১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

নিউজিল্যান্ড-ইংল্যান্ড সেমির লড়াই আজ

মোঃ মামুন রশীদ ॥ বরাবরই বলা হয়ে থাকে নিউজিল্যান্ড সেমিফাইনালের দল। এবারও চিরাচরিত নিয়মে সেমিতে উঠেছে তারা দুর্দান্ত একটি দল হিসেবেই। এবারও কি সেমিতে শেষ হয়ে যাবে তাদের অভিযান? না কি প্রথমবারের মতো উঠবে টি২০ বিশ্বকাপের ফাইনালে। এবার অবশ্য ওয়ানডে বিশ্বকাপে সেই ফাঁড়া কাটিয়ে প্রথমবার ফাইনাল খেলেছে তারা। টি২০ বিশ্বকাপেও সেই লক্ষ্য নিয়েই আজ প্রথম সেমিফাইনালে দিল্লীর ফিরোজ শাহ কোটলা স্টেডিয়ামে নামবে কিউইরা। প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। ওয়ানডে বিশ্বকাপে শিরোপা জিততে ব্যর্থ হলেও ইংলিশরা ২০১০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জয় করে। এরপর এই প্রথম আবার সেমিতে উঠেছে ইয়ন মরগানের দল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কিউইদের বিপক্ষে আরেকবার ফাইনাল খেলার আশা নিয়েই মাঠে নামবে তারা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে স্বাগতিক ভারত মুখোমুখি হবে ২০১২ সালের চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজের।

দুঃখটা হয় তো কিছু লাঘব হবে মরগানের। গত বছর অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড বিশ্বকাপে দলকে নেতৃত্ব দিয়ে হতাশা নিয়ে ফিরেছিলেন দেশে। কারণ বাংলাদেশের কাছে হারের কারণে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। বিশ্বকাপের ঠিক আগেই দলের নেতৃত্ব কাঁধে চেপেছিল। এবার টি২০ বিশ্বকাপের আগে সেই দুঃসহ স্মৃতিটা থেকে পরিত্রাণ পেতে দলকে দারুণ কিছু দিতে চেয়েছিলেন। সেটা ইতোমধ্যেই হয়ে গেছে। ২০১২ ও ২০১৪ সালে সেমিতে উঠতে পারেনি ইংল্যান্ড। এবার তিনি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে সেই ধাপে তুলে এনেছেন। কিন্তু এখানেই থামতে চান না মরগান। দলকে আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে চান তিনি। এবার আসরে দারুণ খেলেছে ইংলিশরা। বিশেষ করে দলের ব্যাটিং প্রথম থেকেই প্রতিপক্ষদের জন্য বড় হুমকি ছিল। তরুণ জো রুট, জশ বাটলার ও বেন স্টোকস এই তিন তরুণ দারুণ ফর্মে আছেন। গ্রুপ-১ থেকে দ্বিতীয় স্থান নিয়ে উঠেছে ইংলিশরা শুধু ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে হার দিয়ে শুরু করে। আর নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিততে না পারলে কঠিন সমীকরণে পড়ে হয় তো গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হতো। কিন্ত এদিনই প্রথম ইংলিশ বোলাররাও জ্বলে উঠেছেন। লঙ্কানদের হারিয়েই শেষ চারে উঠেছে মরগানের দল। সেই আত্মবিশ্বাসই এখন কাজে লাগবে তাদের জন্য। ব্যাটে-বলে সমানভাবে জ্বলে উঠতে পারলে নিউজিল্যান্ডের জন্য কঠিন পরীক্ষা হবে ইংলিশদের মোকাবেলা করা।

অবশ্য টি২০ বিশ্বকাপে এর আগে চারবার মুখোমুখি হয়েছে দু’দল। চারটিই নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। পরিসংখ্যান বলছে বেশ হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আরেকবার। কারণ দুটি করে জয় আছে উভয় দলেরই। সব ম্যাচেই খুব কম ব্যবধানে ফলাফল এসেছে। আর সার্বিকভাবে ১৩ টি২০ খেলেছে পরস্পর যার মধ্যে ইংল্যান্ড এগিয়ে ৮ জয় নিয়ে। একটি ম্যাচের কোন ফলাফল হয়নি। আর বাকি চারটিতে জয় কিউইদের। সেদিক থেকে পিছিয়েই আছে তারা। আর ভারতের মাটিতে এই প্রথম কোন টি২০ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দু’দল। সে কারণে অন্য এক মাত্রা পাচ্ছে লড়াইটি। উভয়দলই এবার দারুণ ফর্মেও আছে ভারতের মাটিতে।

নিউজিল্যান্ডের জন্য অবশ্য দারুণ কাটছে এবারের টি২০ বিশ্বকাপ। কঠিন গ্রুপ-২ থেকে তারা সব ম্যাচেই জিতে উঠেছে যেখানে ছিল অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও পাকিস্তান। এমনকি উঠতি ক্রিকেট শক্তি বাংলাদেশও ছিল এই গ্রুপে। কিন্তু সবাইকে হারিয়ে সেমিতে ওঠার কারণে এখন দারুণ আত্মবিশ্বাসী দলে পরিণত হয়েছে কিউইরা। অন্য দলগুলো পেস বোলিংয়ে দুর্দান্ত হলেও কিউইরা উল্টো। তাদের বোলিংয়ে মূল শক্তি স্পিন। তিন স্পিনার মিচেল স্যান্টনার, নাথান ম্যাককুলাম ও ইশ সোধি দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। অথচ পেস শক্তির অন্যতম অপরিহার্য বোলার টিম সাউদি এখন পর্যন্ত খেলেননি, ট্রেন্ট বোল্টও অনিয়মিত। আর ব্যাটিংয়ে অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসন ব্রেন্ডন ম্যাককুলামের অভাবটা বুঝতেই দিচ্ছেন না। এছাড়া ফর্মে আছেন মার্টিন গাপটিল, কোরি এ্যান্ডারসনরা রানের মধ্যেই আছেন। আর সে কারণেই ২০০৭ সালের প্রথম টি২০ বিশ্বকাপের পর আবার সেমিতে উঠেছে তারা। মাঝের চার আসরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল কিউইদের। ২০০৭ সালে পাকিস্তানের কাছে হেরে সেমি থেকেই মিশন শেষ হয়ে গিয়েছিল। এবার ওয়ানডে বিশ্বকাপের মতোই টি২০ বিশ্বকাপেও প্রথমবারের মতো ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই নামবে নিউজিল্যান্ড।