১২ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

সাতক্ষীরার ১৪ ভোট কেন্দ্রে অনিয়ম ॥ এসপি ও পাঁচ ওসিকে ভর্ৎসনা ইসির

  • জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ প্রথম দফায় ইউপি নির্বাচনে সাতক্ষীরার ১৪টি ভোট কেন্দ্রে অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় জেলার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট ৫ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভর্ৎসনা করেছে নির্বাচন কমিশন। বুধবার তাদের কমিশনে ডেকে এ বিষয়ে জেরা করা হয়। একই সঙ্গে এ অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করে চার্জশীট দেয়ারও নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত ২২ মার্চ ইউপি নির্বাচনের প্রথম দফায় অনিয়মের অভিযোগে সাতক্ষীরার ১৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়া হয়। ভোটের আগের রাতে এসব কেন্দ্রে পুলিশের পোশাক পরে দুষ্কৃতকারীরা ছয়টি ইউনিয়নের ১৪টি কেন্দ্র দখল করে ব্যালট পেপারে সিল মারে। ফলে কমিশন এসব কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বন্ধ করে দেয়। একই সঙ্গে কমিশন এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ সুপার ও ৫ থানার কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পায়। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ৫ থানার কর্মকর্তাকে বরখাস্তের আদেশ দেয়। বিষয়টি শুনানির জন্য তাদের কমিশন সচিবালয়ে ডেকে পাঠানো হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী বুধবার তারা কমিশনে হাজির হন। পাঁচ ওসি হলেন সদর, তালা, কলারোয়া, শ্যামনগর ও দেবহাটা থানার। এছাড়াও শুনানিতে ?জেলা পুলিশ সুপার চৌধুরী মনজুরুল কমিশনে হাজির হন। তাদের এ বিষয়ে জিজ্ঞসাবাদও করা হয়। ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পর মামলা করায় ?জেলা পুলিশ সুপার চৌধুরী মনজুরুল কবির ও পাঁচ ওসিকে ভর্ৎসনা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ জন্য এই ছয় পুলিশ কর্মকর্তা দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে প্রথম দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে জাল ভোট, কেন্দ্র দখল ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের ১৫ দিনের মধ্যে গ্রেফতার করে চার্জশীট দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

শুনানি শেষে এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার শাহনেওয়াজ সাংবাদিকদের বলেন, যারা অপরাধ করেছে তাদের দ্রুত গ্রেফতার করতে হবে। দ্রুত আইনের আওতায় আনতে হবে। ছয় পুলিশ কর্মকর্তারা কমিশনের কাছে অঙ্গীকার করেছেন তারা কমিশনের নির্দেশ পালন করবেন। খোঁজ নিয়ে দেখেছেন অপরাধীদের অনেকে এলাকা ছাড়া। এসব ব্যক্তি দৃশ্যমান হলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের ১৫ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দিতে বলা হয়েছে। এ সংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনায় কেউ মামলা না করলে পুলিশকে বাদী হয়ে মামলা করতে হয়। কিন্তু পুলিশ একদিন বিলম্বে মামলা করেছে। তাই তাদের ভর্ৎসনা করা হয়েছে। এ জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা নাগাদ ইসির সভাকক্ষে শুনানি করা হয়। তবে এ বিষয়ে সাতক্ষীরার ৬ পুলিশ কর্মকর্তা সাংবাদিকদের কাছে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। তারা বলেন, এ বিষয়ে যা বলা কমিশনের কাছে সুস্পষ্টভাবে বলা হয়েছে। পুলিশ সুপার বলেন, এ বিষয়ে আমার কোন বক্তব্য নেই। প্রায় তিন ঘণ্টার শুনানি শেষে তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে হবে এ বিষয়টি আমার জানা ছিল না। তাই এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাইলে ইসির অনুমতির প্রয়োজন। কিন্তু আমি তো অনুমতি নেইনি।

তবে বৈঠক সূত্র জানা গেছে, শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনার মোঃ আব্দুল মোবারক বলেন, আপনারা নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করার দায়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। কিন্তু ভোটের আগের রাতে কেন্দ্রের দরজা ভেঙ্গে ভোট কারচুপি হয়েছে সেজন্য প্রচলিত পুলিশ আইনে কেন ব্যবস্থা নেননি। নির্বাচন কমিশনার মোঃ শাহ নেওয়াজ বলেন, মামলা হলে আসামিদের কেন গ্রেফতার করা হয়নি। তারা তো আপনাদের সামনেই ঘুরে বেড়ায়। তবে তাদের শুনানিতে পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের কর্মকা-ের জন্য কমিশনের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন। অঙ্গীকার করেছেন এ ধরনের ভুলগুলো হবে না।

নির্বাচনের জন্য প্রণীত সরকারী কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন ১৯৯১ অনুযায়ী, নির্বাচনের সময় কোন সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ প্রমাণিত হলে কমিশন তাকে সর্বোচ্চ দুই মাসের জন্য বরখাস্ত করতে পারবে।

তৃতীয় দফায় চেয়ারম্যান প্রার্থী ॥ এদিকে কমিশন জানিয়েছে, তৃতীয় দফায় মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে ৬২১ ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে মোট ২ হাজার ৮১৭ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী রয়েছেন ১ হাজার ৪৩৫ জন, স্বতন্ত্র ১ হাজার ৪৪৯ জন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী রয়েছেন ৬২১ জন, বিএনপির ৬৭৬, জাতীয় পার্টির ১৮৫সহ অন্যান্য রজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এ দফায় মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এ ধাপেও বিএনপি ৪৮ ইউপিতে কোন প্রার্থী দিতে পারেনি। গত ১৫ মার্চ তৃতীয় ধাপে নির্বাচনের জন্য ৬৮৫ ইউপিতে তফসিল ঘোষণা করে ইসি। পরে মনোনয়নপত্র জমার শেষ দিনে ২৭ মার্চ রাজনৈতিক দলের প্রার্থী না থাকায় রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান জেলার ৫৩ ইউপির নির্বাচন স্থগিত করে কমিশন। শেষ দফায় ৪ জুন এসব ইউপিতে ভোটগ্রহণ করা হবে।

এদিকে বুধবার তৃতীয় দফায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৬ এপ্রিল রয়েছে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের দিন। ৭ এপ্রিল প্রার্থীদের মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। ২৩ এপ্রিল এ দফার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।