১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮  ঢাকা, বাংলাদেশ  
শেষ আপডেট এই মাত্র    
ADS

স্বাধীনতা কাপ ফুটবল শুরু শুক্রবার

  • মামলায় জড়িত আট ফুটবলার ও শেখ জামাল নেই

স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ক’দিন ধরেই চলছিল স্বাধীনতা কাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট নিয়ে নাটক। শেখ জামাল ধানম-ির আপত্তিতে ও আইনী পদক্ষেপ নেয়ায় টুর্নামেন্ট শুরু হওয়াটা পড়েছিল অনিশ্চয়তার মুখে। এমনকি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) টুর্নামেন্টের তারিখ দু’দিন পিছিয়ে দিলেও টুর্নামেন্ট আদৌ হবে কি না, এ নিয়ে চলছিল নানা জল্পনা-কল্পনা। এমন অবস্থা দেখে রসিক ফুটবলপ্রেমীরা মজা করে বলেছিলেন, ‘স্বাধীনতা কাপ ফুটবল যেন পরাধীনতার শৃঙ্খলে আবদ্ধ হয়ে গেছে!’ অবশেষে নাটকের অবসান ঘটতে চলছে। আগামী ১ এপ্রিলই শুরু হবে স্বাধীনতা কাপ ফুটবলের খেলা। বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী ম্যাচে খেলবে বিজেএমসি বনাম রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি। একইদিনে দ্বিতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাদার্স ইউনিয়ন লিমিটেড বনাম উত্তর বারিধারা। টুর্নামেন্টে অংশ আগের ঘোষণা অনুযায়ী নেবে ১১ দল। বুধবার বাফুফের সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুস সালাম মুর্শেদী বলেন, ‘শেখ জামাল যেহেতু এই আসরে খেলতে চেয়ে আমাদের কাছে লিখিতভাবে কোন আবেদন করেনি, তাছাড়া টুর্নামেন্টের গ্রুপিং ড্র ও ফিক্সচার যেখানে চূড়ান্ত হয়ে গেছে, সেখানে তাদের আর অংশ নেয়ার সুযোগ নেই।’ মুর্শেদী আরও জানান, ‘আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ওই আট ফুটবলার এই টুর্নামেন্টে কোন ক্লাবের হয়েই খেলতে পারবে না। এই সিদ্ধান্ত খেলার স্বার্থে মেনে নিয়েছে ওই ফুটবলারদের তিন ক্লাব চট্টগ্রাম আবাহনী লিমিটেড, ঢাকা আবাহনী লিমিটেড এবং শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র লিমিটেড। নিজেদের তাঁবুতে আট ফুটবলার ফেরতে না পেলে টুর্নামেন্ট যেন অনুষ্ঠিত না হয়, এ বিষয়েও আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছিল শেখ জামাল ক্লাব। তাদের এই আবেদন নাকচ করে দেয় আদালত।’ উল্লেখ্য, আট ফুটবলারের বিষয়ে এখন সুপ্রীমকোর্টের আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে আগামী রবিবার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে আট ফুটবলার নিয়ে আইনী প্রক্রিয়ার মারপ্যাঁচে অনিশ্চয়তার মুখে পড়ে বহুল আলোচিত এই টুর্নামেন্টটি। বুধবার কোর্টের আদেশ নিয়ে বাফুফের কাছে তৃতীয় দফা চিঠি দিয়ে নিজেদের দাবিকৃত ফুটবলারদের ফেরত চায় শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের কর্মকর্তারা। ফুটবলার ফেরত পেলে স্বাধীনতা কাপে খেলতে কোন আপত্তি নেই বলে জানান শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান আশরাফউদ্দিন আহমেদ চুন্নু। বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগের হাতে কোর্টের চিঠি তুলে দেয়ার পর চুন্নু বলেন, ‘আমরা গত ২৮ মার্চ আদালতের রায় পেয়েছিলাম। তখনই আমরা ফেডারেশনকে চিঠি দিয়েছিলাম। আমাদের পক্ষে যে আট খেলোয়াড় নিয়ে কোর্ট রায় দিয়েছে তাদের ফেরত চেয়ে আজ পর্যন্ত আমরা পাইনি। তারপর আবার নতুন করে আজকে এসেছি খেলোয়াড় নেয়ার জন্য। সাধারণ সম্পাদককে বলেছি আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী আমাদের আট খেলোয়াড়কে ফেরত দিন।’ বুধবার চেম্বার জজের কাছে শেখ জামালের করা রিট পিটিশনের স্থগিতাদেশ চায় বাফুফে। কিন্তু চেম্বার জজ স্থগিতাদেশ না দিয়ে আবেদনটি শুনানির জন্য আপীল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে পাঠিয়ে দেন। আপীল বিভাগে এই আবেদনের ওপর আগামী রবিবার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে। তাই বাফুফের হাতে এখনও সময় রয়েছে। অতএব আপীল বিভাগের রায়ের পরই নির্ধারিত হবে কোন ক্লাবে যাচ্ছেন ফুটবলাররা। এ প্রসঙ্গে বাফুফে সভাপতি কাজী মোঃ সালাউদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন আছে। আদালতের রায় না দেখে এখনই কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন রয়েছে তাই শেখ জামাল ফুটবলারদের পেয়ে গেছে এমনটা দাবি করার সুযোগ নেই।’ বাফুফের হাতে সময় থাকলেও শেখ জামাল এখনই তাদের ফুটবলারদের ফেরত চায়। যদিও তারা কোন আল্টিমেটাম দেয়নি বাফুফেকে। তবে ১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া স্বাধীনতা কাপে তাদের দাবিকৃত আট ফুটবলারকে খেলাতে চান চুন্নু, ‘আমরা এ বিষয়ে বলতে চাই সেটা হচ্ছে ১ এপ্রিল থেকে যেহেতু স্বাধীনতা কাপ, তাই আমরা সেই খেলায় অংশগ্রহণ করব। কালকের দিন পরেই পরশুদিন ১ তারিখ। অবশ্যই রায়ের প্রতিফলন হিসেবে আমাদের এই ফুটবলারদের আমরা চাচ্ছি। ১ তারিখে তাদের খেলাব।’ যদিও সম্প্রতি জামালের দাবিকৃত ফুটবলারদের বিভিন্ন ক্লাবকে বুঝিয়ে দিয়েছে বাফুফের প্লেয়ার স্ট্যাটাস কমিটি। কিন্তু বুধবার পর্যন্ত প্লেয়ার স্ট্যাটাস কমিটির কাছ থেকে এ বিষয়ে কোন চিঠি পায়নি বলে জানিয়েছেন শেখ জামালের ক্লাব কর্তারা।