১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিকে টেন্ডার নিয়ে জালিয়াতি

  • ঠিকাদারদের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার, সিরাজগঞ্জ ॥ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে অর্ধকোটি টাকার মালামাল ক্রয়ের পুনর্দরপত্র গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বেশ কয়েকজন দরদাতা সোমবার দুপুরে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে।

জানা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন দফতরের ব্যবহারিক কাজে অর্ধকোটি টাকা মূল্যমানের যন্ত্রাংশ ও কাঁচামাল সংগ্রহে দুই প্যাকেজে গত ৫ মার্চ পুনর্দরপত্র আহ্বান করা হয়। সিডিউল বিক্রির জন্য সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ঢাকার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালকের কার্যালয় নির্ধারণ করা হয়। একই সঙ্গে সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও ঢাকার কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পরিচালকের কার্যালয়সহ সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের রক্ষিত বাক্সে দরপত্র গ্রহণের শেষ দিন বলে দরপত্রে উল্লেখ করা হয়।

কিন্তু রবিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোন কর্মকর্তা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে রক্ষিত বাক্সটি সিলগালা করতে আসেনি। পৌনে ১১টার সময় ওই প্রতিষ্ঠানের সিভিল বিভাগের প্রধান নজরুল ইসলাম সিলগালা করতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এলেও বাক্সের ভেতর আগে থেকেই দরপত্র রাখা ছিল। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে হৈচৈ শুরু হয়। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের দায়িত্বপ্রাপ্ত নজরুল ইসলাম ও পিয়ন শাকিল আহম্মেদ এ সময়ে ঠিকাদারদের তোপের মুখে পড়েন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী ঠিকারদারগণ অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে বিষয়টি জানান।

শেষ পর্যন্ত ঠিকাদারদের পক্ষে শরিফুল ইসলাম তার মৌখিক ও লিখিত অভিযোগে জানান, পছন্দের লোকজনকে কাজ পাইয়ে দেয়ার জন্য অধ্যক্ষ নিজেই এ কারসাজি করেছেন।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল বিভাগের ইনচার্জ শিক্ষক নজরুল ইসলাম বলেন, আমি গত কয়েক দিন আগে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এসে বাক্স রেখে গেছি। সোমবার নির্দেশমতো বেলা পৌনে ১১টার সময় বাক্স সিলগালা করার সময় সেখানে এসে আগে থেকেই দরপত্র জমা দেখতে পাই। বেশ কিছু ঠিকাদার তাদের দরপত্র বাক্সে না ফেলে শেষপর্যন্ত আমার কাছে জমা দিয়েছেন। তারা আমার কাছে একটি অভিযোগপত্রও জমা দেন। টেন্ডার প্রক্রিয়া পুরোপুরি স্বচ্ছ হয়েছেÑ এমন দাবি করে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল হান্নান খান জানান, গত কয়েক দিন আগে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে দরপত্র ফেলার জন্য লোক মারফত তালাবদ্ধ বাক্স দিয়ে এসেছি। সিলগালা নেই, তাতে কোন সমস্যা নেই। পুলিশের পাশাপাশি আমার লোকজনও তো সেখানে ছিল। উল্লেখ্য, নিয়মানুযায়ী সিলগালা বাক্স ছাড়া শুধু তালাবদ্ধ বাক্স দিয়ে কোন টেন্ডার গ্রহণ বিধিসম্মত নয়।