১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

প্রতিবছর কর্নিয়া জনিত অন্ধত্বের শিকার হচ্ছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশে কর্নিয়াজনিত অন্ধের সংখ্যা ৫ লাখের বেশি, যা প্রতিনিয়ত বেড়েই চলেছে। অন্ধত্বের হার ১.৫৩ শতাংশ, যার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ কর্নিয়াজনিত অন্ধত্বের শিকার। গড়ে প্রতিবছর প্রায় ৩ হাজার মানুষ নতুন করে কর্নিয়া জনিত অন্ধত্বের শিকার হচ্ছেন।

বুধবার, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) শহীদ ডা. মিলন হলে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক চক্ষু ব্যাংক ও কর্নিয়া প্রতিস্থাপন ‘শীর্ষক এক সিম্পোজিয়ামে বিশেষজ্ঞরা এ তথ্য জানান। সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি ও রোটারী ক্লাব, ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ আই এ্যান্ড টিসু ব্যাংকস (আইএফইটিবি), টিস্যু ব্যাংকস ইন্টারন্যাশনাল (টিবিআই) উদ্যোগে এ সিম্পোজিয়ামের আয়োজন করে। সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ডা. মোঃ আলী আসগর মোড়ল এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান। বিশেষ অতিথি ছিলেন অফথালমোলজিক্যাল সোসাইটি অফ বাংলাদেশ-এর সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ, রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ডিসট্রিক (৩২৮১) গর্ভনর এসএএম শওকত হোসেন, সাবেক ডিসট্রিক গভর্নর জয়নুল আবেদীন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ আই এ্যান্ড টিসু ব্যাংক-এর সভাপতি জনাব মাহমুদ ফারাজদাগি, টিস্যু ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল-এর সিইও জনাব ডগলাস জে ফুরলং। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. একেএম সালেক। অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান বলেন, এ ধরণের সিম্পাজিয়াম মানুষের সুস্থ ও সুন্দর জীবন রক্ষায়, অন্ধত্বমোচনে এবং অন্ধত্ব প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিরাট অবদান রাখবে।

সিম্পোজিয়ামে জাননো হয়, বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশ। প্রতিবর্গ কিলোমিটারে এর জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রায় ১১০০, যাঁদের ৭৪ শতাংশ গ্রামে বসবাস করেন। কৃষি কাজ বাংলাদেশে প্রধান পেশা। কৃষি নির্ভরশীল বাংলাদেশে কৃষি কাজজনিত ইনজুরি কর্নিয়া ক্ষতের অন্যতম কারণ। সিম্পোজিয়ামে বলা হয়, সন্ধানী জাতীয় চক্ষুদান সমিতি ও রোটারী ক্লাব, আইএফইটিবি ও টিবিআই -এর সহযোগিতায় কর্নিয়াজনিত অন্ধত্ব বিমোচন জাতীয় কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আগামী ২ বছর মেয়াদী এই কর্মসূচির আওতায় ৬ হাজার কর্নিয়া প্রতিস্থাপন, ৮শ’ মেডিক্যাল ছাত্রছাত্রী, তরুণ চিকিৎসক, রোটারিয়ান, সেচ্ছাসেবকদের কর্নিয়া সংগ্রহের প্রশিক্ষণসহ কর্নিয়া সার্জনদের কর্নিয়া প্রতিস্থাপনের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। সিম্পোজিয়ামে বিভিন্ন দেশ থেকে আগত ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ আই এ্যান্ড টিসু ব্যাংক ও টিস্যু ব্যাংক ইন্টারন্যাশনাল-এর সম্মানিত কর্মকর্তা, স্বেচ্ছাসেবীদের ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।