১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বাসে পেট্রোলবোমা হামলা-খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

বাসে পেট্রোলবোমা হামলা-খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

সৈয়দা ফরিদা ইয়াসমিন জেসি ॥ বিএনপির হরতাল-অবরোধ কর্মসূচী চলাকালে যাত্রাবাড়ীতে বাসে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করে যাত্রী হত্যার ঘটনায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ পলাতক ২৮ আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। গতকাল বুধবার মামলাটির অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে এ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন মহানগর দায়রা জজ কামরুল হোসেন মোল্লার আদালত। নারকীয় ওই হামলার ১৪ মাস পর আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হলো। খালেদা জিয়াসহ ৩৮ জন এ মামলার চার্জশীটভুক্ত আসামি। তাদের মধ্যে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে অথবা জামিনে আছেন ১০ জন। একই ঘটনায় দায়ের করা পৃথক মামলায় একই আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আরও দুটি চার্জশীট দিয়েছে পুলিশ। তিনটি অভিযোগপত্রেই খালেদা জিয়াকে প্রধান ও হুকুমের আসামি দেখিয়ে তাকে পলাতক দেখানো হয়।

গত বছরের শুরুটাই করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট হরতাল-অবরোধের নামে জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতি দিয়ে। টানা তিন মাসের ওই আন্দোলনের প্রথম মাসে ২৩ জানুয়ারি রাতে যাত্রাবাড়ীর কাঠেরপুল এলাকায় গ্লোরি পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা ছোড়া হলে বাসের ২৯ যাত্রী দগ্ধ হন। দগ্ধদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে নূর আলম (৬০) নামক এক বৃদ্ধ যাত্রী এক সপ্তাহ পর ১ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের অবরোধ ও হরতাল কর্মসূচী মানতে বাধ্য করার চেষ্টা হিসেবেই জ্বালাও পোড়াও কৌশল নেয়া হয়েছিল। তাই বাসে অগ্নিসংযোগের ওই ঘটনার পরদিন ২৪ জানুয়ারি খালেদা জিয়াকে হুকুমের আসামি করে যাত্রাবাড়ী থানায় দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেন থানার উপ-পরিদর্শক কে এম নুরুজ্জামান। একটি মামলা হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে (মামলা নম্বর ৫৮) এবং অন্য মামলাটি ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৫/২৫(ঘ) ধারায় (মামলা নম্বর ৫৯) দায়ের করা হয়। মামলায় পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিএনপির ১৮ নেতার নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী হিসেবে যাত্রাবাড়ী বিএনপির ৫০ নেতাকর্মীসহ মোট ৮০ জনকে মামলার আসামি করা হয়।

হত্যা ও বিস্ফোরক আইনের মামলাটিতে গত বছরের ৬ মে পৃথক দুটি চার্জশীট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের এসআই বশির আহমেদ। এরপর ১৯ মে বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলায় চার্জশীট দাখিল করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই জাহিদুল ইসলাম। তিনটি চার্জশীটেই ৩৮ জনকে আসামি করে এজাহারভুক্ত করা হয়। অন্য ৪২ আসামিকে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

চার্জশীটে অন্তর্ভুক্ত আসামিদের মধ্যে আরও আছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, বরকত উল্লাহ বুলু, আমানউল্লাহ আমান, খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা এ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, শওকত মাহমুদ, বিশেষ সহকারী শামসুল ইসলাম শিমুল বিশ্বাস, প্রেসসচিব মারুফ কামাল খান, মীর আবু জাফর শামসুদ্দিন দিদার, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, বিএনপির ঢাকা মহানগরের সদস্য সচিব হাবিবুন্নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আজিজুল বারী হেলাল, সাবেক এমপি সালাহউদ্দিন আহমেদ, তার ছেলে তানভীর ওরফে রবিন, নবীউল্লাহ নবী, কাইয়ূম কমিশনার, লতিফ কমিশনার এবং পেশাজীবী দলের নেতা সেলিম ভূঁইয়া।

বড়পুকুরিয়ার মামলা ॥ এদিকে বড়পুকুরিয়া দুর্নীতি মামলায় বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াসহ ১১ আসামিকে আগামী ২৫ এপ্রিল আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গতকাল দুপুরে ঢাকার বিশেষ জজ-২ আদালতের বিচারক এ নির্দেশ দেন।

২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি (তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়) কনসোর্টিয়াম অব চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি ইম্পোর্ট এ্যান্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশনকে (সিএমসি) বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির অনুমোদন দিয়ে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির জন্য খালেদা জিয়া ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ এনে শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন দুর্নীতি দমন কমিশনের তৎকালীন সহকারী পরিচালক মোঃ সামছুল আলম। একই বছরের ৫ অক্টোবর আদালতে এ মামলার চার্জশীট দেয়া হয়।