১৬ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ফুটবলারদের শাস্তি কতটা যৌক্তিক?

  • জাহিদ রহমান

গত অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত ফুটবলে কোন সাফল্য বলে কিছু নেই। অক্টোবরে ভারতের কেরালাতে অনুষ্ঠিত দক্ষিণ এশিয়া কাপে এবং পরবর্তীতে নিজ দেশের মাটিতে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল চরম ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। দুটি টুর্নামেন্টেই দেশের ফুটবলারদের বাজে পারফর্মেন্স সর্বত্র সমালোচিত হয়। কিন্তু সেই সমালোচনা আরও জমাট বাঁধে যখন জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের শক্ত অভিযোগ উঠে। বাফুফের তদন্তে বলা হয় খেলা চলাকালীন সময়ে কিছু খেলোয়াড় নিয়ম-কানুনের সব সীমা লঙ্ঘন করে-ফলে যার তীব্র প্রভাব পড়ে দলীয় পারফর্মেন্সে। সর্বশেষ তদন্ত কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে দলীয় অধিনায়ক মামনুলসহ দুজন ফুটবলারকে এক বছরের জন্য এবং অন্য দুজনকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেশ কয়েকজনকে সতর্কও করা হয়েছে। এর আগে কখনই শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে এত ফুটবলারকে শাস্তি দেয়া হয়েছে বলে কোন ধরনের রেকর্ড নেই। শাস্তিপ্রাপ্ত খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। যে অভিযোগ নিয়ে পক্ষে বিপক্ষে তর্ক-বিতর্কও চলমান রয়েছে। তবে ফুটবলে এখন যা চলমান তা কেবলই ফুটবলের সৌন্দর্য ক্ষুণœ করে চলেছে। বিশেষ করে ফুটবলারদের শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং শাস্তি ঘটনায় ক্রীড়ামোদিরা অবাক না হয়ে পারেননি।

সাবেক তারকা ফুটবলার খুরশিদ আলম বাবুল বলেন, ‘ফুটবলে যে ঘটনা ঘটলো সেটা খুবই পীড়াদায়ক। সাবেক ফুটবলার হিসেবে বিষয়টি মেনে নিতে পারছি না। অনেক কষ্ট পেয়েছিÑফুটবলে এ রকম কখনই হওয়া উচিত ছিল না। যে সব অভিযোগে খেলোয়াড়দের যে প্রক্রিয়ায় শাস্তি দেয়া হয়েছে সেখানেও প্রশ্ন রয়েছে। শাস্তিটা এভাবে দেয়া অনুচিত হয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিষয় মিডিয়াতে যেভাবে এসেছে তাতে করে অভিভাবকদের মাঝেও নেতিবাচক অবস্থা তৈরি হবে। অনেকেই আর সন্তানদের ফুটবলে আসতে উৎসাহ দেখাবে বলে মনে হয় না।’ খুরশিদ আলম বাবুল আরও বলেন, এই ঘটনায় কর্মকর্তারাও কিন্তু কোনভাবে দায় এড়াতে পারে না। শুধু খেলোয়াড়দের দোষী করলে চলবে না। কর্মকর্তাদের অনেক দায়িত্ব ছিল। খেলোয়াড়দের যতটা মোটিভেটেড করার কথা ছিল কর্মকর্তারা নিশ্চিত সেভাবে মোটিভেটেড করতে পারেনি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ফুটবলাররা রাতে কেন বাইরে ছিল-এটিতো দেখার দায়িত্ব ছিল কর্মকর্তাদেরই। অথচ সব শাস্তি দেয়া হলো খেলোয়াড়দের।’ খুরশিদ আলম বাবুলের মতে, ফুটবলে এখন যা হচ্ছে সেটার অন্যতম কারণ নতুন নতুন খেলোয়াড় বের না হওয়া। আগে একই পজিশনে একাধিক বিকল্প খেলোয়াড় থাকত। নিজস্ব পজিশনে জায়গা করে নিতে খেলোয়াড়দের অনেক তৎপরতা থাকত। কিন্তু এখন আর এটি নেই। ফুটবলের সার্বিক অবনমনের কারণেও অপ্রত্যাশিত ঘটনাগুলো তৈরি হচ্ছে। সময় এসেছে সবকিছু নিয়ে ভাববার এবং কার্যকর সিদ্ধান্ত নেয়ারÑযা ফুটবলকে আলোকিত করবে।

সাবেক তারকা ফুটবলার ইমতিয়াজ সুলতান জনির মতে, যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সবমিলিয়ে তা খুবই দুঃখজনক। ফুটবলে এমন ঘটনা ঘটুক এটি কারও কাম্য ছিল না। এই ঘটনা ফুটবলের জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে গেল। ইমতিয়াজ সুলতান জনি বলেন, ‘যে অভিযোগ এনে বাফুফে খেলোয়াড়দের শাস্তি প্রদান করেছে সেটিকে সঠিকই মনে হয়েছে। খেলোয়াড়রা নিজেরাও তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। কিন্তু এখানেই থেমে থাকলে চলবে না। বাফুফেকে কিছু বিষয়ে এখনই মনোযোগ দিতে হবে এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্তও গ্রহণ করতে হবে। যাতে করে আগামীতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’ জনির মতে, শুধু শাস্তি দিয়ে বসে থাকলেই চলবে না। ফুটবলের স্বার্থ এবং আগামী দিনের কথাও ভাবতে হবে। এ কারণে ফুটবল ম্যানেজমেন্টটা কেমন হওয়া উচিত সে লক্ষ্যটা ঠিক করার সময় এসেছে। তিনি বলেন, কোন ঘটনার জন্য শুধু খেলোয়াড়দের দোষী করলেই হবে না। এর বড় দায় কিন্তু টিম ম্যানেজমেন্টের রয়েছে। খেলোয়াড়রা কেন এ ধরনের আচারণে লিপ্ত হলো-এর জবাবদিহিতা টিম ম্যানেজমেন্টের মধ্যেও পড়ে। জনি বলেন, এ দেশের ফুটবল টিম ম্যানেজমেন্টের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো নন টেকনিক্যাল লোকজনদের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রায়োরিটি। বহুদিন ধরে এটি চলমান রয়েছে। তারই ফলাফল বাংলাদেশ পেয়েছে। এই বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতেই হবে। জনির পরামর্শ টিম ম্যানেজার পদ এখন আর সৌখিন বা ভলিন্টিয়ার বেসিসে রাখার প্রয়োজনীয়তা নেই। এই প্রয়োজন অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। এটাকে প্রফেশনাল ধারায় আনতে হবে। এই পদে পেশাদারিত্ব আনতে না পারলে ফুটবলে এ ধরনের আরও বিপর্যয়ের সম্মুখীন হতে পারে। সবশেষে তিনি বলেন, টিম খারাপ খেলতে পারে তাই বলে খেলোয়াড়রা ইনডিসিপ্লিন হবে এটা কেমন কথা। দেশ ও জার্সির সৌন্দর্য নষ্ট করার অধিকার কারও নেই। খেলোয়াড়দের সব ধরনের মোটিভেশন বাড়াতেই হবে।