১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফিরতে কমপক্ষে ১ মাস লাগবে তাসকিনের

ফিরতে কমপক্ষে ১ মাস লাগবে তাসকিনের

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) থেকে ছাড়া পেয়ে গেছেন জাতীয় ক্রিকেট দলের কোচ হিথ স্ট্রিক। তার সঙ্গে বিসিবির চুক্তি ছিল টি২০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। সেই দায়িত্ব শেষ হয়েছে তার। অবশ্য স্ট্রিকের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করার প্রক্রিয়া নিয়ে ইতোমধ্যেই আলোচনা হয়ে গেছে। তাই আপাতত স্ট্রিকের দেশে ফিরে যাওয়াটা ছুটি হিসেবেই গণ্য হচ্ছে। ১ এপ্রিল তিনি দেশে ফিরে গেলেও আবার ফিরে এসে কাজ শুরু করবেন। সোমবার থেকেই তিনি ত্রুটিযুক্ত এ্যাকশনের জন্য সাময়িক নিষিদ্ধ তাসকিন আহমেদের সঙ্গে কাজ শুরু করেছিলেন। তিনি প্রয়োজনীয় কাজ বুঝে দিয়েছেন বিসিবির কোচ মাহবুব আলী জাকিকে। মঙ্গলবার ছুটি নিয়ে দেশ ছেড়েছেন তাসকিনও। সপ্তাহখানেক পর আবার এ্যাকশন শুধরানোর জন্য জাকিরের অধীনে অনুশীলন শুরু করবেন তিনি। বোলিং কোচ স্ট্রিক জানিয়েছেন সবমিলিয়ে এক মাস বা ৬ সপ্তাহের মতো সময় লাগবে তাসকিনের।

রবিবার জাতীয় দলের সঙ্গে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরেছিলেন হিথ স্ট্রিক। সময় নষ্ট করেননি, পরদিন সকালেই তাসকিনকে নিয়ে মিরপুর একাডেমি মাঠে কাজ শুরু করেছিলেন। সেদিনই সবকিছু পর্যবেক্ষণ করে তিনি করণীয় বুঝিয়ে দিয়েছেন জাকিরকে। অবশ্য এখনই তাসকিন-জাকি এ্যাকশন শুধরানোর কাজে নামছেন না। কারণ মঙ্গলবারই ছুটি কাটাতে শ্রীলঙ্কা চলে গেছেন তাসকিন, মালদ্বীপ ঘুরে তবেই ফিরবেন। তখন আবার শুরু করবেন এ্যাকশন শুধরানোর কাজ। ১ এপ্রিল জিম্বাবুইয়ের উদ্দেশে দেশ ছাড়ছেন বলে জানিয়েছেন হিথ স্ট্রিক। এরই মধ্যে তাসকিনের সঙ্গে নিজের কাজ সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন আরেক বোলার আরাফাত সানিও। কিভাবে কি করতে হবে তা বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। হিথ স্ট্র্রিক না থাকলেও, রুয়ান কালপাগেকে সঙ্গে পাচ্ছেন সানি। আর স্ট্রিক জিম্বাবুইয়ে থেকে না ফেরা পর্যন্ত স্থানীয় কোচ জাকিরের অধীনেই কাজ করবেন তাসকিন। তবে স্ট্রিকের সঙ্গে ৪৫০ দিনের চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়াতে তা নবায়ন করার বিষয়টাও আছে এখানে।

ইতোমধ্যেই পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় কাজও শুরু করে দিয়েছেন তাসকিন। তবে সহসাই যে তার ফেরা হচ্ছে না সেটা বাংলাদেশের বোলিং কোচ স্ট্রিকের কথাতেই বোঝা গেল। কমপক্ষে এক মাস কিংবা ৬ সপ্তাহ সময় লাগবে তাসকিনের। মূলত এ সময়ে তিনি ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলবেন এবং তাকে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এ বিষয়ে স্ট্রিক বলেন, ‘আমাদের কোন তাড়া নেই। আমার মনে হয় বিষয়টি তাকে এক মাস থেকে ছয় সপ্তাহ বিরতিতে রাখবে। তাকে আবারও পাঠানোর আগে আমাদের অবশ্যই শতভাগ নিশ্চিত হতে হবে। পরীক্ষায় পাস করে আসাটা তার জন্য বড় কোন সমস্যা হবে বলে মনে হয় না। সে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগে খেলবে। তাই আমি আশাবাদী তাকে যে সামান্য পরিবর্তনের জন্য আমি বলেছি তাতে সে স্বাচ্ছন্দ্যই বোধ করবে। যখন আমরা সবকিছুতে সন্তুষ্ট হব সে তখন যেতে পারবে।’ তাসকিনের সেøায়ার ডেলিভারি ও বাউন্সারে সমস্যা ছিল। এ কারণেই বোলিং এ্যাকশনে খানিকটা পরিবর্তন আনতে বলেছেন স্ট্র্রিক, ‘তার দ্রুতগতির সব ডেলিভারিই বৈধ। আমরা চেষ্টা করছি তার বাহু আরও একটু দ্রুতগতির করে তুলতে। পেছনের দিক থেকে সে যখন সমতল অবস্থান পায় সেটা ১০০ ভাগ সোজা। ১৫ ডিগ্রীর সীমাটা আসলে খুবই ছোট। সে পরীক্ষায় ৪০টার মতো ডেলিভারি করেছে যেখানে তিন বাউন্সার অবৈধ হয়েছে। এটা খুব দ্রুত কাটিয়ে তোলা সম্ভব। সেøায়ারে ও বাউন্সারে সমস্যা ছিল। যেটা মানসিক অবসাদ থেকে হতে পারে। আমার মনে হয় না তার বোলিং এ্যাকশন ঠিক করাটা খুব কঠিন। কিন্তু আমরা নিশ্চিত হতে চাইছি বলেই সময় নিতে চাই। ১ মাস বা ৬ সপ্তাহ লাগবে তার ফিরে আসতে।’