২২ অক্টোবর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

১২ প্রতিষ্ঠান পেল রাষ্ট্রপতি পুরস্কার

  • উদ্যোক্তাদের সহজশর্তে ঋণ দেয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ বেসরকারী খাতে শিল্প স্থাপন, পণ্য উৎপাদন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অবদানের জন্য ১২টি প্রতিষ্ঠানকে ২০১৪ সালের ‘রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার’ দেয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতি মোঃ আব্দুল হামিদ বুধবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে শিল্পোদ্যোক্তাদের হাতে এই পুরস্কার তুলে দেন। এ সময় তিনি উদ্যোক্তাদের সহজশর্তে ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে সময়মতো ঋণ পরিশোধের বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘শিল্পায়নের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জনে বেসরকারী খাতের বিকাশ অপরিহার্য। দেশে বেসরকারী খাত যত বেশি শক্তিশালী হবে শিল্পায়নের ধারা তত বেশি বেগবান হবে। এ বাস্তবতা বিবেচনা করে সরকার বেসরকারী খাতে উদ্যোক্তাদের বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়ে আসছে। বিশেষ করে, এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের এক অঙ্কের সুদে ঋণ দেয়াসহ নারী উদ্যোক্তাদের জামানতবিহীন ঋণ ও অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্লট বরাদ্দ দেয়ার বিষয়টি রাষ্ট্রপতি অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী সংস্থাগুলোকেও এ লক্ষ্যে এগিয়ে আসতে হবে। বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পে তিনটি করে নয়টি, কুটির শিল্পে একটি এবং হাইটেক শিল্পে দুটি প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রপতির শিল্প উন্নয়ন পুরস্কার দেয়া হয়। বৃহৎ শিল্প ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রামের বিএসআরএম স্টিলস লিমিটেড, ঢাকার আব্দুল মোনেম লিমিটেড ও কুষ্টিয়ার বিসিক শিল্প নগরীর বিআরবি কেবলস ইন্ডাস্ট্রিজ এ পুরস্কার পেয়েছে।

মাঝারি শিল্প ক্যাটাগরিতে বসুমতি ডিস্ট্রিবিউশন, এ্যাগ্রিকেয়ার ইমপোর্ট ও এক্সপোর্ট এবং খুলনার জালালাবাদ ফ্রোজেন ফুডস লিমিটেড পেয়েছে রাষ্ট্রপতির পুরস্কার। ক্ষুদ্র শিল্প ক্যাটাগরিতে নরসিংদীর হেলাল এ্যান্ড ব্রাদার্স, চট্টগ্রামের এডেসান গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ ও পাবনার প্রিন্স কেমিক্যাল কোম্পানি এ পুরস্কার পেয়েছে। কুটির শিল্প ক্যাটাগরিতে রাষ্ট্রপতির পুরস্কার পেয়েছে মানিকগঞ্জের জননী উইভিং ফ্যাক্টরি। আর হাইটেক শিল্প ক্যাটাগরিতে চট্টগ্রামের ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড ও ঢাকার সার্ভিস ইঞ্জিন লিমিটেড পুরস্কার পেয়েছে। অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতার কথা মাথায় রেখে উদ্যোক্তাদের পণ্য উৎপাদনে বৈচিত্র্য আনার আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা তীব্রতর হচ্ছে। তাই পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদনেও বৈচিত্র্য আনতে হবে। নির্দিষ্ট কোন পণ্য বা সেবা খাতের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক গতিধারার সঙ্গে তাল মিলিয়ে শিল্পোৎপাদনে বহুমুখী ধ্যান-ধারণা প্রয়োগ করতে হবে।

শিল্প উদ্যোক্তাদের ‘শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ’ নিশ্চিত করারও তাগিদ দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, উৎপাদন ও শ্রমিক একে অপরের পরিপূরক। অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে শ্রমিকরা হচ্ছে শিল্পের মূল সহায়ক শক্তি। উৎপাদনের জন্য শ্রমিকদের শ্রম ও দক্ষতা অপরিহার্য। মালিক-শ্রমিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক শিল্প খাতের উন্নয়নের পূর্বশর্ত। তাই আমি উদ্যোক্তাদের প্রতি শ্রমিকের কল্যাণ নিশ্চিত করতে উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য আগামী ১৫ বছরে ১০০টি ইকোনমিক জোন গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে। এসব ইকোনমিক জোনের একটি বড় অংশ বেসরকারী উদ্যোক্তাদের মাঝে বরাদ্দ দেয়া হবে। সেখানে কর রেয়াতসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীরা সমানভাবে ভোগ করবেন। শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমুর সভাপতিত্বে অন্যদের মধ্যে শিল্প সচিব মোশাররফ হোসেন ভূইয়া, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শাখাওয়াত হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।