১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

রাঙ্গামাটির ৪৯ ইউপি নির্বাচন স্থগিত করে ষষ্ঠ ধাপে অন্তর্ভুক্ত

রাঙ্গামাটির ৪৯ ইউপি নির্বাচন স্থগিত করে ষষ্ঠ ধাপে অন্তর্ভুক্ত

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রধান রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় রাঙ্গামাটির সব ইউপির নির্বাচন স্থগিত করে ৬ষ্ঠ ধাপের তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তৃতীয় ধাপে এসব ইউপিতে আগামী ২৩ এপ্রিল ভোট গ্রহণের কথা ছিল। তবে গত ২৭ মার্চ মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে এ জেলার ১০ উপজেলার ৪৯টি ইউপিতে রাজনৈতিক দলের কোন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে না পারায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকায় ভুলের কারণে বান্দরবানের এক উপজেলার চার ইউনিয়ন পরিষদের ভোট স্থগিত করে ৬ষ্ঠ দফার তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৬ষ্ঠ দফায় আগামী ৪ জুন ভোট গ্রহণ করা হবে। কমিশন জানিয়েছে এপ্রিল মাসের শেষ দিকে এ দফার তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। কমিশনে কর্মকর্তারা জানান, নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কমিশনের উপসচিব সামসুল আমল স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ বিষয়ে বলা হয়েছে যেহেতু প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি সেহেতু নির্বাচনের সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে রাঙ্গামাটি জেলার ১০টি উপজেলায় ৪৯ ইউপির নির্বাচন ৩য় দফার পরিবর্তে ৬ষ্ঠ দফায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সামসুল আলম এ বিষয়ে বলেন, রোববার মনোনয়নপত্র জমার শেষ সময় থাকলেও রাঙ্গামাটি জেলার ১০ উপজেলার ৪৯ ইউপিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি। এসব ইউপিতে সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিতে ভোটের সময়সূচী তৃতীয় পর্যায় থেকে ষষ্ঠ ধাপে নেয়া হয়েছে। ষষ্ঠ ধাপের তফসিল এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ঘোষণার কথা রয়েছে।

কমিশন জানিয়েছে নির্বাচন স্থগিত হওয়ার কারণে ওইসব ইউপিতে যারা মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি তফসিল ঘোষণার পর তারা এখন নতুন করে তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। ইসি সচিব মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাঙ্গামাটি জেলার অনেক ইউপিতে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেনি প্রার্থীরা। বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট ইউপির ভোট ষষ্ঠধাপে নেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। প্রার্থীরা এখন নতুন করে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সুযোগ পাবেন। ইসির নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয় শাখার সহকারী সচিব আশফাকুর রহমান জানান, মনোনয়নপত্র জমা দিতে বাধা ও ভয়ভীতির বিষয়ে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসকের পাঠানো প্রতিবেদন আমলে নিয়ে ইসি এসব উপজেলার সংশ্লিষ্ট ইউপির ভোটের তারিখ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

ইসি কর্মকর্তারা জানান, তৃতীয় ধাপে জেলার ১০ উপজেলার অন্তত ৪০টি ইউপিতে একক প্রার্থী রয়েছে। এরমধ্যে অন্তত ৩০টি ইউপিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির কোন চেয়ারম্যান প্রার্থী নেই। এর আগে দ্বিতীয় ধাপে মনোনয়নপত্র জমায় বাধার অভিযোগে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার সব ইউপির ভোট স্থগিত করা হয়। পরশুরাম উপজেলার তিন ইউপিতে বাধার অভিযোগে মনোনয়নপত্র জমার সময় একদিন বাড়ানো হয়েছিল। তারা বলেন, তৃতীয় ধাপে রাঙ্গামাটি জেলার ইউপিগুলোর ইউপির ভোট স্থগিত করে ৬ষ্ঠ ধাপে নেয়ার কারণে এসব ইউপিতে যারা একক ছিলেন তারা এখন আর বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে না। তবে একই ধাপে অনুষ্ঠিত অন্যান্য জেলার প্রার্থীদের বেলায় এ নিয়ম প্রয়োজ্য হচ্ছে না। ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাঙ্গামাটির বাইরে যারা একক প্রার্থী রয়েছেন বাছাই শেষে তাদের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। এদের সংখ্যা তেমন বেশি নয়।

রাঙ্গামাটির ১০ উপজেলার ৪৯টি ইউনিয়ন পরিষদের দলের প্রার্থী না থাকার বিষয়ে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সশস্ত্র তৎপরতা ও হুমকির কারণে ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নেতা কর্মীদের কেউ প্রার্থী হতে চাননি। বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, বৈরী রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে প্রার্থী হওয়ার মতো দলের আগ্রহী কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের নেতা অভিযোগ করেছেন তাদের দল থেকে এখনও কাউকে সমর্থন দেয়া হয়নি। মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। একই সঙ্গে তারা উল্লেখ করেন বিভিন্ন কারণে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা না থাকায় তাদের প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সাহস পায়নি বিধায় নির্বাচন থেকে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেয়ায় মনোনয়নপত্র জমা দেয়নি।

দ্বিতীয় দফায় প্রস্তুতি সম্পন্ন : ভোট কাল ॥ এদিকে দ্বিতীয় দফা নির্বাচন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। তারা জানিয়েছে, সুষ্ঠৃু পরিবেশে ভোট সম্পন্ন করার জন্য যা যা দরকার ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোমধ্যে নির্বাচনী এলাকায় সব ধরনের প্রচার বন্ধ হয়ে গেছে। মঙ্গলবার থেকেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায়। আজ রাতের মধ্যে ব্যালট পেপারসহ নির্বাচনী সরঞ্জাম ভোট কেন্দ্রে পৌঁছে দেয়া হবে। আগামীকাল সকাল ৮টা থেকে শুরু হবে ভোট গ্রহণ। কমিশন জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফায় ৩১ জন প্রার্থী ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। যাদের সবাই আওয়ামী লীগের প্রার্থী। এছাড়া বাকি ইউপিতে নির্বাচনের জন্য ১৭টি দলের ১ হাজার ৫০৭ জন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর বাইরে স্বতন্ত্র থেকে নির্বাচন করছেন ১ হাজার ১৭৭ জন প্রার্থী। যাদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তবে বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী অনেক বেশি বলে জানা গেছে।

এদিকে দ্বিতীয় দফার নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সতর্ক করেছেন নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহনেওয়াজ। তিনি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে অপরাধ হবে আর তারা আঙুল চুষবে এ ধরনের কর্মকা- প্রশয় দেয়া হবে না। প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে সিল মেরে যাবে আর তখন হা করে দাঁড়িয়ে থাকবে সেটাও সহ্য করা হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা করা দরকার সবটাই করতে হবে। ভাটকেন্দ্রে দর্শকের ভূমিকা রাখলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে উল্লেখ করেন। বলেন, পরিস্থিতি দেখে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনগতভাবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোন অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ব্যর্থতার জন্য কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অপরাধ করলে সে যেই হোক গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।

তিনি বলেন, নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসারের সব ধরনের ক্ষমতা রয়েছে। তারা যে কোন বিষয়ে ইসিকে সরাসরি অবহিত করতে পারবেন।