১৭ নভেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

বিধ্বংসী গেইল, না সুপার কোহলি?

বিধ্বংসী গেইল, না সুপার কোহলি?

শাকিল আহমেদ মিরাজ ॥ মুম্বাইয়ে কি আজ ভারত-ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলছে? তাহলে, আকাশে-বাতাসে দলীয় দ্বৈরথের বারুদ কোথায়? সব ছাপিয়ে আলোচনায় কেবলই ক্রিস গেইল আর বিরাট কোহলি! ক্যারিবিয়ান ব্যাটিংদানব জানিয়েছেন, ভারতীয় বোলিংয়ের সুতো ছিঁড়তে প্রস্তুত তিনি। এটা তার নিজস্ব ঢং, ব্যাটের মতো মুখটাও যে একই স্টাইলে চলে! কোহলি ভিন্ন ধাতুতে গড়া, যিনি বলার চেয়ে করে দেখাতেই বেশি ভালবাসেন। তাই তো তার মাঝে ভেসে ওঠে গ্রেট শচীন টেন্ডুলকরের ছায়া। দলকে জেতানোর সামর্থ্যে কখনও কখনও ভারতীয়দের ক্রিকেট ঈশ্বরকেও ছাড়িয়ে যান ...! টি২০ বিশ্বকাপের সেমিতে আজ মুখোমুখি সময়ের সেরা দুই উইলোবাজ। দ্বিতীয় দল হিসেবে কারা যাচ্ছে ফাইনালে? তার চেয়েও বড় হয়ে উঠেছে, গেইলের ‘পাওয়ার’, না কোহলির ক্লাসÑ কার ব্যাটিংয়ে আরও একবার মোহিত হতে যাচ্ছে ক্রিকেটবিশ্ব?

‘ডু অর ডাই ম্যাচে’ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সেমিতে ভারত। মোহালিতে সেদিন কার্যত কোহলির কাছেই হেরে যায় ওয়ানডের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। কঠিন পরিস্থিতিতে অপরাজিত ৮২ রানের ম্যারাথন ইনিংস উপহার দেন ক্রেজি কোহলি। সেদিনের প্রতিপক্ষ অসি কোচ ড্যারেন লেহম্যানের বাজি তাই কোহলি ও তার দল ভারতকে নিয়েই। কারণ কোহলি ধারাবাহিক- কোহলি ক্ল্যাসিক্যাল। তবু গেইলকে নিয়ে ভারতীয় বোলারদের কি একটু হলেও ভয় পাওয়া উচিত নয়? যেখানে তিনি নিজেই আশিষ নেহরা-রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলের সুতো তুলে ফেলার হুমকি দিচ্ছেন! গেইলের মতে, ‘ফেবারিট’ বলে কিছু নেই। সোজা জানিয়ে দিয়েছেন, ওয়াংখেড়ে আজ কোহলি যেন একটু চুপচাপ থাকেন। স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে কিছুটা মজা করে বলেছেন, ‘বিরাট দয়া করে আগুন জ্বালিও না। তুমি রান করলেও তোমার দলকে চুপ থাকতে বল!’ গেইলের সঙ্গে প্রত্যক্ষ লড়াইটা ভারতীয় বোলিংয়ের। ব্যাটিংদানবকে থামাতে নেহরা-অশ্বিনরা কী করেন, সেটি দেখতে মুখিয়ে সবাই।

বাইশ গজে প্রতিপক্ষকে এতটুকু ছাড়া না দেয়ার হুঙ্কার ৩৬ বছর বয়সী জ্যামাইকানের। গেইল বলেন, ‘শুনে রাখুন, গেইল যেকোন বোলারের জন্য তৈরি থাকবে! ক্রিস যে কারও জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত, কে বল করল, না করল, তাতে কিছু যায় আসে না। যেই সামনে আসুক, গেইল তার ওপর সোজা ঝাঁপিয়ে পড়বে। গেইল চাইবে বলের সেলাই খুলে দিতে, চাইবে যতটা সম্ভব জোরে মারতে, কারণ এটাই সে ভাল পারে!’ সেটি এই বিশ্বকাপেই বিশ্ববাসী দেখেছে। দেড় বছর পর জাতীয় দলে ফিরে গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই অসাধারণ এক সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। ১৮২ রানের বড় স্কোর গড়েও সেদিন গেইলের ৪৮ বলে অপরাজিত ১০০ রানের কাছেই হেরে গিয়েছিল ইংল্যান্ড। অবশ্য ইনজুরির জন্য শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামতে পারেননি। দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে আউট হয়েছেন মাত্র ৪ রান করে। তাতে কি গেইল-ঝাঁজ এতটুকু কমে?

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কোহলির ব্যাটিং দেখার পর গ্রেট সুনীল গাভাস্কার বলেন, ‘সীমিত ওভারের ক্রিকেটে ওই এখন সেরা ব্যাটসম্যান। ইনিংসটা দেখে আমি রীতিমতো শিহরিত, আমার লোম খাড়া হয়ে যাচ্ছিল!’ সাবেক অধিনায়কের মূল্যায়ন, ‘কোহলি নিয়মিত চাপের মুখে এমন পারফর্ম করছে এবং দলের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অনেকবারও রান তাড়া করতে গিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে জয় এনে দিয়েছে। আমার মনে হয় কোহলির ব্যাটিংয়ের বড় শক্তি টাইমিং। সে টপ ও বটম হ্যান্ড-দুটি ব্যবহারেই অত্যন্ত সাবলীল। খুব কম ক্রিকেটাররেই এমন ক্ষমতা থাকে।’ সেমিতে যেতে হলে জিততেই হবে। ১৬১ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৯ রানে সাজঘরে টপঅর্ডারের তিন তারকা শিখর ধাওয়ান, রোহিত শর্মা ও সুরেশ রায়না। ১২ ওভারে চাই আরও ১১২। ৫১ বলে অপরাজিত ৮২ রানের ইনিংসে ৯ চার ও ২ ছক্কাÑ এতেই কোহলির ক্লাসটা বোঝা যায়। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে কঠিন সেই পরিস্থিতিতে দলকে শেষ চারে নিয়ে এসেছেন ভারতীয় ক্রিকেটের ‘ক্রেজি বয়’।

মজার বিষয়, ওই ম্যাচে গেইলকে (৪৪ ইনিংস) পেছনে ফেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুত দেড় হাজার রানের নতুন রেকর্ডও গড়েন ২৭ বছরের কোহলি। টি২০তে রান তাড়ায় ভারত জিতেছে এমন ম্যাচ মিলিয়ে তার মোট রান ৭৩৭। এটিই এখন রেকর্ড। সুপার টেনে চার ম্যাচে তার ব্যাট থেকে এসেছে ২৩, ৫৫*, ২৪ ও ৮২*!