১১ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

ট্রাম্পের সঙ্গে ফক্স টিভি ও ক্রুজের দ্বন্দ্ব

  • মু. আব্দুল্লাহ আলআমিন

অর্থনীতি, অভিবাসন, নিরাপত্তা, পররাষ্ট্রনীতি ও বহির্বিশ্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো বাদ দিয়ে দাম্পত্য জীবনে কে কতটা বিশ্বস্ত এ নিয়ে কলহে জড়িয়ে পড়েছেন টেক্সাসের সিনেটর টেড ক্রুজ এবং নিউইয়র্কের বিলিওনিয়ার ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে রিপাবলিকান দল থেকে নমিনেশন পেতে তারা দু’জনই এখন মরণ লড়াইয়ে লিপ্ত।

আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ থেকে বাদ যাচ্ছেন না পরস্পরের স্ত্রীরাও। তাদের আপত্তিকর ছবি পোস্ট করা শুরু করেছে উভয় পক্ষের সমর্থকরা। গত সপ্তাতে আরিজোনা ও উটাহ অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি কেন্দ্র করে ট্রাম্পবিরোধী ‘মেক আমেরিকা অসাম’ নামের একটি গ্রুপ বিজ্ঞাপন দেয় ফেসবুকে। এতে ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়ার একটি আপত্তিকর ছবি দিয়ে বলা হয়, ‘আপনাদের পরবর্তী ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে পরিচিত হন। অথবা মঙ্গলবার আপনারা ক্রুজকে সমর্থন করতে পারেন।’ মেলানিয়ার ওই ছবিটি জিকিউ সাময়িকীর ২০০০ সালের একটি সংখ্যা থেকে সংগৃহীত। অলঙ্কার ডিজাইনার ও প্রাক্তন মডেল মেলানিয়াকে বিয়ের আগে ওই ছবি তুলেছিলেন। এর জবাবে টুইটারে ক্রুজের স্ত্রী হেইডিকে আক্রমণ করেন ট্রাম্প। তিনি টুইটারে হেইডি ক্রুজের অপ্রীতিকর ছবি পোস্ট করেন। এর ত্বরিত জবাব দেন ক্রুজ। বলেন, ‘ডোনাল্ড, আপনি যদি হেইডিকে আক্রমণের চেষ্টা করেন, তবে আমি যতটা ভেবেছি, আপনি তার চেয়ে কাপুরুষ।’

শুক্রবার ন্যাশনাল ইনকুইরার ট্যাবলয়েডে ক্রুজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে স্ক্যান্ডাল প্রকাশ করে। ট্রাম্প অবশ্য বলেছেন যে, ওই পত্রিকায় কি ছাপা হয়েছে সে ব্যাপারে তার কোন হাত ছিল না। পত্রিকার রিপোর্টে বলা হয় বিয়ের পরও ক্রুজ পাঁচ জন নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন। যাদের মধ্যে ক্রুজের সাবেক মুখপাত্র ও এ্যামান্ডা কার্পেন্টারও রয়েছেন। ক্রুজ অবশ্য একে সম্পূর্ণ মিথ্যা কথা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, এগুলো ট্রাম্পের রাজনৈতিক উপদেষ্টা রজার স্টোনের মস্তিষ্ক প্রসূত। ক্রুজের ক্যাম্পেইন ম্যানেজার জেফ ট্রাম্পের মানসিক সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন। উল্লেখ্য, ক্রুজ একজন রক্ষণশীল খ্রীস্টান। তার কাছে পারিবারিক মূল্যবোধ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি তার নির্বাচনী প্রচারেরও একটি ইস্যুও বটে।

ট্রাম্পকে হতাশ করল ফক্স নিউজে

এদিকে, ট্রাম্প ও ফক্স নিউজ টেলিভিশনের উপস্থাপক মেগিন কেলির মধ্যে বিসম্বাদ শেষ হয়েও হয়নি শেষ। সবশেষ খবর হলো কেলিকে ফক্স টেলিভিশন থেকে বাদ দেয়ার জন্য ট্রাম্প প্রতিষ্ঠানটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তার এই আহ্বান থোড়াই কেয়ার করে তাকেই উল্টো ‘বাতিকগ্রস্ত’ ও মানসিকভাবে ‘অসুস্থ’ আখ্যা দিয়েছে টিভি চ্যানেলটি।

সম্প্রতি টিভি চ্যানেলটি এক বিবৃতিতে বলে, ‘মেগিন কেলির বিরুদ্ধে ট্রাম্প যেভাবে বিষোদগার করেছেন তা এক কথায় অমার্জিত, বাতিকগ্রস্ত ও অসুস্থ মানসিকতারই পরিচায়ক। এক প্রেসিডেন্ট পদ প্রত্যাশী হিসেবে যিনি দেশের সবচেয়ে সম্মানজনক পদটিতে আসীন হতে চান তার কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত নয়। মেগিন একজন উদাহরণ সৃষ্টিকারী সাংবাদিক এবং আমেরিকার একজন প্রথম সারির টিভি উপস্থাপক। তাকে নিয়ে আমরা গর্বিত। ট্রাম্পের রুক্ষ ও যৌন আক্রমণাত্মক বাক্যবাণের জবাব মেগিন যেভাবে দিচ্ছেন তার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন অব্যাহত থাকবে।’ ট্রাম্প শুক্রবার তার টুইটারে মেগিন কেলি শো’ অনুষ্ঠানটি বয়কটের আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, ‘প্রত্যেকের উচিত মেগিন কেলি শো’ অনুষ্ঠানটি বয়কট করা। অনুষ্ঠানটি মোটেই দেখার যোগ্য নয়। এতে সব সময় ট্রাম্পকে আক্রমণ করা হয়।’

ফক্স নিউজের ওই বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, ‘মেগিন কেলি তিন সন্তানের জননী এবং একজন সফল আইনজীবী, তার উপস্থাপিত অনুষ্ঠান জনপ্রিয়তার দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। তাকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের বারংবার আক্রমণ খুবই হতাশাজনক কারণ কেলি এখানে কেবল তার দায়িত্বটুকুই পালন করছেন মাত্র।’

ফক্স টিভি চ্যানেল ওই বিবৃতি দেয়ার পর ট্রাম্পের ক্যাম্পেইন টিমের নারী মুখপাত্র হোপ হিকস বলেছেন, ‘মেগিন একজন পক্ষপাতদুষ্ট রিপোর্টার ও উপস্থাপক। তিনি সব সময় ট্রাম্পের ব্যাপারে নেতিবাচক ও অসমর্থিত খবর তুলে ধরেন। ট্রাম্পকে তিনি সব সময় ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করেন। ট্রাম্প মেগিনকে কিছুই বলেননি। মেগিনের একপেশে বিতর্ক উপস্থাপনের প্রতিবাদ জানিয়েই কেবল তিনি তার এই অনুষ্ঠান বর্জন করেন।’ গত বছর আগস্টের শুরু থেকে ফক্স নিউজ রিপাবলিকান দলের প্রাইমারির বিতর্ক অনুষ্ঠান স্পনসর শুরুর পর থেকেই মেগিন ট্রাম্পের চক্ষুশূল হয়ে আছেন। ওহাইওর ক্লিভল্যান্ড শহরে তিনি দলীয় প্রথম বিতর্কে অংশ নেন। ওই অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন মেগিন। মেগিন ট্রাম্প নারী বিষয়ক তার অতীত কয়েকটি মন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন করলে তিনি অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন। ওই থেকে মেগিনের সঙ্গে তার বনিবনা হচ্ছে না।

ফক্স নিউজ চ্যানেলের সামনে উভয় সঙ্কট

গত ২০ বছর ধর ফক্স নিউজ রিপাবলিকান ও রক্ষণশীলদের সমর্থন করে এসেছে। একই সময় টিভি চ্যানেলটি ডেমোক্র্যাটিক প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামার শাসনামলের ত্রুটিগুলো তুলে ধরার ওপরই বেশি জোর দিয়েছে। এখন ট্রাম্প যেভাবে এগিয়ে চলেছেন তাতে এরকম ধারণা করা খুব অসঙ্গত হবে না যে আগামী জুলাইতে দলীয় কনভেনশনে তাকেই দলের প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী ঘোষণা করা হতে পারে। অন্যদিকে হিলারি প্রায় দলীয় নমিনেশন নিশ্চিত করার পথেই রয়েছেন। কাজেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ট্রাম্প ও হিলারির মধ্যেই হওয়ার জোরাল সম্ভাবনা। যদি তাই হয়, তবে প্রেসিডেন্সিয়াল বিতর্কে সমর্থন জানানো নিয়ে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে পারে চ্যানেলটি।