১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

তেলের দাম কমছে!

সরকারের সবকিছুই যেন চলে ঢিমেতালে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমছে ২০১৪ সালের মাঝামাঝি থেকে। তখন থেকেই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সংশ্লিষ্ট সব মহলের দাবি ছিল সরকারের প্রতি তেলের দাম কমানোর। অর্থমন্ত্রীও সময় সময় চাপে পড়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, তেলের দাম কমানো হবে। কিন্তু কাকস্যপরিবেদনা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের বিগত দীর্ঘদিনের লোকসান কমানোর অজুহাতে সরকার তাতে ভ্রƒক্ষেপ করেনি। এক্ষেত্রে সরকারের যুক্তি ছিল, অতীতে যখন আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার, তখন ভর্তুকি দিয়ে তেল বেচতে হয়েছে। এখন যখন তেলের দাম কমছে, তখনই ভর্তুকি পুষিয়ে নেয়ার উপযুক্ত সময়। প্রশ্ন হলো, সেটা কতদিন? সরকারকে তো জনকল্যাণমূলক কিছু পদক্ষেপ নিতেই হয়। অন্তত তৃতীয় বিশ্বভুক্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোতে। এখানে সবসময় সরকারকে তথাকথিত ‘বেনিয়ার’ ভূমিকায় অবতীর্ণ হলে চলে না। তাছাড়াও অতীতের ভর্তুকি বা লোকসানের দায় বর্তমান প্রজন্ম নেবে কেন? তাও বিপিসির মতো দুর্নীতিগ্রস্ত একটি প্রতিষ্ঠানের? বিপিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে জ্বালানি তেল বিক্রিতে তারা লাভ করেছে ১০ হাজার ১৯৩ কোটি টাকা তবে সরকার থেকে অতীতে বিপিসিকে ভর্তুকি বাবদ যে ২৬ হাজার কোটি টাকা দিয়েছিল তা ফেরত চাইছে। সেই অর্থ ফেরত দিতে হলে এখনও জ্বলানি তেলের দাম সমন্বয় করা তথা কমানো কঠিন হবে। শুভঙ্করের ফাঁক রয়েছে অন্যত্রও। জ্বালানি তেল বেঁচে বিপিসি আপাতত লাভ করলেও, অন্যদিকে লোকসান গুনছে বিদ্যুত উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। কেননা, ফারনেস অয়েলের দাম বেশি, যা দিয়ে ব্যবহার করা হয় বিদ্যুত উৎপাদন কেন্দ্রে। সরকার কয়েক মাস আগে বেসরকারী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত কয়েকটি বিদ্যুতকেন্দ্রকে ফারনেস তেল আমদানির অনুমতি দিয়েছে। তাদের উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম কম। অথচ পিডিবির বিদ্যুতের দাম বেশি। আর তাই সরকার আপাতত ফারনেস অয়েলের দাম কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে, পিডিবির লোকসান কমানোর জন্য। পরে পর্যায়ক্রমে কমানো হতে পারে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোলের দাম। তবে সেটা কতদিনে, তা ঠিক হয়নি এখনও। মাসখানেক অথবা কয়েক মাসও লাগতে পারে বৈকি! তবে কোন অবস্থাতেই এই মূল্য হ্রাস ১০-১৫ শতাংশের বেশি হবে না। আন্তর্জাতিক বাজারে বর্তমানে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ৩০ থেকে ৪০ ডলারে ওঠানামা করছে। ইরানের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহারসহ তেল রফতানিকারক দেশগুলো পাল্লা দিয়ে তেল বেচায় আগামীতে তেলের দাম সর্বোচ্চ ৫০ ডলারের ওপরে না ওঠার সম্ভাবনাই বেশি। তা সত্ত্বেও সরকার বিপিসিকে লাভের ঘরেই ধরে রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে বিপিসির লাভের অঙ্কটা একটু যেন বেশিই এই যা।

দেশে তেলের দাম অদূর ভবিষ্যতে যাই হোক না কেন, অন্তত এই মুহূর্তে আমজনতার জন্য কোন সুখবর নেই। কেননা, তেলের দাম কমানো হলে একই সঙ্গে বাড়ানো হচ্ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম। গণপরিবহনের ভাড়া কমানো হবে না, এই যুক্তিতে সরকার ডিজেলের দামও কমাতে অনিচ্ছুক। শেষ পর্যন্ত বিদ্যুত-গ্যাসের দাম বাড়িয়ে এবং তেলের দাম কমিয়ে সরকার লাভ-লোকসান-ভর্তুকির মধ্যে যে সমন্বয় সাধন করতে চাচ্ছে, তার আদৌ কোন সুফল আমজনতা পাবে বলে মনে হয় না। অথচ অর্থনীতিবিদ ও বিশেষজ্ঞদের দাবি, তেলের দাম গড়ে ১০ শতাংশ কমানো হলে দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়বে শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ। এখন দেখার বিষয়, সরকার কোন্ পথে হাঁটবে?

নির্বাচিত সংবাদ