১৭ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

পাকিস্তানী টিমের পাঠানকোট বিমানঘাঁটির স্পর্শকাতর অংশ পরিদর্শন

  • স্থানীয়দের বিক্ষোভ

পাকিস্তানের জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম (জিট) মঙ্গলবার ভারতের পাঠানকোট বিমানঘাঁটির স্পর্শকাতর অংশ পরিদর্শন করেছেন। এই বিমানঘাঁটিতে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি সন্ত্রাসী হামলার তদন্ত করতে পাঁচ সদস্যের দল জিট রবিবার ভারত গিয়েছে। ওই জঙ্গী হামলায় জড়িত ছয় সন্ত্রাসীকে পাকিস্তানী নাগরিক বলে চিহ্নিত করেছে ভারতীয় কর্তৃপক্ষ। তবে পাক তদন্তকারীদের বিমানঘাঁটিতে প্রবেশ করা নিয়ে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টিসহ অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা। তদন্তকারী দল ঘাঁটিতে পৌঁছলে তাদের বিরুদ্ধে ‘রে যাও’ সেøাগান দেয় স্থানীয় জনতা। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

এদিকে জিটের হাতে সব তথ্য-প্রমাণ তুলে দিয়েছে ভারতের ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ)। এই তথ্য-প্রমাণের মধ্যে জঙ্গীদের ডিএনএ স্যাম্পল থেকে শুরু করে ফোন কলের রেকর্ডও রয়েছে। দিল্লীতে সোমবার এনআইএ’র সদর দফতরে দীর্ঘ বৈঠকে করেন দু’দেশের প্রতিনিধিরা। বৈঠকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালও উপস্থিত ছিলেন। পাঠানকোট বিমান ঘাঁটিতে জঙ্গী হামলা কিভাবে হয়েছিল এবং হামলার তদন্ত কতদূর সম্পন্ন হয়েছে, সে বিষয়ে জিট সদস্যদের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেন কর্মকর্তারা। হামলার ঘটনা বর্ণনার জন্য একটি প্রেজেনটেশনও তৈরি করে ভারতের গোয়েন্দারা। ৯০ মিনিটের এই প্রেজেনটেশনের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি পাক তদন্তকারী দলের সামনে উপস্থাপন করা হয়। বৈঠকে জিট প্রতিনিধিদের জঙ্গীদের কাছ থেকে উদ্ধার করা একে-৪৭ রাইফেল ও পিস্তল, বাইনোকুলার, জিপিএস ডিভাইস, গ্রেনেড, ওষুধ, কাপড়, খাবারের প্যাকেট, খেজুর ও শুকনা ফল, তারকাঁটার ও জুতাও দেখানো হয়। জিট দল পাঞ্জাবের অমৃতসরের শ্রী গুরু রামদাস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বাসে করে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে পাঠানকোটে পৌঁছে। ছয় জঙ্গী যেখানে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ৮০ ঘণ্টা ধরে বন্দুকযুদ্ধ চালিয়েছে, পাকিস্তানী তদন্ত দল প্রধানত সেই স্পর্শকাতর স্থানটিই পরিদর্শন করেন। সেখানে পাঞ্জাব সোয়াট টিমসহ প্রচুর নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এ সময় স্থানীয় জনতা প্ল্যাকার্ড ও কালো পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ দেখায় ও সেøাগান দেয়। জিট সদস্যদের ভারত সফর এবং তাদের তদন্তের অনুমতি দেয়া নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়েছে। কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টি প্রশ্ন, যারা অপরাধী তাদেরই তদন্ত করতে আসার অনুমতি দেয়ার মধ্য দিয়ে মোদি সরকারের কূটনৈতিক দেউলিয়াপনারই পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে।

নির্বাচিত সংবাদ