১৫ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

দ্বিতীয় দফায় ৬৩৯ ইউপিতে ভোট আজ

  • আওয়ামী লীগের ৩১ চেয়ারম্যান প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত

শাহীন রহমান ॥ ইউনিয়ন পরিষদে দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন আজ। কমিশন জানিয়েছে, দ্বিতীয় দফায় মোট ৬৩৯ ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। এর মধ্যে প্রথম দফার ভোলার লালমোহনের তিনটি ইউপিও রয়েছে। সকাল ৮টা থেকে ভোটগ্রহণ শুরু হবে। শেষ হবে বিরতি ছাড়াই বেলা ৪টায়। এর পরেই শুরু হবে ভোট গণনা। নির্বাচনের ব্যালট পেপারসহ ভোটার সরঞ্জাম স্ব স্ব কেন্দ্রে বুধবার রাতেই পৌঁছানো হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের জন্য কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ভোটের আগে যাতে কেউ কেন্দ্র দখল করে সিল মারতে না পারে সে বিষয়ে আরও কঠোর ব্যবস্থা নিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের আগেই সতর্ক করা হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্যসহ মোট ৩০ হাজার ৩৮৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছেন ২ হাজার ৬২৬। সাধারণ সদস্য পদে ২১ হাজার ২৫৯ এবং সংরক্ষিত সদস্য পদে ৬ হাজার ৪৯ জন। চেয়ারম্যান পদে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রয়েছে ১ হাজার ৪৯৩ জন। স্বতন্ত্র প্রার্থী ১ হাজার ১৬৯ জন। ৩১ প্রার্থী ইতোমধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। যারা সবাই আওয়ামী লীগের। তবে স্বতন্ত্র পদে যারা নির্বাচন করছেন তাদের বেশিরভাগই রয়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে পরিচিত। তবে বিএনপির চেয়ে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী অনেক বেশি বলে জানা গেছে। এ দফায় আওয়ামী লীগের সব ক’টি ইউপিতে প্রার্থী থাকলেও বিএনপির প্রার্থী নেই ৭৯ ইউপিতে।

নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে দ্বিতীয় দফায় মোট ১ কোটি ১২ লাখ ১২ হাজার ৩৩৪ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। দ্বিতীয় দফায় মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৬ হাজার ২০৫। ভোট কক্ষের সংখ্যা ৩২ হাজার ২১টি। প্রতি কেন্দ্রে একজন করে প্রিসাইডিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। এর বাইরে প্রতিকক্ষের জন্য একজন করে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ছাড়াও একাধিক ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিশনের হিসাব অনুযায়ী দ্বিতীয় দফায় নিবন্ধিত ১৭ রাজনৈতিক দল ইউপি নির্বাচনে অংশ নিয়েছে। আইন অনুযায়ী এসব দলের প্রার্র্থী দলীয় প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। এর বাইরের যারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের জন্য ইসির বরাদ্দকৃত প্রতীক দেয়া হয়েছে। শুধু চেয়ারম্যান পদে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এর বাইরে সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে আগের মতো নির্দলীয় হচ্ছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দ্বিতীয় দফায় ১৭ রাজনৈতিক দল অংশ নিলেও মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার সঙ্গে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে। তবে কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকবেন বলে জানা গেছে। এসব প্রার্থী মূলত দলের মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করছেন। তারা অভিযোগ করেছেন, তৃণমূল থেকে যাদের প্রার্থী বাছাইয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল তারা টাকা খেয়ে যোগ্য প্রার্থীদের বাদ দিয়ে অযোগ্য প্রার্থী মনোনয়ন দিয়েছে। এ কারণে জনগণের কাছে জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে তারা স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন। গত ২২ মার্চ প্রথম দফায় নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের প্রায় এক শ’ বিদ্রোহী প্রার্থী নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন। এর বাইরে বিএনপিরও একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী জয়লাভ করতে সমর্থ হন। এবারও এসব বিদ্রোহী প্রার্থী আশা করছে জনগণ তাদের পক্ষে রায় দেবে। এ জন্য তারা নির্বাচন সুষ্ঠু-শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠানের দাবি জানিয়েছেন।

দ্বিতীয় দফায় আওয়ামী লীগের ৬৩৯, বিএনপির ৫৮০ ছাড়াও জাতীয় পার্টির ১১৪৯, মশাল প্রতীকে জাসদের ২৪, কুলা প্রতীকে বিকল্পধারা বাংলাদেশের ১, হাতুড়ি প্রতীকে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ৬, বাইসাইকেল প্রতীকে জাতীয় পার্টি জেপির ৫, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৯৪, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির ২, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের ২, সিপি্িবর ৫, জমিয়তে উলামায়ে বাংলাদেশের ২, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের ১, ন্যাপের ৬ জনসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনের জন্য গত ১৮ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন ৬৪৭ ইউপির তফসিল ঘোষণা করে। গত ২ মার্চ প্রার্থীরা স্ব স্ব রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাদের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। শেষদিনে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত পদসহ মোট ৩৪ হাজারের বেশি প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জম দেন। এ দফায় প্রার্থীদের প্রত্যাহারের জন্য সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয় গত ১৩ মার্চ। ১৪ মার্চ থেকে প্রার্থীরা প্রতীক পেয়ে আনুষ্ঠানিক প্রচারে নামে। দীর্ঘ প্রচারণা শেষে আজ তাদের ভাগ্য নির্ধারণের পালা। কমিশন জানিয়েছে, সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রে নিরাপত্তার পাশাপাশি নির্বাচনী এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

নির্বাচনী এলাকায় গত মঙ্গলবার থেকে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তার আগেই প্রার্থীদের সব ধরনের প্রচার শেষষ হয়েছে। ব্যালট পেপার, ব্যালট বাক্স, ভোটার সীলমোহরসহ সব নির্বাচনী সরঞ্জাম রাতেই সব ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো হয়েছে। যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনের দিন শুধু ইসির অনুমোদিত যানবাহন ছাড়া কোন যান্ত্রিক যান চলাচল করতে পারবে না। ভোট গ্রহণ সম্পন্ন এবং ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের প্রচার, মিছিল-মিটিং, পথসভায় করাও যাবে না। ইসি জানিয়েছে, নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় নেয়া হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ নির্বাচনী অনিয়ম রোধ এবং তাৎক্ষণিক বিচার ব্যবস্থার জন্য নির্বাহী ও বিচারিক হাকিম নিয়োগ দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে দায়িত্বে নিয়োজিত কোন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় সুষ্ঠুভাবে ভোট সম্পন্ন করার বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনের আগেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে অপরাধ হবে আর তারা আঙুল চুষবে এ ধরনের কর্মকা- প্রশ্রয় দেয়া হবে না। প্রিসাইডিং অফিসারের সামনে সিল মেরে যাবে আর তখন হা করে দাঁড়িয়ে থাকবে সেটাও সহ্য করা হবে না। সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য যা যা করা দরকার সবটাই করতে হবে। ভোটকেন্দ্রে দর্শকের ভূমিকা রাখলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিস্থিতি দেখে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আইনগতভাবে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কোন অনিয়ম বরদাশত করা হবে না। ব্যর্থতার জন্য কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। অপরাধ করলে সে যেই হোক গ্রেফতার করে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা প্রিসাইডিং অফিসারের সব ধরনের ক্ষমতা রয়েছে। তারা যে কোন বিষয়ে ইসিকে সরাসরি অবহিত করতে পারবেন।

তিনি বলেন, নির্বাচনে কমিশন চায় পরের সব দফার নির্বাচন যেন আরও ভাল হয়। যেন কোন রকম অনিয়ম না হয়। যদি হয়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। আইনশৃঙ্খলাসহ যে কোন বাহিনী হোক কমিশনের সঙ্গে যারা কাজ করে অনিয়ম করলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেব। অর্থাৎ কেউ দায়িত্ব এড়ালে বা দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়া হবে। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্ব পালন সম্পর্কে বলেন, যারা চাকরি করে, চাকরির নিয়ম মেনে চলে তারা নিজেদের দায়িত্বটা ভালভাবে পালন করবে আশা করি।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি সারাদেশে ছয় দফায় ইউপি নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণ করে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২২ মার্চ নির্বাচন সম্পন্ন করা হয়েছে। আজ দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ করা হচ্ছে। এছাড়া তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় নির্বাচনের জন্য প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা বাছাইয়ের কাজ চলছে। তবে এখনও আরও দুই দফায় মনোনয়নপত্র জমার সময়সূচী ঘোষণা করা হয়নি। কমিশন জানিয়েছে, এ মাসেই আরও দুই দফার তফসিল ঘোষণা করা হবে। ছয় দফায় ইউপি নির্বাচন সম্পন্ন হবে আগামী ৪ জুন। কমিশন জানিয়েছে, মেয়াদ সম্পন্ন না হওয়ায় বাকি ইউপিতে পর্যায়ক্রমে ভোটগ্রহণ করা হবে।