১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বেড়েছে আগ্রাসন প্রবণতা

মশিউর রহমান

কৃষিপ্রধান স্বনির্ভর বাংলাদেশ, আমাদের মাতৃভূমি। সবুজের অভয়ারণ্যে ঘেরা এ স্বদেশ। এদেশের প্রধান উৎপাদন কৃষিনির্ভর। ধান, পাট, তামাক, চা যা আমাদের অর্থকরী ফসল। বৈদেশিক মুদ্রা আনে। এদেশের সম্পদ বাড়ায়। বাংলাদেশের অধিকাংশ লোক কৃষিজীবী। কৃষকের দেশ বাংলাদেশ। কৃষি ভূমি নদীভাঙ্গন কবলিত। প্রতিবছর অনেক আবাদী জমি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। যা পরে অনাবাদী পতিত ও চরাঞ্চল হিসেবে জেগে ওঠে। যা আবাদের জন্য অযোগ্য বিবেচিত হয়। চাষাবাদের জমি দিন দিন কমে যাচ্ছে। দেখার যেন কেউ নেই। এমন অবস্থা।

খাদ্য কৃষকের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কষ্টার্জিত উপার্জন। যা দেশের মানুষের খাদ্য নিবারণে অগ্রগণ্য ভূমিকা পালন করে। বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আনয়ন করে। জনসংখ্যার তুলনায় কৃষি জমি বাড়েনি। বেড়েছে কৃষি ভূমি কেড়ে নেয়া আগ্রাসন প্রবণতা। কৃষি জমি না বাড়লেও খাদ্যে ঘাটতি নেই বললে চলে। অতীত পর্যালোচনা করলে দেখতে পাব যা, প্রচুর আবাদী জমি থাকা সত্ত্বেও খাদ্যে বিরাট আকারে সঙ্কট ছিল। সেইসব মোকাবেলা করে আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। ষোলো কোটি মানুষের খাদ্যের যোগান দিলেও জমি যে হারে কমছে তার কি হবে?

নানা কলকারখানা শিল্প এলাকা ও নগরায়ন প্রকল্প গড়ে তোলা হচ্ছে কৃষি জমির ওপর। সরকারী বলি আর ব্যক্তি মালিকানাধীন বলি কোনভাবে রোধ করা যাচ্ছে না। সঠিকভাবে কৃষি জমির ব্যবহার কোন পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা নেই। এভাবে চলতে থাকলে সব জমি নগরের রাহুগ্রাসে নিমজ্জিত হবে। তাহলে খাদ্য উৎপাদন হবে কোথায়?

তাই সময় থাকতে কৃষি জমির ওপর চাপ না বাড়াতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সবার সুদৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। তাই পরিকল্পনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। যাতে আর কোন কৃষি জমির ওপর নগরায়ন ও শিল্পাঞ্চল এলাকা গড়ে না ওঠে। এভাবে চলতে থাকলে অদূর ভবিষ্যতে খাদ্য সঙ্কট দেখা দেবে। যা সমাধান করা অসম্ভব হয়ে যাবে। সবার এক্ষেত্রে এগিয়ে আসা উচিত। সরকারীভাবে এর সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা উচিত।

ডাক্তারপাড়া, কুড়িগ্রাম থেকে