১৩ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

শততম মঞ্চায়নে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক নাটক ‘লাল জমিন’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলাদেশের সবচেয়ে গৌরবময় ইতিহাস মুক্তিযুদ্ধের কাহিনী নিয়ে নির্মিত, মোমেনা চৌধুরীর একক অভিনীত ‘লাল জমিন’ নাটকের শততম মঞ্চায়ন আজ বৃহস্পতিবার। রেপার্টরি থিয়েটার ‘শূন্যন’-এর দর্শকনন্দিত প্রযোজনা নাটক ‘লাল জমিন’। দল সূত্রে জানা গেছে, আজ শিল্পকলা একাডেমির এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭টায় ‘লাল জমিন’ নাটকের শততম প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। এ উপলক্ষে থাকছে আনুষ্ঠানিকতা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন একজন বরেণ্য ব্যক্তিত্ব। আরও থাকবেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা। এছাড়া শততম মঞ্চায়ন উপলক্ষে তিনজন বীরাঙ্গনাকে সম্মাননা দেয়া হবে। পাশাপাশি সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভাতো থাকছেই। ‘লাল জমিন’ নাটকটি রচনা করেছেন নন্দিত নাট্যকার মান্নান হীরা। নির্দেশনা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলার শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী। নাটকটির শততম মঞ্চায়ন প্রসঙ্গে সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, দু’বছর ধরে নাটকটি মঞ্চে উপস্থাপন করছি। দেশ ও দেশের বাইরে এটি ব্যাপক দর্শকনন্দিত হয়েছে। বেশ দ্রুত আমরা শততম প্রদর্শনী করতে পারছি। এটাই আমাদের বড় পাওয়া। আমরা আশা করছি নাটকটি আরও অনেক মঞ্চস্থ হবে এবং বরাবরই দর্শকদের প্রশংসা কুড়াবে।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও পরবর্তী সময়ের গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘লাল জমিন’ নাটকের কাহিনী। ‘লাল জমিন’ নাটকের অভিনেত্রী মোমেনা চৌধুরীর একক অভিনীত নাটক। অসাধারণ অভিনয়শৈলী দিয়ে তিনি নাটকটিকে মানুষের হৃদয়ের মণিকোঠায় পৌঁছে দিয়েছেন। তার বাচিক ও আঙ্গিক অভিনয় মক্তিযুদ্ধের দৃশ্যগুলোকে বর্ণিল ও বাস্তবিকভাবে উপস্থাপন করেছেন। তাইতো নাটকটি দর্শক বার বার দেখতে যান। যুদ্ধ ও যুদ্ধ-উত্তর বাংলাদেশে এক সংগ্রামী নারীর জীবন অভিজ্ঞতার নাট্যপ্রকাশ ‘লাল জমিন’। কিশোরী একটি মেয়েকে ঘিরে এর গল্প আবর্তিত হয়েছে। শুধু মুক্তিযুদ্ধ নয়, তারপর আরও কয়েকটি দশক। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে চৌদ্দ বছর বয়সী এক কিশোরীর অংশগ্রহণ, লক্ষ্যে পৌঁছবার আগেই পুরুষ যোদ্ধাদের শহীদ হওয়া, নারী সদস্যদের ওপর নেমে আসা ভয়াবহ নির্যাতন, কিশোরীর ত্যাগ-সবশেষে স্বাধীনতা অর্জন দর্শকদের এক নতুন অভিজ্ঞতা সম্মুখে দাঁড় করিয়ে দেয় ‘লাল জমিন’। স্বাধীনতা অর্জনই কেবল ‘লাল জমিন’ এর সমাপ্তি দৃশ্য নয়, এরপরে যুক্ত হয়েছে বিগত ৪৪ বছরে বাংলাদেশের যুদ্ধোত্তর সেই ঘাতক দালালদের বৃত্তান্ত ও একজন মুক্তিযোদ্ধা নারীর উপলব্ধি, যা দর্শকদের বর্তমানের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে প্রশ্নবাণে জর্জরিত করে।

শততম মঞ্চায়নে উচ্ছ্বসিত মোমেনা চৌধুরী জনকণ্ঠকে বলেন, খুবই ভাল লাগছে। বাংলাদেশের গৌরবময় একটি বিষয় নিয়ে নির্মিত নাটকের শততম মঞ্চায়ন হতে যাচ্ছে। এ নাটকের অভিনেত্রী হিসেবে আমি গর্বিত। বিশেষ করে দর্শকরা নাটকটি এত ভালভাবে নিয়েছেন যে আমি অনেক আপ্লুত। ভারতের প্রদর্শনীতেও আমরা নাটকের প্রশংসা পেয়েছি। মোমেনা বলেন, আমাদের দেশে কোন নাটকের ১০০তম মঞ্চায়ন এত কম সময়ে খুব কমই হয়েছে। সেদিক থেকে আমরা সফল। বিশেষ করে এ বছর ২৬ জানুয়ারি কলকাতার বালুঘাট নাট্যমেলায় নাটকটির একটি প্রদর্শনী হওয়ার পর প্রশংসিত হয়। শততম মঞ্চায়নটি একটু জাঁকজমকভাবে উদযাপন করতে যাচ্ছি।

‘লাল জমিন’ নাটকের সঙ্গীত পরিচালনা করেছেন জুলফিকার চঞ্চল ও রামিজ রাজু। এতে কণ্ঠ দিয়েছেন বারী সিদ্দিকী, রামিজ ও নীলা। লাইটে কাজ করেছেন জয়, আতিক এবং মির্জা শাকিব। কস্টিউম ডিজাইন করেছেন ওয়াহিদা মল্লিক জলি। সেট নির্মাণ করেছেন জুয়েল মিজি, তানভীর সানী এবং আসাদ ও নিথর মাহবুব। ২০১১ সালের ১৯ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটম-লে ‘লাল জমিন’ নাটকটি প্রথম প্রদর্শনী হয়। এরপর যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ বিভিন্ন স্থানে এটি দর্শককে মুগ্ধতায় আচ্ছন্ন করেছে। প্রসঙ্গত, আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে শিল্প-সংস্কৃতির অঙ্গনে যাত্রা শুরু করেন মোমেনা চৌধুরী। শুরুর দলটি ছিল বগুড়ার বিখ্যাত দল ‘ইয়ুথকয়ার’। ফলে শুরুর দিকে গানের দিকেই বেশি মনোযোগী ছিলেন। এরপর ১৯৮৬ সালে বগুড়া থিয়েটারে যোগ দিয়ে শুরু করেন মঞ্চ অভিনয়। এরপর গাজীপুরে এসে তিনি ‘অবশিষ্ট মঞ্চায়ন পরিষদে’ যোগ দেন। অভিনয়ের পাশাপাশি আরও ভাল কিছু করার তাগিদে ঢাকার বিভিন্ন দলের খ্যাতিমান অভিনেতা ও নির্দেশকদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ শুরু করেন। এদের মধ্যে ছিলেন মামুনুর রশীদ, মাসুম আজিজ, মান্নান হীরা, গোলাম সরোয়ারসহ অনেকে। তারা সকলেই তাকে অনুপ্রাণিত করেন। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৯১ সালে আরণ্যক নাট্যদলে কাজ শুরু করেন। গত ২৪ বছরে আরণ্যক নাট্যদলের হয়ে বহু মঞ্চসফল নাটকে অভিনয় করেছেন।বর্তমানে আরণ্যক নাট্যদলে কাজ করার পাশাপাশি রিপার্টরি থিয়েটার ‘শূন্যন’ পরিচালনা করছেন। এছাড়া বেশ কিছু টিভি নাটক ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করেও প্রশংসিত হয়েছেন তিনি। তার জন্য শুভ কামনা।