২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ডৌল জুলেখার জেরা পর্ব অপেরার উদ্বোধনী মঞ্চায়ন

ডৌল জুলেখার জেরা পর্ব অপেরার উদ্বোধনী মঞ্চায়ন
  • সংস্কৃতি সংবাদ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের পুঁথি লেখকদের প্রণয় কাব্য ইউসুফ জুলেখা। শাহ মুহম্মদ সগীর রচিত প্রণয় কাব্যটি পরবর্তীতে কাহিনী পল্লবিত করে নানাভাবে লিখেছেন ইরানের মহাকবি ফেরদৌসী থেকে শুরু করে অনেকেই। এবার হাজার বছরের প্রাচীন সেই প্রেম কাব্যের উল্টো বয়ান দিয়েছেন চয়ন খায়রুল হাবিব। লিখেছেন ডৌল জুলেখার জেরা পর্ব শীর্ষক অপেরা। সমকালীন বাস্তবতায় এগুনো রচনাটিতে পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জ জানায় জুলেখা। সময়ের তাগিদে নায়কের পরিবর্তে নায়িকা হয়ে ওঠে নৃশংস ও সাহসী। তাই ইউসুফের বদলে জুলেখাই হয়েছে অপেরাটির প্রধান চরিত্র। যৌথভাবে প্রযোজনাটি মঞ্চে এনেছে নাট্যম রেপার্টরি ও জুলেখা সিরাপ রিডার্স লাউঞ্জ (জেএসআরএল)। স্বরলিপিনির্ভর বয়ানে সাজানো অপেরাটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হলো মঙ্গলবার। চয়ন নির্দেশিত প্রযোজনাটির প্রথম প্রদর্শনী প্রাঙ্গণ ছিল শিল্পকলা একাডেমির এক্সরিপেন্টাল থিয়েটার হল। বৃষ্টিঝরা বসন্ত সন্ধ্যায় প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন খ্যাতিমান অভিনয়শিল্পী সারা যাকের।

সাহিত্যের পাতা থেকে প্রায়োগিক মঞ্চায়নে কয়েকটি ধারার মিশেল ঘটেছে অপেরাটিতে। পাশাপাশি ইউসুফ জুলেখা প্রণয়কাব্যের সূত্র ধরে অপেরায় যুক্ত হয়েছে আদি নৃশংস রস ও শৃঙ্গার রস। পুরো নাটকটির সংলাপ সুনির্দিষ্টভাবে স্বরলিপিনির্ভরতায় পৌঁছেছে অপেরার ঠিকানায়। বয়ানকে রাখা হয়েছে গীতল ধারায়। আর জেরা অংশের নিরেট গদ্যকে ব্যবহার করা হয়েছে গীতলতার চড়াই হিসেবে। গদ্য ও গীতল দুটো অংশই সাজানো হয়েছে অপেরার প্রধান শর্ত লিব্রেটো ভঙ্গিতে। অভিনয় আঙ্গিকে মিশ্রিত হয়েছে চেকোভিয়ান ও ব্রেখটিয়ান ধারাকে। চেকোভিয়ান ধারায় জেরা অংশে দর্শকের উপস্থিতিকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে। অন্যদিকে রোড-শো ভঙ্গিতে বয়ান অংশে যুক্ত করা হয়েছে দর্শককে। আঙ্গিকে পাশ্চাত্যের ধারা বজায় থাকলেও সংলাপ ও সঙ্গীত দেশজ আবহ ধারণ করে ছুঁয়েছে সার্বজনীনতা।

‘নারী সকল আদি পাপের উৎস’ ধারা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইহুদী ধর্মের প্রবক্তারা জুলেখাকে খলনায়িকা হিসেবে প্রমাণের চেষ্টা করেছে। অপেরাটিতে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি আলোয় উঠে এসেছে সেই অসত্যের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদী উচ্চারণ। লিঙ্গনির্ভর রাজনীতিকে উল্টো পথে ঘুরিয়ে নিরীক্ষাধর্মী এ অপেরার বয়ান গীতল, পুঁথিনির্ভর এবং সংলাপ অংশটি নিরেট গদ্যনির্ভর। এখানে শিশু সাহিত্যিক জুলেখা জেরাকারী ইউসুফের হাতে পাশবিক জেরার শিকার, যেখানে জেরাকারী ইউসুফকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে জুলেখা ঠেলে দেয় পরিচয় সঙ্কটে। তিনটি চরিত্রে সাজানো হয়েছে অপেরাটি। জুলেখার চরিত্রে রূপ দিয়েছেন পারভিন আক্তার পারু। অন্য দু’টি চরিত্রে অভিনয় করেছেন জুনায়েদ ইউসুফ ও শিশির রহমান।

মঙ্গলবার এই অপেরা প্রদর্শনীর পাশাপাশি চয়ন খায়রুলের জুলেখা কবিতা ও নাটকের অনুরেণায় চিত্রাঙ্কন ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের লবিতে চিত্রশিল্পী রশীদ ও অঞ্জয় কুমার এবং আলোকচিত্রী নইমুজ্জামান প্রিন্সের চিত্রকর্ম ও আলোকচিত্র দিয়ে সাজানো হয় প্রদর্শনী।

চিত্রকর্ম প্রদর্শনী কালারস অব ফ্রেন্ডশিপ ॥ ধানম-ির রাশিয়ান বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি কেন্দ্রে চলছে আন্তর্জাতিক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী কালারস অব ফ্রেন্ডশিপ। বাংলাদেশ ও ভারতের শিল্পীদের সৃজন কর্ম দিয়ে সাজানো এ প্রদর্শনীর যৌথ আয়োজক কলকাতার ইয়ুথ গিল্ড ফর ফ্রেন্ডশিপ ও ঢাকার কারখানা আর্ট স্পেস। সকল সার্কভুক্ত দেশকে শিল্পের মাধ্যমে সংযুক্ত করাই এ প্রদর্শনীর লক্ষ্য। কলকাতায় প্রদর্শন পর্ব শেষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই শিল্প আয়োজন।

প্রদর্শনীতে শিল্পকর্ম নিয়ে অংশ নেয়া বাংলাদেশের শিল্পদের মধ্যে রয়েছেন আজহারুল ইসলাম চঞ্চল, উত্তম কুমার রায়, উম্মে হাবিবনা শুচি, চিন্ময় শিকদার, শাহনূর মামুন, পটুয়া নাজির প্রমুখ। ভাররতীয় শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন জীবন বিশ্বাস, অশোক রায়, পরমেশ পাল, পাভেল ব্যানার্জী, জয়দেভ বালা, সুমিতা চৌধুরী প্রমুখ। পাঁচ দিনের এ প্রদর্শনী শেষ হবে ৩১ মার্চ। প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।