১৬ ডিসেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

যুবরাজের না থাকা দলের জন্য ক্ষতি ॥ রবি শাস্ত্রী

স্পোর্টস রিপোর্টার, মুম্বাই থেকে ॥ মাত্রই যুবরাজ সিং যে আর বিশ্বকাপে খেলতে পারবেন না, ইনজুরির জন্য দল থেকে বাদ পড়ে গেছেন; সেই বিজ্ঞপ্তি আইসিসি দিল। ঠিক তার ১৫ মিনিট পরই ভারত দলের টিম ডিরেক্টর-কোচ রবি শাস্ত্রী এসে হাজির হলেন সংবাদ সম্মেলনে। শুরুতেই তাই তার কাছে প্রশ্ন ছুড়ে গেল, যুবরাজ যে নাই, এতে কেমন প্রভাব পড়বে? সদা আত্মবিশ্বাসী শাস্ত্রীর মুখ খালি যেন মলিন। সেই মলিন মুখ নিয়েই বললেন, ‘সত্যিই ওকে (যুবরাজকে) মিস করব। তাকে হারানো ক্ষতি হয়ে গেল।’ কেন সেই ক্ষতি? তা একটি ম্যাচের কথা বলেই বুঝিয়ে দিলেন শাস্ত্রী, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যুবরাজ যে ৩ ওভার বল করেছে, তা অসাধারণ!’ বোঝাই যাচ্ছে, সেমিফাইনাল নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেছে ভারত।

যুবরাজ দলের অলরাউন্ডার। ব্যাট হাতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৪ রান করলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে করেছেন ২৪ রান। কোহলির সঙ্গে দুর্দান্ত একটি জুটি গড়ে দলকে জেতাতে বিশেষ ভূমিকা রাখেন। বাংলাদেশের বিপক্ষেও ব্যর্থ হন যুবরাজ। করেছেন মাত্র ৩ রান। আবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে করেন ২১ রান। এরসঙ্গে ৩ ওভারে ১৯ রান দিয়ে ১ উইকেটও নেন। যেটিই আসলে বড় করে দেখা হচ্ছে। সেই কাজটি আর যুবরাজ করতে পারবেন না। তার পরিবর্তে মানিষ পান্ডেকে নেয়াও হয়ে গেছে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ইনজুরিতে পড়া যুবরাজকে হারিয়ে বিপদেই পড়ে গেল ভারত।

এরপরও জয়ের কোন বিকল্প দেখছে না ভারত। সেই অপশনও নেই। সেমিফাইনালে হারা মানেই বিদায়। জিতলেই ফাইনালে চলে যাওয়া। সেই সুযোগ কি আর হাতছাড়া করতে চাইবে ভারত। তাও আবার নিজ দেশের মাটিতে খেলা। তাই শাস্ত্রী বলেছেন, ‘আমাদের দলে কোহলি আছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যে ইনিংসটি খেলল কোহলি, আমার দেখা সেরা ইনিংস। আশা করছি কোহলি আবারও দুর্দান্ত ব্যাটিং করবে।’ কোহলিই শুধু নন, শাস্ত্রীর ভরসায় আছেন রোহিত শর্মা, শেখর ধাওয়ান, সুরেশ রায়নাও। বলেছেন, ‘তিনজনই এখনও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। আশা করছি, সেমিফাইনালে তাদের কাছ থেকে বড় ইনিংস পাব।’

তবে ভয় একজনকে নিয়েই। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিস গেইলকে নিয়ে। সেটা ভাল করেই জানেন শাস্ত্রী। গেইল যেদিন খেলবেন, কোন প্রতিপক্ষই টিকতে পারবে না। তাই শাস্ত্রী ফর্মুলাও বের করে ফেলেছেন। সেই ফর্মুলা বলেও দিয়েছেন, ‘টার্গেট একটিই, ক্রিস গেইলকে টার্গেট করে বল করবে আমার দলের বোলাররা।’ মনে হচ্ছে, এক গেইলকে দ্রুত শিকার করতে পারলেই জিতে যাবে ভারত।

অন্যদের নিয়েও ভাবছে ভারত। টি২০ ক্রিকেট খেলাটা এমনই। দিনটিতে যে দল ভাল খেলবে, তারাই জিতবে। শাস্ত্রীও তাই মনে করেন, ‘আসলে টি২০ খেলাটি এমন, মুহূর্তেই সব শেষ হয়ে যায়। দিনটিতে যারা ভাল খেলে, তারাই জিতে। যত শক্তিশালী, যত দুর্বল দলই হোক; যে কোন দল জিততে পারে।’

সেই জয়টি ভারতই জিতুক, সেটি চান ভারত দলের টিম ডিরেক্টর। বলেছেন, ‘স্বাভাবিকভাবেই ভারত জিতবে, সেটিই চাই। তবে জয়টি পেতে কষ্ট করতে হবে বোঝাই যাচ্ছে।’ ভারত দলটি শুরু থেকেই বিশ্বকাপে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়েছে। নিউজিল্যান্ডের কাছে হেরেছে। এরপর পাকিস্তানকে হারিয়ে টিকে থাকে। বাংলাদেশের বিপক্ষে হারতে হারতে জিতে। ভাগ্য সহায় হয়। তাই ১ রানের জয় মিলে। শেষে গিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে এক কোহলির ব্যাটে ভর দিয়ে হারিয়ে দেয়। সেমিফাইনালে খেলাও নিশ্চিত করে।

এবার টি২০ বিশ্বকাপে ভারতকেই ফেবারিট দল ধরা হয়েছে। সেই দলটি কঠোর পরিশ্রমের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে। প্রতিদিনই তারা অনুশীলনে সিরিয়াস। বোঝাই যাচ্ছে, শিরোপা জেতার যে আশা, তা পূরণ করেই ছাড়বে। প্রতিপক্ষ যে দলই হোক, ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং কোনকিছুরই অনুশীলন করতে ছাড় দেয় না ভারত ক্রিকেটাররা। যেন যেভাবেই হোক জয় চাই-ই-চাই। সেই ক্ষুধা ক্রিকেটারদের মধ্যে দেখা যাচ্ছেও। আজ সেই ক্ষুধা বজায় থাকলেই হয়। নয়ত সেমিফাইনালে রুখে যাবে ভারত। যুবরাজকে হারিয়ে যে চিন্তায় পড়েছে ভারত, তাতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ যে বাজিমাত করবে না তাও বলা মুশকিল।

নির্বাচিত সংবাদ