১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

মিসরের বিমান ছিনতাই নাটকের অবসান, সকল আরোহী মুক্ত

  • ছিনতাইকারী গ্রেফতার

জনকণ্ঠ ডেস্ক ॥ নাটকীয় উপায়ে ছিনতাই করে সাইপ্রাসে নিয়ে যাওয়া মিসরীয় বিমানটির সকল আরোহী মুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি ছিনতাইকারী সাইফ আলদিন মুস্তফাকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবারের বিমান ছিনতাই ঘটনার অবসান হয়েছে। টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, দুই হাত ওপরে তুলে উড়োজাহাজ থেকে বেরিয়ে আসছেন মুস্তফা। ঠিক এর কিছু সময় আগে বিমানটির সকল আরোহীকে মুক্তি দেন তিনি। সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক টুইটার বার্তায় বলেন, অবশেষে ছিনতাই ঘটনার অবসান ঘটেছে।

তবে এই ঘটনার সঙ্গে সন্ত্রাসবাদের কোন সংশ্লিষ্টতা নেই বলে জানিয়েছে সাইপ্রাস। খবরে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত হতাশা ও সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতে উদগ্রীব আলেক্সান্দ্রিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক মুস্তফা সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণে এই কা- ঘটায়। খবর বিবিসি, ডেইলি মেইল ও এএফপির।

মঙ্গলবার সকালে মিসর এয়ারলাইন্সের ‘এ-৩২০’ বিমানটি আলেক্সান্দ্রিয়া থেকে রাজধানী কায়রোর উদ্দেশে যাত্রার পর যাত্রীবেশী মুস্তফা নিজের শরীরে আত্মঘাতী বেল্ট বাধা আছে বলে চিৎকার শুরু করে। এরপর তিনি বিমানটির পাইলটকে পথ ঘুরিয়ে তুরস্ক অথবা সাইপ্রাসের দিকে যেতে বলে। পরে সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে বিমানটি সাইপ্রাসের লারনাকা বিমানবন্দরে অবতরণ করান পাইলট। তারপর বিমানটির মোট ৬২ আরোহীর মধ্যে চারজন বাদে সবাইকে নিরাপদে ছেড়ে দেন মুস্তফা। এরপর আরবীতে লেখা একটি চিঠিতে সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের দাবি জানান তিনি।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত তার সাবেক স্ত্রী সন্তানসহ মুস্তফার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য রওয়ানা হন।

সাইপ্রাসের প্রেসিডেন্ট নিকোস আনাস্তাসিয়াদেস সাংবাদিকদের বলেন, এটা সন্ত্রাসবাদ জাতীয় কোন ঘটনা নয়। এ ঘটনায় কোন নারীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কিনা জানতে চাইলে হাসতে হাসতে প্রেসিডেন্ট বলেন, সব ঘটনার পেছনেই একজন নারী থাকে।

তবে মিসরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মুস্তফাকে একজন অপদার্থ বলে আখ্যায়িত করেছে। এক বিবৃতিতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মুস্তফা কোন সন্ত্রাসী নন। স্রেফ অপদার্থ। সন্ত্রাসীরা ক্ষ্যাপাটে হয়। বোকা হয় না। কিন্তু মুস্তফা একজন বোকা।

আলেকজান্দ্রিয়া বিমানবন্দরের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেন, বিমানটি যখন আকাশে ওড়ে তখন যাত্রীদের মধ্যে আট আমেরিকান, চার ব্রিটিশ, চার ডাচ্, দুই বেলজিয়ান, এক

পুলিশ কর্মকর্তা নিকোলেতা ত্রিমউ বলেন, ছিনতাইকারী স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে আটটায় নিয়ন্ত্রণ টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং আটটা ৫০ মিনিটে বিমানটিকে অবতরণের অনুমতি দেয়া হয়। এরপর কিছু সময় পর আরবীতে লেখা একটি চিঠি তিনি টারমাকে ছুড়ে মারেন। চিঠিটি আরবী থেকে অনুবাদ করার পর তার উদ্দেশ্য বোঝা যায়। এতে মুস্তফা তার সাবেক স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের ইচ্ছা পোষণ করেন।

বিমানের পাইলট ওমর আল-জামালের বরাত দিয়ে মিসরের সিভিল এ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের মধ্যে থেকে একজন উঠে এসে বিস্ফোরক বেল্ট দেখিয়ে হুমকি দেয় এবং লারনাকায় নামতে বাধ্য করে।

অবশ্য ছিনতাইকারীর বেল্টে সত্যিই বিস্ফোরক ছিল কিনা- তা নিশ্চিত করতে পারেননি সাইপ্রাস কর্মকর্তারা।

সিভিল এ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনার পর পাইলট, কো পাইলট, তিন কেবিন ক্রু ও তিন বিদেশী যাত্রীকে রেখে ছিনতাইকারী বাকিদের ছেড়ে দেয়।

এরপর স্থানীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে ওই উড়োজাহাজ থেকে যাত্রীদের নেমে একটি বাসে উঠতে দেখা যায়। এই পরিস্থিতিতে লারনাকা বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ করে দেয় সাইপ্রাস কর্তৃপক্ষ।