১০ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে

চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে

অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ এশিয়ার প্রবৃদ্ধি কমলেও মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি বাড়বে বাংলাদেশের। চলতি অর্থবছরে দেশের প্রবৃদ্ধি বেড়ে দাঁড়াবে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে এবং আগামী ২০১৭ অর্থবছরে সেটি আরও কিছুটা বেড়ে হবে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ। এমনই পূর্বাভাস দিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে সংস্থাটির কার্যালয়ে এশিয়ান ইকোনমিক আউটলুক প্রকাশের সময় এ পূর্বাভাস দেয়া হয়। বলা হয়েছে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি, রফতানি বৃদ্ধি, রেমিটেন্স বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ বাড়তে থাকলে জিডিপি বাড়বে। এ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর কাজুহিকো হিগুচি। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট আউটলুক ২০১৬ উপস্থাপন করেন এডিবির প্রিন্সিপাল কান্ট্রি স্পেশালিস্ট মোহাম্মদ পারভেজ এমদাদ।

আউটলুকে এশিয়ার প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, অর্থবছর ২০১৬-তে এশিয়ায় প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়াবে ৫ দশমিক ৭ শতাংশ। এটি অর্থবছর ২০১৭ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে, যা গত বছর ছিল ৫ দশমিক ৯ শতাংশ। ভারতের প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, অর্থবছর ২০১৬-তে ভারতে প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং অর্থবছর ২০১৭-তে হবে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, গত অর্থবছরের চেয়ে চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়বে। এর কারণ, পোশাক খাতের রফতানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক রফতানি বাড়বে, মূল্যস্ফীতির নিম্নমুখী ধারা, সরকারী পে স্কেল বাস্তবায়িত হওয়া এবং রেমিটেন্স বাড়ায় বেসরকারী ভোগ বাড়বে। প্রবৃদ্ধির বাড়তি ধারা অব্যাহত রাখতে এবং নিম্নমধ্য আয়ের থেকে মধ্য আয়ের দেশে যেতে সংস্কারের মাধ্যমে ব্যবসার পরিবেশ উন্নত করে উচ্চ বিনিয়োগ, সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা রক্ষা করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি বলা হয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বেশ কিছু পলিসি চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এগুলো হচ্ছে নির্দিষ্ট সময়ে ভ্যাট আইনের প্রয়োগ, জমি রেকর্ড এবং ভূমি ব্যবস্থাপনার ডিজিটাল করা, রফতানি বাধা দূর করা, তেল ও বিদ্যুতের সঠিক ব্যবহার, এডিপি বাস্তবায়ন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আর্থিক খাতের শৃঙ্খলা ফেরাতে সংস্কার করা।

আউটলুকে বলা হয়েছে,খাতভিত্তিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, চলতি অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি সামান্য কমবে। অর্থাৎ এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে ৩ দশমিক ২ শতাংশ, যা ২০১৫ অর্থবছরে ছিল ৩ দশমিক ৩ শতাংশ। শিল্প খাতে সামান্য প্রবৃদ্ধি বাড়বে। এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়াবে নয় দশমিক চার শতাংশ, যা অর্থবছর ২০১৫ তে ছিল নয় দশমিক সাত শতাংশ। এ ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক খাত, ম্যানুফ্যাকচারিং, অভ্যন্তরীণ বাজার এবং নির্মাণশিল্প ভাল ভূমিকা রাখবে। সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি সামান্য বাড়বে। এটি দাঁড়াবে পাঁচ দশমিক নয় শতাংশে, যা অর্থবছর ২০১৫ তে ছিল পাঁচ দশমিক আট শতাংশ। এক্ষেত্রে শিল্পের প্রসার, পর্যটন, টেলিযোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিল্প এবং প্রযুক্তি খাত ভাল ভূমিকা রাখবে। বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি হবে ১০ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ এবং বহির্বিশ্বে চাহিদা বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতি এবং পোশাক কারখানা কমপ্লায়েন্স এবং বিদ্যুত উৎপাদন বাড়বে বলে ২০১৭ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মূল্যস্ফীতির ক্ষেত্রে আউটলুকে পূর্বাভাস দিয়ে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়াবে ৬ দশমিক ২ শতাংশে, যা অর্থবছর ২০১৫ তে ছিল ৬ দশমিক ৪ শতাংশ। এক্ষেত্রে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেল ও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল থাকবে। তাছাড়া শস্য উৎপাদন ভাল হওয়া এবং মুদ্রানীতির অবদান থাকবে।

এডিবি বলছে, রফতানি প্রবৃদ্ধি অর্থবছর ২০১৬-তে বেড়ে দাঁড়াবে ৮ শতাংশে, যা ২০১৫ অর্থবছরে ছিল তিন দশমিক তিন শতাংশ। তাছাড়া ২০১৭ অর্থবছরে রফতানি প্রবৃদ্ধি আরও বেড়ে দাঁড়াবে ৯ শতাংশে। এর কারণ হিসেবে সংস্থাটি বলছে, শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধি, নিরাপত্তা ও শ্রমিকদের অধিকার বাড়ানোর ফলে বায়ারদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে, তাই মূল ক্রেতারা বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি তৈরি পোশাক ক্রয়ের অর্ডার দেবেন।

আমদানির ক্ষেত্রে বলা হয়েছে, চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে রফতানি বিল পরিশোধ দাঁড়িয়েছে ৭ শতাংশে। এক্ষেত্রে উচ্চ আমদানি ব্যয় পরিশোধ করা হয়েছে। আমদানি পণ্যের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে কেমিক্যাল, পেট্রোলিয়াম, ফার্মাসিউটিক্যাল এবং পোশাক শিল্পের কাঁচামাল। তবে কমেছে খাদ্য, চিনি, সার এবং মূলধনী যন্ত্রপতির আমদানি। আশা করা হচ্ছে, চলতি অর্থবছরের পরের ছয় মাসে বাড়বে এবং পুরো অর্থবছরে আমদানি দাঁড়াবে ৯ শতাংশে। আগামী ২০১৭ অর্থবছরে আমদানি বেড়ে দাঁড়াবে ১১ শতাংশে।