১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দেশের প্রবীণ গিটারিস্ট এনামুল কবির

সাজু আহমেদ ॥ দেশের প্রবীণ গিটারিস্ট এনামুল কবির। একাধারে তিনি কণ্ঠশিল্পী, গিটারশিল্পী, সুরকার ও স্বরলিপিকার। বাংলাদেশ গিটারশিল্পী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক এই শিল্পী ৭৪ বছর বয়সে এসে উপনীত হয়েছেন। তার মধ্যে গিটারেই তার ৫৮ বছর কেটে গেছে। যুবক বয়সে বঙ্গবন্ধুর ¯েœহধন্য এনামুল কবির বাংলাদেশের অনেক জনপ্রিয় গানের গিটারের সুরের স্বরলিপি তৈরি করেছেন তিনি। এ ছাড়া জনপ্রিয় বিভিন্ন শিল্পীর গান বিশেষ করে বাংলা গানের সুর গিটারে তুলেছেন। শুধু তাই নয় এসব গানের গিটারের জন্য স্বরলিপি প্রণয়ন করেছেন। এক্ষেত্রে তার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন দেশের সঙ্গীত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। দেশের প্রবীণ গিটারিস্ট এনামুল কবির তার দীর্ঘ শিল্পী জীবনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা গিটার বাজিয়ে শ্রোতা-দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন। বেতারশিল্পী হিসেবেও তিনি ছিলেন জনপ্রিয়। দেশে-বিদেশে এনামুল কবিরের অসংখ্য ছাত্র রয়েছে। শুধু তাই নয় এনামুল কবিরের গিটারের সুর উপভোগ করে তার প্রশংসা ও আশীর্বাদও করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। তবে ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর শাহাদাত বরণের ফলে এনামুল কবিরের আর মূল্যায়ন হয়নি। দেশের জন্য এনামুল কবিরের যে ভূমিকা বিশেষ করে জন্মভূমিবিষয়ক গানগুলো গিটারের সুরে স্বরলিপি করে তিনি দেশ মাতৃকার প্রতি যে ভালবাসা দেখিয়েছেন তার মূল্যায়ন হয়নি। এ নিয়ে পরিণত বয়সে এসেও তার এবং তার পরিবারের সদস্যদের আক্ষেপ, শিল্পী হিসেবে তার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি। জাতীয়ভাবে কোন স্বীকৃতি পাননি। বিশেষ করে ১৯৭০ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ১১০টি ভাষণের ‘শেকরের সন্ধানে’ নামে ৩৫ ঘণ্টার যে সিডি বের করা হয়েছিল সেখানে নেপথ্য আবহসঙ্গীত হিসেবে এনামুল কবিরের বাজানো গিটারের সুর ব্যবহার করা হয়। অথচ সেই সিডিতে তার নাম পর্যন্ত ব্যবহার করা হয়নি। সুদীর্ঘ শিল্পী জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ তার মূল্যায়ন তো হয়-ইনি উল্টো তার কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তার নামও উল্লেখ করা হয়নি। এ নিয়ে এনামুল কবিরের আজন্ম ক্ষোভ রয়ে গেছে। তদুপরি তিনি দেশের সঙ্গীতের সমৃদ্ধিতে কাজ করেছেন। আশির দশকের স্বৈর শাসনামলে স্বাধীনবাঙলা বেতার কেন্দ্রের ‘শোন একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবের ধ্বনি প্রতিধ্বনি আকাশে বাতাসে উঠে রণি’ এবং ‘জয় বাংলা বাংলার জয়’ গান দুটি গিটারের সুরের রেকর্ড করে সাহসিকতার পরিচয় দেন। এ ছাড়া ১৯৮৪ সালে তিনি ‘জন্মভূমির গান’ শিরোনামে গিটারে গানের স্বরলিপির বই প্রকাশ করেন। সে সময় তিনি দেশের গানের অন্যতম গীতিকার গোবিন্দ হালদারের সঙ্গে দেখা করেছেন। যার রচিত বেশ কয়েকটি দেশাত্মবোধক গান গিটারের সুরের স্বরলিপি তিনি করেছিলেন। ব্যক্তিগতভাবে এনামুল কবির বিভিন্ন জনপ্রিয় বাংলা গানের গিটারের সুরের ৪১টি এ্যালবাম প্রকাশ করেছেন। এ্যালবামগুলোর মধ্যে রয়েছে গিটারে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের গানের এ্যালবাম ‘এ শুধু গানের দিন’, মান্না দে’র গানের এ্যালবাম ‘হয়তো তোমারি জন্য’, ‘গিটারে মুক্তিযুদ্ধের গান’ অন্যতম। এ ছাড়া নিজের কথা ও সুরে দেশের জনপ্রিয় শিল্পীদের কণ্ঠে ধারণকৃত ‘বিপন্ন পৃথিবী’ নামে একটি মিক্সড এ্যালবামও করেছেন। যেখানে শিল্পী এনামুল কবির ছাড়া আরও গেয়েছেন সুবির নন্দী, সুজিত মোস্তফা এবং শহিদ কবির পলাশের মতো শিল্পীরা। তবে তিনি আলোচিত হয়েছেন বিভিন্ন জনপ্রিয় শিল্পীদের গান গিটারের স্বরলিপি প্রকাশ করে। এর মধ্যে রয়েছে উপমহাদেশের বিখ্যাত শিল্পী মান্না দে’র জনপ্রিয় গানের স্বরলিপির বই ‘হয়েতো তোমার জন্য’। ২০০৮ সালে ৯০তম জন্মদিনে মান্না দে’র সঙ্গে সাক্ষাত করেন এনামুল কবির। এ ছাড়া তার হাত ধরে অনেকেই গিটারে বিভিন্ন গানের সুর তোলা শিখেছেন। শেষ বয়সে এসে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কণ্ঠশিল্পী হিসেবে নিজের মেধার পরিচয় দিয়েছেন। অথচ এই মানুষটি তার কাজের স্বীকৃতি পাননি। তার কাজের মূল্যায়ন হয়নি। সাম্প্রতিক সময় তিনি বেশ অসুস্থ। এখন বর্তমানে ধানম-ির বাসায় সাধারণভাবে জীবনযাপন করছেন। এনামুল কবিরের সুস্থ জীবন কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলেছেন বেঁচে থাকতেই যেন এনামুল কবিরে কাজের স্বীকৃতি পান সে বিষয়ে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।