও ফিলিপিন্স থেকে ৬৮ হাজার ডলার ফেরত আসার কথা জানিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। এছাড়া ফিলিপিন্সের সিনেট কমিটির শুনানিতে ফিলরেম সার্ভিস ইনকর্পোরেশন নামে একটি মুদ্রা বিনিময় কোম্পানি দুই লাখ ২৬ হাজার ডলার বাংলাদেশ সরকারের নামে একটি চেক লিখে ফেরত দেয়ার কথা জানিয়েছিল। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফিলিপিন্সে পাচারের ঘটনায় ভুয়া চারটি এ্যাকাউন্টের মধ্যে দুটি শনাক্ত করেছে আরসিবিসি ব্যাংকের তদন্ত কমিটি। অন্যদিকে রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির ফলে ফরেনসিক তদন্ত দল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও সকল শাখা অফিসের প্রায় ১৫০০ ল্যাপটপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

মঙ্গলবার ফিলিপিন্সের সিনেট কমিটির তৃতীয় শুনানিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভের অর্থ চুরির অন্যতম পরিকল্পনাকারী চীনা বংশোদ্ভূত ফিলিপিনো ব্যবসায়ী কাম সিন অং ওরফে কিম অং বলেন, ৮১ মিলিয়ন ডলার এদেশে এনেছে দুই বিদেশী। বেইজিংয়ের শুহুয়া গাও এবং ম্যাকাওয়ের ডিং জিজের নাম বলেছেন তিনি। সিনেট কমিটির সামনে আসার আগে অবশ্য স্থানীয় গণমাধ্যমের সামনে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন কিম অং। এ সময় শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) জুপিটার শাখার বরখাস্ত হওয়া জ্যেষ্ঠ কাস্টমার রিলেশনস অফিসার এ্যাঞ্জেলা তোরেস। রিবন কমিটির শুনানিতে রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং কর্পোরেশনের (আরসিবিসি) মাকাতি সিটির জুপিটার স্ট্রিট শাখার ব্যবস্থাপক মায়া সান্তোস-দেগিতোর দেয়া বক্তব্যের সূত্র ধরেই এ জালিয়াতিতে কিম অংয়ের নাম আসে। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে সঞ্চিত বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ থেকে হাতিয়ে নেয়া ৮১ মিলিয়ন ডলার ওই ব্যাংকেরই চারটি এ্যাকাউন্টে জমা হয়। তবে সিনেট কমিটির শুনানিতে ওই চার এ্যাকাউন্টের মালিককে তলবের জন্য নাম-ঠিকানা খুঁজলে দেখা যায় সেগুলো ভুয়া। ব্লু রিবন কমিটির সদস্য সিনেটর সের্গিও ওসমেনাকে উদ্ধৃত করে ইনকোয়ারার এর আগে জানিয়েছিল, কিম অংই ওই ভুয়া এ্যাকাউন্টগুলো খুলতে বলেছিলেন দেগিতোকে। ফিলরেম নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ডলার ভাঙানোর নির্দেশও তিনিই দিয়েছিলেন। ১৫ বছর আগেও কিম অং একবার সিনেট ব্লু রিবন কমিটির শুনানির মুখোমুখি হন। অবৈধ মাদক ব্যবসা ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকা-ে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এক সিনেটরের সঙ্গে মাদক চোরাচালানিদের যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। তথ্যানুযায়ী, ১০ বছর বয়সে চীন থেকে ফিলিপিন্সে আসেন অং। কলেজের ছাত্র থাকাকালে লেখাপড়া বাদ দিয়ে স্থানীয় একটি সিগারেট কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধির কাজে যোগ দেন। পরে নিজেই একজন ব্যবসায়ী বনে যান এবং পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী রাজনীতিকদের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। কিম অংয়ের সঙ্গে মায়া সান্তোস-দেগিতোকেও মঙ্গলবারের শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। তবে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি হাজিরা এড়িয়ে গেছেন বলে ইনকোয়ারার জানিয়েছে। দেগিতোর খোলা সেই সব এ্যাকাউন্ট থেকে রিজার্ভ চুরির টাকা তুলে ফিলিপিন্সে ক্যাসিনো ‘জাঙ্কেট অপারেটর’ ওয়েইকাংক হু’র এ্যাকাউন্টে সরিয়ে ফেলা হয়। ফিলিপিন্সে ক্যাসিনোগুলোতে আর্থিক লেনদেনের ওপর নজরদারির দায়িত্বে থাকা সংস্থা প্যাগকর আগেই জানিয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের চুরি যাওয়া ৮১ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে ৪৬ মিলিয়ন স্থানীয় মুদ্রা পেসোয় রূপান্তর হওয়ার পর ক্যাগায়ান প্রদেশের সোলায়ার রিসোর্ট এ্যান্ড ক্যাসিনো এবং ইস্টার হাওয়াই ক্যাসিনো এ্যান্ড রিসোর্টের মাধ্যমে দেশের অর্থ ব্যবস্থায় মিশে গেছে। এর মধ্যে সোলায়ার রিসোর্ট এ্যান্ড ক্যাসিনোতে ‘জাঙ্কেট অপারেটর’ ওয়েইকাংক হু মাধ্যমে প্রায় ৩০ মিলিয়ন ডলার হাতবদল হয় বলে সিনেট কমিটির শুনানিতে উঠে এসেছে। রিজার্ভ পাচারের অভিযোগে ওয়েইকাংক হু এবং কিম অংয়ের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে মামলাও করেছে ফিলিপিন্সের মুদ্রা পাচার কাউন্সিল-এএমএলসি।

৬৯ লাখ ডলার ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা ॥ বাংলাদেশের রিজার্ভের অর্থ লোপাটের ঘটনায় ফিলিপিন্সের সিনেটের শুনানিতে সন্দেহভাজন ব্যবসায়ী কিম অং ৪৬ লাখ ৩০ হাজার ডলার ফেরত দিতে রাজি হয়েছেন। পাশাপাশি সোলায়ার রিসোর্ট ও ক্যাসিনো কর্তৃপক্ষ মি. ডিং নামে এক ব্যক্তির বাজেয়াফতকৃত এ্যাকাউন্টের অর্থ ফেরত দিতে রাজি হয়েছে। সেখানে রয়েছে মোট প্রায় ২২ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এ নিয়ে মোট ৬৯ লাখ ডলার ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

ভুয়া চারটি এ্যাকাউন্টের মধ্যে দু’টি শনাক্ত ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ ফিলিপিন্সে পাচারের ঘটনায় আরসিবিসি ব্যাংকের ভুয়া চারটি এ্যাকাউন্টের মধ্যে দু’টি শনাক্ত করা গেছে। মঙ্গলবার ফিলিপিন্সের এন্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিলের কাছে জমা দেয়া এক তদন্ত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আরসিবিসি ব্যাংকের তদন্ত কমিটি। এতে জানানো হয়, আরসিবিসির জুপিটার শাখার ভুয়া চারটি এ্যাকাউন্টের মধ্যে ‘ক্রিস্টোফার ল্যাগারোসাস’ নামের এ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা হয়েছে ব্যাংকটির রিজার্ভ কর্মকর্তা আদ্রিয়ান র‌্যানসাসের ছবি। আর ‘মাইকেল ফ্রান্সিসকো ক্রুজ’ নামের আরেকটি ভুয়া এ্যাকাউন্টে ব্যবহার করা হয়েছে অন্য আরেকটি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তার ছবি। গত ৫ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে ফিলিপিন্সের পাচার হয়ে আসা ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের মধ্যে ক্রিস্টোফারের এ্যাকাউন্টে আসে ৩ কোটি ডলার। আর মাইকেল ক্রুজের এ্যাকাউন্টে আসে ৬০ লাখ ডলার। এছাড়াও এ্যাকাউন্ট দুটিতে ভুয়া ঠিকানা ব্যবহার করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে জানানো হয়।

১৫০০ ল্যাপটপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করবে ফরেনসিক তদন্ত দল ॥ রিজার্ভ থেকে টাকা চুরির ফলে ফরেনসিক তদন্ত দল বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় ও সকল শাখা অফিসের প্রায় ১৫০০ ল্যাপটপ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভংকর সাহা। মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। শুভংকর সাহা বলেন, তদন্তের স্বার্থে ডেক্সটপের পাশাপাশি ল্যাপটপগুলোও চেক করা হবে। অনেক সময় ল্যাপটপগুলো অফিসের পাশাপাশি অফিসের বাইরেও কর্মকর্তারা ব্যবহার করে থাকেন। আমাদের যে সাইবার এ্যাটাকটি হয়েছে এতে ল্যাপটপে কোন ঝুঁকি রয়েছে কিনা এবং এগুলোতে পরবর্তীতে ব্যবহারে কোন অসুবিধা রয়েছে কিনা, সে বিষয়টি জানার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের সকল অফিসের ল্যাপটপগুলোই পরীক্ষা করা হবে। এতে যদি কোন সমস্যা থেকে থাকে সেটি মোকাবেলায় কোন সফটওয়্যার বসানোর প্রয়োজন আছে কিনা সেটাও তদন্ত করে দেখা হবে। এ জন্যই ল্যাপটপগুলো নেয়া হচ্ছে। ল্যাপটপগুলো নেয়ার ফলে কর্মকর্তাদের কাজে কোন ধরনের অসুবিধা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সাময়িক একটু অসুবিধা তো হবেই। তারপরও প্রত্যেকের যেহেতু ল্যাপটপের পাশাপাশি ডেক্সটপ রয়েছে, তাই কাজে খুব বেশি অসুবিধা হবে বলে মনে হয় না। এখানে প্রায় ১৫শ’ ল্যাপটপ রয়েছে। ফিলিপিন্সের সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক কোন তথ্য আদান-প্রদান করছে কিনা এবং করে থাকলে সেটা কিভাবে করা হচ্ছে জানতে চাইলে শুভংকর সাহা বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুরোধে ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও তাদের এ্যান্টি মানি লন্ডারিং টিম চুরির সঙ্গে জড়িতদের বের করতে ও চুরির টাকা আদায়ে কাজ করে যাচ্ছে। তাদের সঙ্গে আমাদের একটি সহযোগিতামূলক চুক্তি রয়েছে। এই চুক্তির আওতায় আমরা একে অপরকে সহযোগিতা করছি। এতে তারা আমাদের কাছে কোন তথ্য চাইলে সেটার যেটুকু দেয়া সম্ভব তা দিচ্ছি। তাদের কাছেও আমরা কিছু চাইলে তারা আমাদের করছে। ফিলিপিন্সের সিনেটে আজ শুনানি হয়েছে উল্লেখ করে শুভংকর বলেন, দায়ী ব্যাংক ও আভিযোগকারীদের চিহ্নিত করার কাজ করছে ফিলিপিন্স ও শ্রীলঙ্কা। যারা টাকা নিয়েছে তাদের চিহ্নিত করে এবং টাকা আদায়ে ব্যবস্থা নেবেন বলে আমরা আশা প্রকাশ করছি। আমাদের তথ্যমতে, শ্রীলঙ্কার ও ফিলিপিন্সের ৩৫টি ভুয়া নোটিসে টাকাগুলো চলে গিয়েছে। এদের মধ্যকার ৪ সুবিধাভোগীকে ধরার বিষয়ে দেশগুলো বিশেষভাবে কাজ করছে। এছাড়া পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটির কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান শুভংকর। তিনি বলেন, এর মধ্যে একটি হচ্ছে সরকার কর্তৃক গঠিত সাবেক গবর্নর ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি, সিআইডি তদন্ত দল এবং অন্যটি করছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফরেনসিক টিম। আমরা সাইবার সিকিউরিটি ও আইটি সিকিউরিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করছি। ব্যবস্থাগুলো ঝুঁকিমুক্ত করার জন্য আগের গবর্নরের সময় থেকেই কাজ করা হচ্ছে। এখন এর নিরাপত্তা নিñিদ্র করতে কাজ করা হচ্ছে।

মামলা ছাড়াই টাকা দেবে ফেডারেল রিজার্ভ ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ‘টাকা উদ্ধারের’ দায়িত্ব পাওয়া আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি বলেছেন, নিজেদের সুনামের ঝুঁকি বিবেচেনা করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক মামলা ছাড়াই ৮১ মিলিয়ন ডলার ফেরত দেবে বলে তার বিশ্বাস। মঙ্গলবার দুপুরে নিজের কার্যালয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, বাংলাদেশের সঞ্চিত অর্থ ভুয়া আদেশে ফিলিপিন্সে পাঠানোর ক্ষেত্রে ফেডারেল রিজার্ভ কোথাও চুক্তির বরখেলাপ করেছে কিনা এবং পুরো ব্যবস্থায় কোন ফুটো আছে কিনা- সে বিষয়েই তিনি বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। মঙ্গলবার দুপুরে সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের নিজের কার্যালয়ে এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখোমুখি হন এই আইনজীবী। এক প্রশ্নের জবাবে আজমালুল হোসেন বলেন, চুক্তি অনুসারে ফেডারেল রিজার্ভ কেবল কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসারে বাংলাদেশের সঞ্চিত অর্থ স্থানান্তর করতে পারে। এক্ষেত্রে যেহেতু তা হয়নি, সেহেতু মামলা ‘করাই যায়’। এটা ক্লিয়ার। ইন্সট্রাকশন দিয়েছে চোর। চোরের ইন্সট্রাকশন অনুসারে কাজ করলে আমরা তো বলতেই পারিÑ তুমি আমার ইন্সট্রাকশন অনুসারে কাজ করোনি। আমার টাকা ফেরত দাও। এটা সহজ। মামলা করা লাগবে না। ওরা লজ্জায় এমনিই টাকা দিয়ে দেবে। আমার তো মনে হয় এমনি দিয়ে দেয়া উচিত। মামলা করার প্রয়োজন নেই। এই ধারণার পক্ষে যুক্তিতে আজমালুল হোসেন বলেন, তাদের একটা বিরাট রেপুটেশন রিস্ক আছে। সবাই যদি মনে করে নিরাপদ নাÑ তাহলে তাদের টাকা নিয়ে যাবে। আর তাই তারা ব্যবসা করতে পারবে না। আজমালুল বলেন, অর্থ যাতে নিরাপদ থাকে সেজন্য বহু দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে নিজেদের টাকা জমা রাখে। ফেডারেল রিজার্ভকে নিরাপদ স্থান ভাবা হলেও দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশের টাকা লোপাট হয়ে গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক কোন পেমেন্ট ইন্সট্রাকশন দেয়নি। তা সত্ত্বেও চলে গেছে। উনারা কি বুঝতে পারেননি ফেকভাবে টাকা চলে গেছে? উনারা চুক্তি ভঙ্গ করেছেন কিনা সেটা আমি দেখছি। আরেকটা জিনিস দেখছি যে সিস্টেমের মধ্যে কোন ক্ষত আছে কিনা। সিস্টেম ডিফিসিয়েন্সি আছে কিনা। দেখা যাচ্ছে কিছু কিছু সিস্টেমে ডিফিসিয়েন্সি আছে। এই আইনজীবী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক তাকে টাকা উদ্ধার করার দায়িত্ব দিয়েছে; দোষীদের ধরে ‘জেল-জরিমানা করা’ তার কাজ নয়। এফবিআইসহ বিভিন্ন সংস্থা সে কাজ করছে। আর তিনি চুক্তির বরখেলাপের বিষয়েই মনোযোগ দিচ্ছেন। ফেডারেল রিজার্ভ যে ইন্সট্রাকশনগুলোর ওপর এ্যাক্ট করেছে, সেগুলোর কয়েকটা মনে করেছে যে জেনুইন না। সেখানে কনফারমেশন চেয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। কনফারমেশন পাওয়ার আগে তারা পেমেন্ট করল। আরেকটা জিনিস আছে, বেআইনীভাবে যদি কোন টাকা চলে যায় বাংলাদেশ ব্যাংকের এ্যাকাউন্ট থেকে, সেখানে একটা সিস্টেম আছে যে টাকাটা রিকল করতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক অনেক কমপ্লেইন করেছে, ইমেইল করেছে, চিঠি দিয়েছে। সুইফট মেসেজ দিয়েছে। সেগুলোর কোন উত্তর আসেনি। অর্থ পরিশোধের অনুরোধ কার্যকরের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংকগুলো যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করেছিল কিনা- তাও অনুসন্ধান করে দেখা হবে বলে ব্যারিস্টার আজমালুল জানান। তিনি বলেন, সব তথ্য পেয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবেÑ বাংলাদেশ ব্যাংক মামলা করবে কিনা।

রিজার্ভ চুরিতে দেশের কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেবে দুদক ॥ বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে অর্থ চুরির ঘটনায় এদেশের কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে উল্লেখ করে দুদক চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, কোন দুর্নীতিবাজকেই মুক্ত রাখা হবে না। মঙ্গলবার দুর্নীতি প্রতিরোধ সপ্তাহ ২০১৬ কর্মসূচীর অংশ হিসেবে সকালে দুদক কার্যালয় থেকে বের হয় র‌্যালি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদক চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ বলেন, বিষয়টি নজরে রাখা হচ্ছে। আপনারা জানেন, ২০১৫ সালে মানি লন্ডারিং আইন করা হয়েছে। কোন্ সংস্থা কোন্ তদন্ত করবে ওই আইনে তা ভাগ করে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের অর্থ লোপাটে এ দেশের কেউ জড়িত থাকলে শুধু তখন দুদক এ বিষয়ে তদন্ত করবে বলে জানান তিনি।

নির্বাচিত সংবাদ
এই মাত্রা পাওয়া