২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শরণার্থী ঠেকাতে ইউরোপ এখন মরিয়া

  • আবির হাসান

ইউরোপে উদ্বাস্তুর সঙ্কট মোকাবেলায় গত ৭ মার্চ তুরস্কের সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি চুক্তি হয়েছে। চুক্তিটি উদ্ভাবন করে জার্মানি ও তুরস্ক মিলে। গত বছর ১২ লাখ নর-নারী-শিশু সিরিয়া, আফগানিস্তান ও অন্যান্য দেশ থেকে ইউরোপে প্রবেশ করে। এ বছরও অনুরূপসংখ্যক লোক ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেই প্রবাহ ঠেকাতেই এই চুক্তির উদ্ভব। তবে রাজনৈতিক দিক দিয়ে এক মরিয়া অবস্থা থেকে এই চুক্তিটি করা হলেও তা ব্যবহারিক, আইনগত ও নৈতিক সমস্যায় আকীর্ণ।

তারপরও এমন এক চুক্তির পেছনে মূল যে চিন্তাটা কাজ করেছে তা হলো মানব পাচারকারী চক্রের ব্যবসার মডেল ও নেটওয়ার্ক ধ্বংস করে দেয়া। সেজন্য এই চুক্তি অনুযায়ী ইউরোপে পাড়ি জমানোর লক্ষ্যে বাইরের কোন লোক ঈজিয়ান সাগর দিয়ে বিঘœসঙ্কুল যাত্রা শেষে গ্রীসের কোন দ্বীপে এসে নামলে তাকে ফেরত পাঠানো হবে তুরস্কে। সেখানে তাকে বা তাদেরকে আশ্রয়প্রার্থীদের লাইনের শেষে রাখা হবে। পাঁচ বছর আগে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হবার পর থেকে এ পর্যন্ত তুরস্ক ২৭ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে। এখন গ্রীস থেকে শরণার্থী ফেরত পাঠানো হলে তুরস্কের ওপর বাড়তি চাপ এসে পড়বে। সেই চাপ লাঘব করার জন্য চুক্তিতে এই ব্যবস্থা রাখা হয়েছে যে গ্রীস থেকে ফেরত পাঠানো প্রতি একজন সিরীয় নাগরিকের জায়গায় যে আশ্রয়প্রার্থীর আবেদনপত্র যথাযথভাবে প্রসেস করা হয়েছে তাকে সরকারী পুনর্বাসন স্কিমের আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশ করতে দেয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিকমতো চললে দেশান্তরী লোকজন ইউরোপে পাড়ি জামানোর জন্য তাদের সারা জীবনের সঞ্চয় ক্রিমিনাল নেটওয়ার্কের হাতে তুলে দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাগর পাড়ি দেয়ার চেষ্টা করতে অধিকতর অনিচ্ছুক হবে।

সম্প্রতি কিছুটা কমে এলেও রবারের নৌকায় করে ঈজিয়ান সাগর পাড়ি দেয়া লোকজনের সংখ্যা এখনও যথেষ্ট বেশিই রয়ে গেছে। নৌকাডুবিতে এ বছর ইতোমধ্যে সাগরে ৩২০ জনেরও বেশি নর-নারীর সলিল সমাধি ঘটেছে। সম্প্রতি তুরস্কের উপকূলের কাছে ১৩ শিশুসহ ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যারা সাগর পাড়ি দিতে সক্ষম হয়েছে তারা স্থলভাগে আরও খারাপ অবস্থার মধ্যে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। যেমন মেসিডোনিয়া সীমান্তে হাজার হাজার শরণার্থী ঘিঞ্জি বস্তিতে গাদাগাদি অবস্থায় আছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন-তুরস্ক চুক্তি প্রণয়নে যে দুজন মুখ্য ভূমিকা রেখেছেন তারা হলেন জার্মানির চ্যান্সেলর এঙ্গেলা মেরকেল ও তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমদ দাভুতোগলু। চুক্তির শর্তাবলী নির্ধারণে দরকষাকষির সময় দাভুতোগলু মোক্ষম কিছু সুবিধা আদায় করে নিয়েছেন। যেমন আগামী তিন বছরে তুরস্কের শরণার্থী শিবিরগুলোর অবস্থার উন্নয়নে গত অক্টোবরে যে ৩৩০ কোটি ডলার তুরস্ককে সাহায্য দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল সেই অর্থ পরিশোধ ত্বরান্বিত করা এবং শেষ পর্যন্ত এই অর্থের পরিমাণকে দ্বিগুণে পরিণত করা। দ্বিতীয়ত, তুরস্কের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য হওয়ার বিষয়ে যে আলোচনা দীর্ঘদিন ধরে আটকে আছে তাতে নতুন পাঁচটি অধ্যায় উন্মুক্ত করা। তৃতীয়ত, ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবেশকারী তুর্কী নাগরিকদের ভিসার শর্ত শিথিল করা।

নির্বাচিত সংবাদ